হাঁটুর সমস্যাকে বিদায় জানান : আপনার হাঁটুকে কিভাবে বয়স-অভেদ্য করতে পারেন এখানে দেখুন

lead image

যদি আপনার পরিবারে অস্টিওআর্থারাইটিসের (হাঁটুর বা্তের) একটি ইতিহাস থাকে, যদি আপনার ওজন মাত্রাতিরিক্ত হয়, অথবা যদি হাঁটুতে কখনও আঘাত লেগে থাকে, তাহলে আপনার এই ক্ষয়ের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। বয়সের সাথে সাথে অনেকগুলি স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁটুজনিত সমস্যা, অস্পষ্ট দৃষ্টি ইত্যাদি দেখা যায়। কিন্তু কম বয়সে কিছু সতর্কতা অবল্পম্বন করলে এই সমস্যাগুলির প্রত্যেকটি প্রতিরোধ করা যায়, বা অন্ততপক্ষে যতটা সম্ভব বিলম্বিত করা যায়।

যদি আপনি মনে করেন যে আপনার জীবনে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সটা হল সুবর্ণ কাল এবং এই সময়ে আপনি যাই করুন না কেন, কোনও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে না, তাহলে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আপনার কল্পনার এই বুদবুদটি ফাটবেই।

এই পর্যায়ে আপনি আপনার স্বাস্থ্য এবং কাজ বা মানিসিক চাপের মাত্রা যেভাবে পরিচালিত করবেন, সেটাই আপনার ৪০ বছর বয়সের পরবর্তী স্বাস্থ্যের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে। এর মধ্যে একটি খুব সাধারণ সমস্যা সম্মিলিত আছে, বিশেষত মহিলারাই যার সম্মুখীন হন, সেটা হল, হাঁটুর সমস্যা।

অস্টিওআর্থারাইটিস বা হাঁটুর বাত, যার আক্ষরিক অর্থ হল, হাঁটুর হাড়ে ক্ষয়, ব্যথা, চলাফেরা বন্ধ, ফলে বয়স হলে হাঁটু পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বিলম্বিত করা যেতে পারে, বা শুরু থেকে কিছু সতর্কতা নিলে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায়।

src=https://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2017/10/Knee 1.jpg হাঁটুর সমস্যাকে বিদায় জানান : আপনার হাঁটুকে কিভাবে বয়স অভেদ্য করতে পারেন এখানে দেখুন

বিশেষতঃ, সন্তান জন্মের পর মায়েদের জীবনযাত্রা ব্যস্ততাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সন্তানের পেছনে দৌড়ে চলার জন্য তাঁদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে এবং এই ব্যস্ততার কারণে তাঁরা স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলি উপেক্ষাও করে তাঁদের দায়িত্বকে প্রথমে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। কিন্তু, একথা কি ভেবে দেখেছেন যে আপনি সুস্থ থাকলেই কাজ করতে পারবেন এবং আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারবেন?

বার্দ্ধক্যগ্রস্ত হাঁটু

হার্ভার্ড দ্বারা প্রসারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ধাপ চলার সাথে সাথে আপনার হাঁটুকে একটি বিশাল পরিমাণ চাপ সহ্য করতে হয় - সাধারণত যা আপনার শরীরের ওজনের দেড়গুণ। সেই চাপ আর সেই সঙ্গে নিয়মিত ক্ষয়ক্ষতি, সময়ের সঙ্গে একটি খাজনা আদায় করে। পেশী এবং লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ে।

হাঁটুর দুটি শক অ্যাবজর্বার - কার্টিলেজের প্যাডগুলি, যাকে মেনিস্কি বলে - ক্ষইতে শুরু করে। গোড়ালির হাড় যেখানে হাঁটুতে মিলিত হয়, তাকে যে রক্ষা করে সেই আর্টিকুলার কার্টিলেজেরও তাই হয়। যদি আপনার পরিবারের ইতিহাসে অস্টিওআর্থারাইটিসের সমস্যা থাকে, যদি আপনার ওজন মাত্রাতিরিক্ত হয়, অথবা যদি হাঁটুতে কখনও আঘাত লেগে থাকে, তাহলে আপনার এই ক্ষয়ের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।

কার্টিলেজগুলি যখন সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায় তখন হাড়গুলি একে অপরকে ঘষতে থাকে, এবং ফলে আপনার ব্যথা, কাঠিন্য এবং ফুলে যাওয়া শুরু হয়।

src=https://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2017/10/Knee 3.jpg হাঁটুর সমস্যাকে বিদায় জানান : আপনার হাঁটুকে কিভাবে বয়স অভেদ্য করতে পারেন এখানে দেখুন

আপনি কিভাবে আপনার হাঁটুর যত্ন নিতে পারেন, এখানে দেওয়া হল :

১) পেশী শক্তিশালী করা

পেশীর শক্তি বৃদ্ধি হাঁটুর জোড়কে স্থির রাখে এবং হাঁটুর ওপর আপনি যে চাপ স্থাপন করেন তা পেশীকে শোষণ করতে সাহায্য করে। জঙ্ঘার পেশীগুলি আর হ্যামস্ট্রিং থেকে এই শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত কিন্তু এখানেই শেষ করা উচিত নয়।

হার্ভার্ডের ডঃ রিচার্ডসনের কথায়, "পুরোনো দিনে, আমরা পায়ের চারটি পেশীকে শক্তিশালী করেছি। এখন আমরা জানি যে হাঁটুর কর্মক্ষমতা সর্বাধিক করতে হলে নিতম্ব এবং প্রধান পেশীগুলিকে শক্তিশালী করাও গুরুত্বপূর্ণ।"  প্রতিটি মানুষই আলাদা, তাই একজন প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট আপনার শরীরের জন্য সেরা ব্যায়াম সুপারিশ করবে।

২) সঠিক ওজন বজায় রাখা

সমাজ চেষ্টা করে এবং অত্যধিক শারীরিক ওজনকে লজ্জাস্কর দৃষ্টিকোণে দেখে, তবে স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সামান্য সচেতনতা তৈরি হলে অনেকেই রোগব্যধির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। আপনার ওজন মাত্রাতিরিক্ত হলে, প্রতিটি অতিরিক্ত পাউন্ড মানে আপনার জয়েন্টগুলিতে অতিরিক্ত ৪ পাউন্ড চাপ। একটি সুস্থ শরীর-ভর সূচক থাকা আপনার হাঁটুর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আপনার আদর্শ শরীর-ভর সূচক গণনা করুন এবং তদনুযায়ী আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩) চলাফেরার পরিধি বাড়ান

কখনও কখনও চলাফেরায় আড়ষ্টতা অকালবার্ধক্যের কারণ হয়। নজির আছে যে সর্বদা যাদের শরীর বেশী নড়াচড়া করে তাদের মধ্যে এইসব উপসর্গ কম দেখা যায়। যদি আপনি হাঁটুর ব্যায়াম করার কথা ভাবেন তাহলে অবশ্যই বিছানায় করবেন কিংবা একটি গদি রেখে করবেন যাতে যথাযথ অবলম্বন পান।

src=https://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2017/10/Knee 4.jpg হাঁটুর সমস্যাকে বিদায় জানান : আপনার হাঁটুকে কিভাবে বয়স অভেদ্য করতে পারেন এখানে দেখুন

আপনার যদি ইতিমধ্যে অস্টিওআর্থারাইটিস আছে, তাহলে কয়েকটি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকবেন :

১) উবু হয়ে বসা

যে দৈনন্দিন কাজকর্মে অনেকক্ষণ উবু হয়ে বসতে হয় তা করলে আপনার হাঁটুর আরও ক্ষতি হতে পারে। মেঝে বা বাগান পরিষ্কার করার মতো দীর্ঘ সময় উবু হয়ে বসা এড়িয়ে চলুন।

২) লাফানো

আপনি জগিং পছন্দ করেন এবং ইতিমধ্যে আপনার হাঁটুর সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাহলে দুঃখজনক খবর এটাই যে আপনাকে এটি বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের উচ্চ প্রতিঘাতের কাজে মামলা আরো খারাপ হবে। এর পরিবর্তে সাইকেল চালানো বা ইলিপ্টিক্যাল ট্রেনার মেশিন চয়ন করুন।

৩) এ্যারোবিক্স

এ্যারোবিক্সেও আপনার হাঁটুতে থেকে অনেক চাপ পড়ে। এর পরিবর্তে হালকা নাচ করুন বা কয়েক ধাপ সিঁড়ি চড়ুন (সিঁড়িতে নামা নয়), এতে হাঁটুর ওপর কম প্রভাব পড়বে অথচ আপনার ব্যায়াম করাও হবে।