হাঁচলে বা কাশলে কি আপনার প্রস্রাব বেরিয়ে আসে? আপনি হয়তো এতে ভুগছেন

lead image

অবশ্য এটা সুখবর যে সাধারণ ওষুধ দিয়ে এর চিকিৎসা করা সম্ভব!

যদি আপনি প্রতিবার হাঁচলে বা কাশলে পেচ্ছাপ চুঁয়িয়ে পড়ে আর খুব জোরে হাসলে যদি কাপড়ে হিসি হয়ে যায়, তাহলে সম্ভবত আপনি অসুখে ভুগছেন এটি এমন একটি রোগ যা ভারতীয় নারীদের মধ্যে খুবই সাধারণ কিন্তু লজ্জাবশতঃ অনেকেই প্রকাশ্যে বলতে চায় না।

"অনিয়ন্ত্রিত মূত্রাশয় রোগটির প্রকোপ ভারতে অত্যন্ত ব্যাপক এবং অনেক নারী এতে ভোগে, কিন্তু এটা বলতে তারা লজ্জা বোধ করে। তবে, আপনি যদি আমাকে স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করেন যে হাঁচি কাশি হলে তখন কি প্রস্রাব চুঁয়িয়ে পড়ে, তাহলে অনেকেই "হ্যাঁ" বলবে। যদি আমাকে খোলাখুলি বলতেই হয় তাহলে আমি বলব, প্রসবের পর অন্তত 50 শতাংশ মহিলারা মূত্রত্যাগের অসুখে ভোগেন"। বললেন পুস্পাবতী সিংহানিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিএসআরআই), নতুন দিল্লির প্রবীণ পরামর্শদাতা ও গাইনোকোলজিস্ট এন্ডোস্কোপিক সার্জন।

অনিয়ন্ত্রিত মুত্রাশয় কি?

সোজা কথায় - মূত্রথলির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো - যা খুবই কমন এবং প্রায়ই একটি বিব্রতকারী সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। হাঁচলে-কাশলে কখনো-সখনো একটু আধটু মুত্র বেরিয়ে আসা থেকে - হঠাৎ এমন পেচ্ছাপ পেল যে টয়লেট পৌঁছাতে পৌঁছাতে কাপড়ে-চোপোড়ে হয়ে গেল পর্যন্ত রোগটির তীব্রতার বিস্তার! শেষোক্ত টি সাধারণত দীর্ঘ ব্যাবধানে হয় কিন্তু অল্প চোঁয়ানো ঘন ঘন হয়।

শিশু প্রসবের পর পেরিনিয়াম শিথিল হওয়ার কারণে অধিকাংশ মহিলার এ রোগ হয় - বলেন ডাঃ মনচন্দা।
vagina

"শিশুজন্মের সময় নিম্নাঙ্গের পেশীগুলি শিথিল হয়ে যায়, ফলে জরায়ু একটু নিচে নেমে আসে এবং শুধু এটুকুর জন্যও অনিয়ন্ত্রিত মূত্রত্যাগের অসুখ হতে পারে। কখনও কখনও এমনকি মূত্রপথে সংক্রমণের ফলে অনিয়ন্ত্রিত মুত্রত্যাগ হতে পারে। যাই হোক, অসুখটি নিশ্চিতভাবেই নিরময় যোগ্য" ডঃ মনচন্দা আরও বলেন। মেয়ো ক্লিনিক নিম্নপ্রকার অনিয়ন্ত্রিত মূত্রাশয়ের রোগ চিহ্নিত করেছে -

  • চাপ ঘটিত অনিয়ন্ত্রন। হেঁচে, কেশে, অট্টহাসি, ব্যায়াম বা ভারী কিছু উত্তোলন করে যখন আপনার মুত্রাশয়ে চাপ দেন, প্রস্রাব চুঁইয়ে বের হয়।
  • তাড়না ঘটিত অনিয়ন্ত্রন। আপনার হঠাৎ প্রস্রাবের একটি প্রচন্ড বেগ আসে আর তারপরই অনিচ্ছাকৃত মুত্রঃ নিঃসরণণ হয়ে যায়। আপনার ঘন ঘন পেচ্ছাপ যাবার প্রয়োজন হতে পারে এমনকি রাত্রেও। এটি সংক্রমণের কারণেও হতে পারে।
  • পরিপূর্ণ মূত্রথলি ঘটিত অনিয়ন্ত্রন। আপনি দেখবেন যে সর্বদা বা ঘন ঘন ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব বেরিয়ে আসছে বা বয়ে চলেছে কারণ আপনার মুত্রথলিটি কখনই পুরপুরি খালি হয় না।
  • ক্রিয়ামূলক অনিয়ন্ত্রন। একটি শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা আপনাকে সময়ে টয়লেটে যাওয়া থেকে বিরত রাখে।
  • মিশ্র অনিয়ন্ত্রন। যখন আপনি একাধিক রকমের মুত্র অনিয়ন্ত্রন সমস্যায় একই সঙ্গে পীড়িত হন।

কারণ সনাক্তকরণ

"আপনার অনিয়ন্ত্রন আছে - এটি সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে, প্রকাশ না করা এবং তার কারণ খুঁজে বের করতে অনীহা। এর জন্য আপনাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে, যিনি রোগনির্ণয় করে খুঁজে বের করে সময়মত চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। মামুলি কিছু ওষুধ দ্বারা এর নিরাময় সম্ভব" ডঃ মানচান্দা বলেছেন।

প্রস্রাবের চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে হলে পরবর্তী পৃষ্ঠাতে পড়া চালিয়ে যান।

আপনার মুত্রাশয়ের অনিয়ন্ত্র্নের পিছনে কি কি কারণ তা নির্ধারণ করার জন্য আপনার ডাক্তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন দ্বারা আপনাকে নিম্নলিখিত কারণগুলি সনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারেন।

 

vaginal stitches after birth

  • মূত্রাশয় সংক্রমণ: এতে আপনার মূত্রাশয়ের জ্বালার দরুণ আপনার প্রচন্ড প্রস্রাব পেতে পারে বা অনিয়ন্ত্রিত প্রস্রাব বেরিয়ে আসতে পারে।
  • শিশুজন্ম: সাধারণ প্রসব মুত্রথলি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পেশীগুলিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং স্নায়ু ও সহায়ক টিস্যুগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে শ্রোণীদেশের পেশী স্থানচ্যুত হয় এবং এই স্থানচ্যুতির কারণে মূত্রাশয়, জরায়ু, মলদ্বার অথবা ক্ষুদ্র অন্ত্রটি স্বাভাবিক অবস্থার নিচে নেমে আসতে পারে এবং যোনির কাছাকছি প্রলম্বিত হতে পারে। মেয়ো ক্লিনিকের মতে, এই ধরনের প্রসারিত অবস্থায় মুত্র অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
  • বয়স: আপনার বয়স্ যত বাড়ে, আপনার মূত্রাশয় এবং মূত্রনালীর পেশীগুলী তত তাদের শক্তি হারায়।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

মহিলাদের মধ্যে মূত্র অনিয়ন্ত্রনের প্রকোপ সম্পর্কে এক সাম্প্রতিক সমীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী যেখানে মূত্রাশয় নিয়ন্ত্রণের অভাবের শিকার এক তৃতীয়াংশ রোগী এ ব্যাপারে মাথা ঘামায় না, খুব কম মহিলা ডাক্তার দেখায় এবং আরও কম সংখ্যক নারী কোন বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেন। 30-50 বছরের বয়সের ২,000 নারীর ওপর সমীক্ষায় জানা গেছে প্রায় 40 শতাংশ মহিলার মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যেখানে 46% মানুষ তারা কাশলে হাঁচলে বা জোরে হাসলে প্রস্রাব বেরোয় কিনা প্রশ্নের ইতিবাচক জায়গাতে টিক করে বোঝান যে তাঁরা সর্বাধিক প্রকোপিত চাপ ঘটিত অনিয়িন্ত্রনে ভুগছেন তখন অন্য 37% তাড়না ঘটিত অনিয়ন্ত্রনে (টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া) ভুগছেন।

উল্লেখযোগ্য, যেখানে 31 শতাংশ মনে করেন যে তাদের অবস্থা সত্যিই চিন্তনীয়, সেখানে মাত্র 13 শতাংশ ডাক্তারের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপারে বিমুখ নন। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে দ্বিধাবোধ করার প্রধান কারণ লজ্জা (22 শতাংশ), অসুখটি ক্ষণস্থায়ী - এই ধারণা পোষণ করেন (31 শতাংশ) কোন বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত এ ব্যাপারে অনিশ্চিত (34 শতাংশ)।

রোগের চিকিৎসা

ভাল খবর হল, আজকের সময়ে এবং যুগে এ রোগ সহজেই সহজ চিকিৎসা ব্যবস্থা দ্বারা এবং জীবনশৈলী সংশোধন কয়রে সারানো যেতে পারে। মৃদু আক্রমণে ডাক্তাররা শুধু ওষুধপত্রগুলি লিখেন যা মূত্রাশয়ের অতক্রিয়াশীলতা হ্রাস করে।

"কীগল এর মতো সহজ ব্যায়াম শুধু যে রোগটি প্রতিরোধ করে তা নয় - এছাড়াও নিম্নাঙ্গের পেধীগুলি শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং কিছুক্ষেত্রে এটি চিকিৎসা করতে সহায়তা করে" ডঃ মনচন্দা বলেন।

গুরুতর ক্ষেত্রে মুত্র অনিয়ন্ত্রন জরায়ুর স্থানচ্যুতির জন্য হতে পারে যাতে মূত্রনালী সংলগ্ন পেশীগুলি দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় যা একটি সহজ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিরাময় করা যায়। .

ডঃ মনচন্দা বলেন, "এমনকি যদি আপনার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হয়, তা মোটেই ক্ষতিকারক নয় বরং দ্রুততর রোগ নিরাময় হয়।" ডঃ মনচন্দা বলেন, অস্ত্রোপচারের খরচ 50,000 থেকে 1,50,000 এর মধ্যে হতে পারে।

Source: theindusparent