সাপ্তাহিক গর্ভাবস্থা নির্দেশিকা : প্রথম থেকে তৃতীয় সপ্তাহে আপনি ও আপনার শিশু

lead image

আপনি কিন্তু তৃতীয় সপ্তাহেও আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভবতী নন এবং আপনার ছোট্টটির সাইজ তখনও একটি আলপিনের মাথার চেয়ে বড় নয়। আরও আকর্ষণীয় তথ্যের জন্য আমাদের সপ্তাহানুক্রমিক গর্ভাবস্থা নির্দেশিকাটি পড়ে দেখুন।

আপনার বাচ্চাটির আকার কত বড়?

প্রথম ১-২ সপ্তাহে আপনার শিশুটি শুধু চোখের পলকের মতো ক্ষুদ্র, কারণ আপনি আসলে এখনও গর্ভবতী নন।  অবশেষে তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ আপনার ভ্রূণ দেখা দেয়, কিন্তু সেটি অতি ক্ষুদ্র - একটি আলপিনের মাথার মতো!

week by week pregnancy guide

আপনার শিশুর বিকাশ

  • প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহে আপনি গর্ভবতী নন কিন্তু আপনার শরীর গর্ভধারণের প্রস্তুতি শুরু করছে এবং আপনার জরায়ু নিষিক্ত ডিম্বানুর আগমনের জন্য তৈরী হচ্ছে।  
  • তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ ব্যাপারগুলো ঘটতে শুরু করে!  নিষিক্ত ডিম্বানুটি ফ্যালোপিয়ান টিউব দিয়ে আপনার জরায়ুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
  • ডিম্বানুটি জরায়ুতে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই শতাধিক কোষের এক পিন্ডে পরিণত হয়, যাকে এখন ভ্রুণ বলা যেতে পারে।
  • জরায়ুতে পৌঁছাবার পরেই আপনার ছোট্ট ভ্রুণটি জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মধ্যে আশ্রয় নেয় যে প্রক্রিয়াটিকে বলা হয়, অবরোপন।

week by week pregnancy guide

গর্ভাবস্থার লক্ষণ

  • প্রথম ১-২ সপ্তাহ আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভবতী নন এবং আপনার শেষবারের মাসিক শুরু হয়েছে।  এই সপ্তাহ দুটিতে আপনি জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের সঙ্গে বিগত মাসের অনিষিক্ত ডিম্বানু স্খলন করছেন এবং গর্ভধারণের প্রথম ধাপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
  • মাসিক স্রাব বন্ধ হবার পর আপনি জরায়ুর শ্লেষ্মার ধরণ ও রঙে পরিবর্তন দেখতে পারেন - যেমন যেমন গর্ভধারণের সঠিক সময় এগিয়ে আসে এটি ঘন, আঠালো, ক্রিমের মতো না হয়ে পাতলা, প্যানপেনে ও বেশী পরিমাণে হতে থাকে।
  • তৃতীয় সপ্তাহের শেষে, যখন আপনার ভ্রুণ জরায়ুর আস্তরণের মধ্যে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, তখন আপনি ছোট ছোট রক্তের ছিটে দেখতে পেতে পারেন, যাকে বলে, "অবরোপন রক্তপাত,"
  • মাসিক স্রাবের আগের চাইতে আপনার স্তনগুলি নরম, স্ফীত ও ঈষৎ বড় বলে মনে হতে পারে।
  • স্বাভাবিকের থেকে বেশী ক্লান্ত বোধ করতে পারেন।
  • আপনার ঘ্রাণশক্তি বেড়ে যেতে পারে - আপনার প্রিয় সুগন্ধীর গন্ধ যদি হঠাৎ আর ভাল না লাগে, অবাক হবেন না!
  • যদি আপনার দেহের স্বাভাবিক সময়ের তাপমাত্রার চার্ট রেখে থাকেন (পূর্ণ বিশ্রামের সময়কার দেহ তাপ) তাহলে হয়তো তার থেকে বেশী দেহতাপ দেখবেন।
  • বাড়ীতে গর্ভ নির্ধারণের অতি সংবেদী কোনও পরীক্ষা করলে তাতে ইতিবাচক ফল দেখতে পেতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় যত্ন

  • যদি ইতিমধ্যে কোনও গর্ভকালীন ভিটামিন খাওয়া শুরু না করেছেন তাহলে এবার তা শুরু করার প্রকৃষ্ট সময়।
  • ধুম্রপান ও মদ্যপান ছেড়ে দিন আর স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং দিনে ছয় থেকে আট গ্লাস জল খান।
  • আপনার গর্ভে জন্ম নিতে চলা শিশুটির মগজ ও মেরুদন্ডের সম্যক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড নেওয়া শুরু করুন।
  • আপনি কফি খাওয়ার পরিমাণ কম করে দিতে পারেন, কারণ নারীদের উর্বরতার ওপর ক্যাফিনের নেতিবাচক প্রভাব আছে।   

আপনার সাবধানতা তালিকা

  • যথেষ্ট আগে থেকে খেয়াল রাখবেন যে আপনার চিকেনপক্স ও রুবেলার ভ্যাক্সিনেশন গুলি বর্তমান সময় পর্যন্ত নেওয়া আছে কিনা।  যদি না থাকে, আপনার ডাক্তার গর্ভধারণের আগে এগুলি নিতে বলবেন।
  • আপনি যদি গর্ভপূর্ব ডাক্তারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করেন নি তাহলে এবার করে ফেলুন। আপনি সেই সমস্ত জিন ঘটিত, জীবনশৈলীগত এবং পরিবেশগত বিপত্তিগুলির বিষয়ে জানতে পারবেন যা আপনার উর্বরতা এবং ভাবী শিশুটির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • এই সাক্ষাতকারে আপনি ব্যায়াম, খাদ্যসূচী এবং গর্ভকালীন ভিটামিনের মতো বিষয়গুলি সম্বন্ধে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারবেন।
  • যদি আপনি ভেষজ, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, বা নিজে কিনে কোনও ওষুধ খাচ্ছেন, তাহলে আপনার ডাক্তারকে দেখিয়ে নিন যে এগুলি গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় অথবা গর্ভাবস্থার শুরুতে নিরাপদ কিনা।

Source: theindusparent