সুপ্রিম কোর্ট : পুত্রবধুদের পরিবারের একজন হিসেবে গণ্য করা উচিত, গৃহ পরিচারিকা নয়

সুপ্রিম কোর্ট : পুত্রবধুদের পরিবারের একজন হিসেবে গণ্য করা উচিত, গৃহ পরিচারিকা নয়

দেশ জুড়ে বধু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে ওঠায় সুপ্রীম কোর্ট তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

একটি সুস্পষ্ট বিবৃতিতে যা বেশ ভালো খবর হিসেবে এসেছে, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে, পুত্রবধুদের পারিবারিক সদস্য হিসেবে গণ্য করা উচিত, বাড়ির পরিচারিকা হিসাবে নয়, এবং কোনও গৃহবধূকে "যে কোনও সময়ে তাঁর শ্বশুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলা যায় না"। দেশে ক্রমবর্ধমান বধু পোড়ান ও নির্যাতনের ঘটনাগুলির জন্য সুপ্রীম কোর্ট তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, একটি বধুকে তার শ্বশুর বাড়িতে সম্মান করা উচিত কারণ এটি "একটি সভ্য সমাজের সংবেদনশীলতা" প্রতিফলিত করে।

আদালত যা বলেছে

"একজন গৃহবধূকে স্নেহ ও ভালোবাসায় পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে গণ্য করা উচিত - একজন অপরিচিত ও অপাংক্তেয় আগন্তুক হিসাবে নয়। তাকে গৃহকর্মী হিসাবেও দেখা উচিত নয়। এমন কোনও আচরণ করা উচিত নয় যাতে মনে হয় যে তাকে যে কোনও সময় শ্বশুর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।" বিচারপতি কে এস রাধাকৃষ্ণণ এবং দীপক মিশ্রর একটি বেঞ্চ বলেন।

"শ্বশুর বাড়িতে একটি নববধূর সম্মান বিবাহের মর্যাদা ও পবিত্রতাকে গৌরবান্বিত করে, একটি সভ্য সমাজের সংবেদনশীলতা প্রতিফলিত করে এবং অবশেষে তার স্বপ্নের আকাঙ্ক্ষাগুলি বিয়ের আনন্দে সাকার হয়।"

"কিন্তু অনেক বাড়িতেই স্বামী, শাশুড়ী ও আত্মীয়স্বজন মাঝে মাঝে কনের সঙ্গে যে আচরণ করে থাকে তা সমাজে এক আবেগহীন মানসিক অসাড়তা সৃষ্টি করে।" বেঞ্চ কে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে।

তারা আরও বলেছে ...

স্ত্রীকে নির্যাতন করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির সাত বছরের কারাদণ্ডকে বজায় রেখে রায় দেবার সময় সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় এ মন্তব্য করে। দুর্ভাগ্যবশত সে মহিলা আত্মহত্যা করেন।

বেঞ্চ আরও বলে যে, ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগের ব্যাপার যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বধুদের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংবেদী ব্যাবহার করা হয়, যার ফলে তাদের জীবন ধারণের ইচ্ছা ধ্বংস করা হচ্ছে।

বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, - "এটা একটা গভীর উদ্বেগ এবং লজ্জার বিষয় যে যৌতুকের দাবিতে, অপূরণীয় লোভের চাহিদাতে এবং কখনও কখনও শুধু নিষ্ঠুরতার কারণে বধুদের পুড়িয়ে মারা হয় বা অন্য কোনভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন দ্বারা তাদের সদ্য বিকশিত জীবনদীপ নির্বাপিত হয়, সম্পূর্ণ অসংবেদী আচরণ দ্বারা তাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাই ধ্বংস করে দিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করাটা হচ্ছে জীবনের এক পাশবিক আত্ম-নিপীড়ণ।"

পর্যবেক্ষণের প্রতিক্রিয়া

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ দেশেব্যাপি নারীদের প্রতিক্রিয়া আকৃষ্ট করেছেন। অনেক গৃহবধূ জানিয়েছে্ন যে তারা এই পর্যবেক্ষণে খুশি কারণ দেরি হলেও, তাদের সমর্থনে এই রায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে এসেছে।

Source: theindusparent

Any views or opinions expressed in this article are personal and belong solely to the author; and do not represent those of theAsianparent or its clients.