সেলফি তোলার অনুরোধ নিয়ে মানুষেরা আসে আর আরাধ্যা তাদের ফটো বিগড়ে দেয় : ঐশ্বর্য্য রাই বচ্চন

lead image

যখন আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী এবং ২৪ x ৭ মিডিয়ার র‍্যাডারে থাকেন, তখন আপনার বাচ্চাদের সমস্ত মনোযোগ থেকে আড়াল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।

অথচ ঐশ্বর্য্য রাই বচ্চন এমন এক মা যিনি এটা করতে চান না।  হ্যা, এটাই ঠিক!

"আমি বলতে পারি না সে উদাসীন বা জানে না,  সে ভালভাবেই জানে যে আমরা কি করি।  সে তো শহরময় আমাদের পোষ্টার দেখছে।  আমরা যে কে, সে ব্যাপারে সে পূর্ণমাত্রায় সচেতন। কারণ সে আমার সাথে ঘুরছে, নতুন নতুন লোক দেখছে, আমাদের জগত দেখছে, আমাকে তার কাছে বসে বোঝাতে হয় না যে তার মা কি করে।  সে এটা দেখছে, দেখতে দেখতেই বড় হয়েছে।  তোমরা দেখতেই পাচ্ছো যে এখন সে (মিডিয়ার সঙ্গে) বেশ স্বচ্ছন্দ",  একটি অন্যতম ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সাথে কথা বলার সময়  তিনি বলেন।

যাইহোক, যদিও তাঁরা বাইরে যা ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, কিন্তু অবশ্যই তাঁরা আরাধ্যাকে বাড়িতে স্বাভাবিক শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন।  

"তার লালন-পালন, শিক্ষাদীক্ষা এখনও পর্যন্ত খুবই স্বাভাবিক ভাবে চলছে।  এমন নয় যে তাকে বসিয়ে আমরা শুধু আমাদের সিনেমাগুলো দেখাই", প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড বলেন।

৭০ তম কান্ চলচ্চিত্র উৎসবে ছোট্ট আরাধ্যা তার সুপারস্টার মায়ের সঙ্গী হয়েছিল এবং তার ছবিগুলি থেকে বেশ স্পষ্ট বোঝা যায় যে সে এখন মিডিয়ার সাথে খুবই সাবলীল। এবং কেনই বা হবে না? এটা তার জিন এর মধ্যে আছে।

"কিছু ছবিতে দেখলাম যে সে হাত নাড়াচ্ছে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম যে সে কি করছে, জবাবে  সে বলল যে সে নাকি আমি তাদের বলছে, 'না না কোন ফটো নয়, বাস ঠিক হ্যায়'।    কি সুন্দর ভঙ্গী!   আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে সে ছবির জন্য পোজও দিয়েছে যখন আমি ব্যাস্ত ছিলাম। এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত স্বাভাবিকতা অনবদ্য সুন্দর এবং এতে আমরা তাকে উৎসাহিত করেছি।" ঐশ্বর্য্য আরও বলেন।

সে কিন্তু জানে যে ফটোগ্রাফাররা তার সুন্দর মায়ের ফটো তুলতে এসেছে - তার নয়।  অতএব সে ধীরে ধীরে সরে যায়।

"সে আমাদের বাড়িতে, বাড়ির বাইরে, বিমানবন্দরে, সর্বত্র ফটোগ্রাফার দেখে। মানুষেরা সেলফির অনুরোধ নিয়ে আসে, মাঝে মাঝে সে তাদের ফটো বিগড়ে দেয়, কখনও সে বলে, 'মা, আমার নয়, না?'  যখন দেখে যে কেউ ছবি তুলছে, তখন সে সরে দাঁড়ায়" বলেছেন ঐশ্বর্য্য।

আপনার বাচ্চারা প্রশ্রয় পাচ্ছে কি না তা জানার জন্য তিনটি উপায়

যদিও আমরা জানি যে আমাদের তুলনা ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের সাথে হতে পারে না, তবু এটা সত্যি যে এই ডিজিটাল যুগে আমরা বাবা-মায়েরা আমাদের সন্তানের চাহিদাগুলি খুব সহজেই মিটিয়ে দিই, যদিও অনেক সময়ই আমরা জানি যে আমরা ভুল করছি।  

সুতরাং আমরা কিভাবে নিশ্চিত হব যে আমরা আমাদের বাচ্চাদের বেশী প্রশ্রয় দিচ্ছি কি না?   এই টিপসগুলি চেষ্টা করতে পারেন :

১।  দেবেন না:

প্রথম এবং প্রধানতম হচ্ছে যে আপনার সন্তানের প্রতিটি চাহিদা মেটাবেন না। যুক্তিযুক্ত ভাবে ভাবুন এবং তাদের বোঝান যে এটা সত্যিই প্রয়োজনীয় কি না। তারা কাঁদবে, প্রচন্ড রাগ দেখাবে, বিরাট বিচলিত হয়ে পড়বে, কিন্তু ভুলে যাবেন না যে এখানে মালিক কে।

২। একটি উদাহরণ স্থাপন করুন:  

যদি আপনি চান না যে আপনার সন্তান সর্বদা আজেবাজে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাক, তবে আপনাকেই প্রথমে এটি করতে হবে।  আমরা যা করি আমাদের বাচ্চারা তাই করে কারণ তারা কেবল অন্ধভাবে আমাদের অনুকরণ করে। তাই আপনার সন্তানের সামনে কিছু করার আগে দুবার ভাবুন।

৩।  টিভি নয় :  

আজকের দিনে আমরা এত ব্যস্ত থাকি এবং যেহেতু আমাদের বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হল টিভির সামনে বসিয়ে দেওয়া, তারা যতক্ষণ চায় আমরা তাদের টিভি দেখতে দিই।   এটি আমাদের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান যা কাজ করে!   কিন্তু আমি বলতে চাই যে এটা ভালর চেয়ে মন্দ বেশি করে।   শুধু যে এটি তাদের উগ্র করে তোলে তা নয়, তারা কার্টুনগুলিতে যা  দেখে তা অনুকরণ করার চেষ্টাও করে।  

বিজ্ঞান বলছে যে টেলিভিশন দেখার ফলে আপনার সন্তানের আচরণ আগ্রাসী হতে পারে, বই পড়ার এবং স্কুলের কার্যকলাপে আগ্রহ কমতে পারে এবং স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় অভ্যাস এবং মনোভাব একেবারে বিগড়ে যেতে পারে।

মনস্তাত্বিক গবেষণার দ্বারা দেখা গেছে যে টেলিভিশনে হিংসা দেখার ফলে তিনটি প্রধান সমস্যা হতে পারে।

  • অন্যদের ব্যাথা বেদনার প্রতি শিশুরা কম সংবেদনশীল হতে পারে।
  • শিশুরা তাদের চারপাশের বিশ্বকে আরো বেশী ভয় পেতে পারে।
  • শিশুরা অন্যদের প্রতি আক্রমনাত্মক বা ক্ষতিকারক আচরণ করতে পারে।

Source: theindusparent