সপ্তাহে সপ্তাহে গর্ভাবস্থা নির্দেশিকা : চতুর্থ সপ্তাহে আপনি এবং আপনার শিশু

lead image

আপনার বাচ্চাটি কত বড়?

এই সপ্তাহকে আপনার বাচ্চার ভ্রূণের আদিকাল বলে মনে করা হয় যদিও আপনার শিশুটি এখন শুধু অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেই দেখা সম্বব।

week by week pregnancy guide

আপনার শিশুর বিকাশ

অ্যামনিয়োটিক থলি এই সময় দেখা দেয়।  এটিই জন্মের সময় পর্যন্ত আপনার বাচ্চার আবাসস্থল।  কুসুমের থলিটিও এই সময় হাজির হয় যা আপনার শিশুর শরীরে লাল রক্ত কোষ উৎপন্ন করবে।  এই কুসুমের থলিটি তাকে সবরকম পুষ্টিও জোগাবে যতদিন না গরভের ফুলটি পূর্ণ বিকশিত হয়ে এ দায়িত্ব গ্রহণ করছে।

তার জন্য প্রধান প্রধান ক্রিয়াকলাপগুলিও এই সময়ই শুরু হয়।  এখন থেকে পরবর্তী ছ সপ্তাহ পর্যন্ত ওর সব অঙ্গগুলি বিকশিত হবে (এমনকি কিছুগুলি কাজ করতেও শুরু করবে!)।

গর্ভাবস্থার লক্ষণ

  • গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন কিনা সে সন্দেহ নিরসনের জন্য হয়তো আপনি প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে চাইবেন কিন্তু সব মহিলার এত তাড়াতাড়ি এই পরীক্ষায় ফল পাওয়া যায় না।  মনে রখবেন, নির্ভুল ফল পেতে হলে আপনাকে মাসিক স্রাবের প্রত্যাশিত সময়ের পর অন্তত এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
  • আপনি এখনও হয়তো সেরকম আলাদা কিছু টের পাচ্ছেন না, তবে নিকট ভবিষ্যতে সকালের দিকে অস্বস্তির  জন্য নিজেকে তৈরী রাখুন।
  • গর্ভধারণ জনিত হরমোন প্রজেস্টোরেনেেড়ে মাত্রা বেড়ে যাবার কারণে ফোলা ফোলা ভাব হতে পারে।
  • মৃদু শিরটান এবং সামান্য রক্তপাত হতে পারে কারণ শিশুটির ভ্রুণ ফ্যালোপিয়ান টিউব বেয়ে ওপরে উঠে  আপনার জরায়ুর দেওয়ালে নিজেকে রোপন করে।   
  • হরমোনের ওঠানামার জন্য আপনার মেজাজ বিক্ষিপ্ত হতে পারে।

গর্ভাবস্থার যত্ন

  • যখনই আপনি আপনার গর্ভধারণ সম্বন্ধে সুনিশ্চিত হয়ে যাবেন, আপনাকে ধূমপান বন্ধ করতে হবে এবং অ্যালকোহল ও ক্যাফিনের পরিমাণ একেবারে সীমিত করতে হবে।
  • ই-কোলি এবং সামোনেলার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্যাস্টোরাইজ না করা নরম পনীর, যেমন ক্যামেমবারট এবং ব্রি বর্জন করুন, পাশাপাশি অল্পসেদ্ধ মাংস এবং হালকা সেদ্ধ ডিম এড়িয়ে চলুন।
  • পারদের মাত্রা বেশী আছে, এমন মাছ যেমন শার্ক, সোর্ডফিশ  এবং কিং ম্যাকেরল এড়িয়ে চলুন।

আপনার চেকলিস্ট

  • যদি বাড়িতে পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হয়, তাহলে প্রথম জন্মপূর্ব চেকআপের জন্য আপনার গাইনকোলজিস্টের কাছে যেতে হবে।
  • ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হোক বা নিজেই দোকান থেকে কিনে হোক, যে ওষুধগুলি আপনি খান তার একটি তালিকা তৈরী করে নিয়ে যাবেন এবং ডাক্তারকে দেখিয়ে তাঁর মতামত নেবেন যে ওগুলো চালিয়ে যাওয়া নিরাপদ কিনা।
  • আপনাকে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে আরও মনোযোগী হতে হবে এবং জন্মপূর্ব ভিটামিন নেওয়া শুরু করতে হবে।

 

Source: theindusparent