হে ঈশ্বর! ১০-বছর-বয়সী দিল্লী ছাত্র তার স্কুলের দ্বিতীয় তল থেকে 'পড়ে' যাওয়ার পরে মারা যায়

অরমান সেহগাল জি ডি গোয়েঙ্কা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইন্দিরাপুরম এর ছাত্র ছিল এবং কথিত পতনের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

গুলশন সেহগাল তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলেকে সাড়ে সাতটার সময় স্কুলে নামিয়ে দেবার কয়েক মিনিট পরেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটা উদ্বিগ্ন টেলিফোন কল পেলেন।  

তাঁরা জানালেন যে তাঁর ছেলে অরমান ৭.৫০ মিনিটে স্কুলের দ্বিতীয় তল থেকে পড়ে গিয়েছে এবং তাকে শান্তি গোপাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশতঃ, জি ডি গোয়েঙ্কা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অরমান সেহগল তার আঘাতের ফলে মারা যায় এবং হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয় যে তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

এই ১০ মিনিটে ঠিক কি ঘটেছিল?

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায় তার বাবা অরমানকে নামিয়ে দেবার পর সে তার সাপ্তাহিক পরীক্ষায় বসার জন্য রুম ৫ডি এর দিকে অগ্রসর হয়।  স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে সে তখনই দ্বিতীয় তল থেকে পিছলে নীচে পড়ে যায়।

সে যাই হোক না কেন, বাবা-মা স্কুলের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করছেন এবং তাঁদের এই ক্ষতির জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন।

অরমানের মা, স্বাতী সেহগাল হিন্দুস্তান টাইমসকে (এইচ টি) বলেন, "স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা দেরীতে জনতে পেরেছি ... এমনকি ক্লাস শিক্ষক, যার উপস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, তাঁকেও বার বার বলার পর অনেক দেরীতে আমাদের সামনে আনা হয়।"

মা-বাবা আরও অভিযোগ করেন যে স্কুল তাদের সাথে সহযোগিতা করেনি এবং ছেলেটির পড়ে যাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে।

"আমি সন্দেহ করি যে স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার ছেলে মারা গিয়েছে"

"তারা বলছে যে সে পড়ে গিয়ে প্রস্রাব করে ফেলে।  কিন্তু আমি নিশ্চিত যে মেঝেতে জল ছিল আর তাই সে পিছলে যায়।  স্কুল এটি গোপন করছে।  বারবার অনুরোধের পর তার ক্লাস টীচার আমাদের সামনে আসেন। তিনি আমাদের বলেন যে অরমান তাঁর সামনেই পড়ে গিয়েছিল।   কিন্তু আমি তাঁকে বিশ্বাস করি না।  আমার ছেলে এত দুর্বল ছিল না।  আমি নিশ্চিত যে সেখানে জল ছিল।  আমি মৃতদেহ দেখেছি, তার কাপড় সম্পূর্ণ ভেজা ছিল।  সে পিছলে গিয়েছিল"  তিনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন।

দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটির পর গুলশন স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে লেখেন : "আমরা স্কুলে গিয়েছিলাম কিন্তু আমাদের প্রধান শিক্ষক বা স্কুল প্রশাসনের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি ... আমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়নি  এবং যেখানে ছেলেটি পড়ে মারা গিয়েছিল, সে স্থানটিও পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছিল।  আমি সন্দেহ করি যে স্কুল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার ছেলে মারা যায় ... আমরা বিচার বিভাগীয় এবং সিবিআই তদন্ত চাই।"

যাইহোক, স্কুল বলছে অন্য কথা!

"মেঝেতে কোনও জল ছিল না, অথচ অভিযোগ করা হচ্ছে"

জি ডি গোয়েঙ্কা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে, ইন্দিরাপুরম এর প্রিন্সিপাল ডাঃ কবিতা শর্মা এইচ টি কে বলেন, সে যখন তার ক্লাস থেকে অন্য রুমে যাচ্ছিল, তখন সে পড়ে গিয়েছিল। আমরা অবিলম্বে তাকে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই কিন্তু তাকে বাঁচানো যায় নি।  ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক এবং আমরা তার মা-বাবা এবং পুলিশের সঙ্গে তদন্তের ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা করবো।  মেঝেতে কোনও জল ছিল না, অথচ এরকম অভিযোগ করা হচ্ছে।

"ছাত্রটির ক্লাস টীচার তার মা-বাবাকে এবং পুলিসকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। ছেলেটি পরীক্ষার রুমে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়া করেও হাঁটছিল না।   সে আনুমানিক প্রায় ১০-১২ মিনিট দেরি করে আসে। সে যে করিডোরে পড়ে গিয়েছিল, সেখানে সিসিটিভি কভারেজ ছিল না।" মিসেস শর্মা আরও বলেন।

যেহেতু পুলিশে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এখনও অপেক্ষিত, একমাত্র সময়ই বলবে যে কিভাবে এই কেসটি পরিচালনা এবং সমাধান করা হবে এবং ছাত্রটির মা-বাবা ন্যায় বিচার পাবেন কিনা।

কিন্তু এই দুর্ঘটনাটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে স্কুলে শিশু সুরক্ষা সম্বন্ধীয় পদ্ধতিগুলি আরও ভালভাবে যাচাই করা দরকার।

স্কুলে শিশুদের সুরক্ষা

একবার আপনার সন্তান স্কুলে ঢুকে গেলে তার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব স্কুলের, মা-বাব হিসেবে আপনার দেখে নেওয়া উচিৎ যে স্কুলে যাবতীয় নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আছে কিনা।  যে কোনও স্কুলে ভর্তি করার আগে নিম্নলিখিত শিশু নিরাপত্তা মূলক বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন।

  • আপনার সন্তানকে জিজ্ঞাসা করুন যে সে তার স্কুলে নিরাপদ বোধ করে কিনা এবং স্কুল পরিসরের কোনখানে সে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করে। এতে করে আপনি স্কুলের নিরাপত্তার পদ্ধতি এবং তাদের নিয়োগ করা রক্ষীদের সম্বন্ধে জানতে পারবেন।
  • অনিয়ম রিপোর্ট করার পদ্ধতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসা করুন। এছাড়াও, উল্লিখিত অনিয়মের ত্রুটি সংশোধন করতে তাদের কত সময় লাগে এবং কিভাবে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাগুলি তারা বাস্তবায়িত করে, সে ব্যাপারে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে।
  • স্কুলের কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করুন যে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কিনা, বিশেষতঃ জরুরী ক্ষেত্রে মেডিক্যাল ব্যাবস্থা কি কি।  এছাড়াও, তারা  ছাত্রদের সে ব্যাবস্থা সম্পর্কে সচেতন করেছে কিনা, সেটাও জেনে নিন।
  • জরুরী অবস্থার জন্য স্কুল প্রশাসন, কর্মচারী ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে কিনা সে সম্বন্ধে খোঁজ নিন।  আপনাকে অবহিত হতে হবে যে কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্য নিয়মিত ড্রিল করা হয় কিনা।
  • অবশেষে, তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন যে বাবা-মা হিসাবে শিশু নিরাপত্তার জন্য আপনি কি করতে পারেন বা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য আপনার সন্তানকে কিভাবে এসব  জানাবেন আর প্রস্তুত করবেন।