সদ্য বিবাহিত বিপাশা বসু কি মা হওয়ার কথা ভাবছেন?

lead image

যেই এক জুটির বিয়ে হয়, তাদের সমানে একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। “সুখবর কখন দিচ্ছ?” এই জিজ্ঞেস করা হয়। শুধু আমি আপনিই এই প্রশ্নের সম্মুখীন হই টা নয়, তারকারাও বাদ যায় না।

বরং তাদের জন্য ব্যাপারটা বেশী কষ্টকর, কারন তাদের জীবন খুবই প্রকাশ্য। এবং ইদানিং কালে এই প্রশ্ন প্রায় সুনতে হচ্ছে সদ্য বিবাহিত বিপাশা বসু এবং করণ সিং গ্রোভার কে।

এই দম্পতি সন্তান সম্ভবা এই গুজব কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। খবরে বলছে যে এদের কে প্রায় কয়েকবার গাইনোকোলজিস্ত এর কাছে যেতে দেখা গেছে।

বিপাশা বলেন

কিন্তু এই সব গুজব এবার শান্ত কারণ বিপাশা এবার মুখ খুলেছেন! মিডিয়ার সাথে কথোপকথনে তিনি এই গুজব কে উড়িয়ে তাদের স্পষ্ট কথা শুনিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আমি চাই লোকে এই ধরনের গুরত্বপূর্ণ জীবন সিদ্ধান্ত গুলি আমাদের ওপর ছেড়ে দিক, একেবারে ভুল গুজব”।

তার এই স্পষ্ট কথা এখনকার জন্য নিশ্চয় এই গুজব কে ঠাণ্ডা করে দেবে, কিন্তু এই প্রথম নয় যে এই জুটি কে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

বিপাশা কে প্রথম জিজ্ঞাসা করেন রাজ কুন্দ্রা

তাদের বয়ের কিছু মাস পরেই, এই প্রশ্নটি প্রথম তলেন তাদের বন্ধু রাজ কুন্দ্রা।

শিল্পা শেঠি কুন্দ্রা’র ছেলে ভিয়ান রাজ এর চতুর্থ জন্মদিনে বিপাশা টুইটে তাকে শুভেচ্ছা জানান, তার জবাবে পিতা রাজ কুন্দ্রা জিজ্ঞাসা করেন, “ধন্যবাদ, ভিয়ান জানতে চাইছে যে তাকে খেলার সাথি তোমরা কখন দিচ্ছ?”

বিপাশা লেখেন, “এখন সময় আছে। ততদিন আমরাই ভিয়ানের বন্ধু”।

এই ৩৭ বয়সী আভিনেত্রি এটা স্পষ্ট জানান যে তিনি এখনই মা হতে রাজি নন। কিন্তু তিনি যখন এই সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে অনেক যত্ন নিতে হবে কারণ তিনি প্রায় ৪০ বছ্রের হতে চলেছেন।

আরও পড়ুন জানার জন্য কি ৩৭ বছর বয়সী বিপাশা কে কি ধরনের যত্ন নেওয়া উচিত যখন তিনি মা হবেন!

৩৫ এর পর মা হওয়া

যদি বিপাশা এবং করণ সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাদের এক্তু বেশী যত্ন নিতে হবে। এটা বলা বাহুল্য, যে ৩০ এর পর গর্ভাবস্থা কঠিন নয়, যদি আপনি সুস্থ্য, কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপার মাথায় রাখা জরুরি। এটা মায়ের জন্য খুবই আনন্দের সময় হয়ে উঠতে পারে।

আমারা ডাক্তার নুপুর গুপ্তার সাথে কথা বলি। তিনি গুরগাওন এর ওয়েল উমেন ক্লিনিকের প্রধান নারী বিশেষজ্ঞ এবং ডিরেক্তার। তিনি জানান ৩৫ এর পর মা হওয়াতে কি ধরনের সতর্কতা মেনে চলা উচিত।

“ মা হওয়াতে বয়স এক গুরত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু সে মহিলা যদি স্বাস্থ্য সচেতন, স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলেন এবং এক্সেরসাইস করেন, তবে ৩৫ এর পরেও কোনও আসুবিধে হওয়া উচিত নয়,” জাজান ডাক্তার গুপ্তা। তিনি জানান বেশী বয়সী মহিলাদের ৮ রকমের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত।

বেশী বয়সের গর্ভধারণের ঝুঁকি

তিনি এই গুলি জানান

  • উর্বরতা সংক্রান্ত ঝামেলা
  • উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি
  • ডায়াবিটিস
  • গর্ভপাত
  • প্লাসেন্তা প্রিভিয়া
  • অকাল জন্ম
  • মৃৎ শিশুর জন্ম
  • শিশুর জেনেটিক অসুখ বা অন্য জন্ম ত্রুটি

জন্মপূর্ব টেস্ট যা ৩৫ বছরের বেশী বয়সী মহিলাদের করানো উচিত

ডাক্তার গুপ্তা জানান যে ৩৫ এর পর মা হওয়া নিশ্চয় সম্ভভ এবং অনেক চাকুরিরতা মহিলা এখন তাই চাইছেন, কিন্তু তাদের প্রত্যেক কে কয়েকটা দরকারি জন্মপূর্ব টেস্ট করান উচিত।

  • অ্যাম্নিওসেন্তেসিস – এই টেস্ট দাউন’স সিনড্রোম, সিকেল সেল রোগ, সিস্তিক ফিব্রিওসিস, মাস্কুলার দিস্ত্রফি এবং টে-সাক্স ধরনের রোগ কে সনাক্ত করে
  • নুকাল ত্রান্সুলেন্সি স্ক্রিনিং – এটাকে এন টি বাঁ নুকাল ফোলদ ও বলে, এতে শরীরের ভেতর অস্ত্রপ্রচার করা হয় না
  • ম্যাটার্নি টি – ২১ প্লাস টেস্ট – এই নতুন ধরনের ব্লাড টেস্ট করা হয় ১০ সপ্তাহে (অ্যাম্নিওসেন্তেসিস ধরনের টেস্ট এর আগেই) এবং এও সনাক্ত করে ডাউন’স সিনড্রোম এবং অনান্য ক্রমোসোমের রোগ
  • ক্রনিক ভিলি স্যামপ্লিং – এটা সনাক্ত করে জন্ম ত্রুটি, জেনেটিক ডিজিজ এবং অনান্য অসুখ
  • আলট্রাসাউন্ড – এটা সাধারন আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান যা প্রত্যেক মহিলা কেই গর্ভাবস্থায় করান উচিত

“বেশী বয়সে মা হতে গেলে, নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হন এবং স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখুন,” তিনি বলেন। নিচে দেওয়া রইল ডাক্তার গুপ্তার দেওয়া এক চেকলিস্ট যা আপনার অনুসরণ করা উচিত।

  • গাইনোকোলগিস্ত কে নিয়মিত দেখান এবং তার মতামত নিন
  • নিয়মিত জন্মপূর্ব যত্ন নিন। “নিয়মিত ডাক্তার দেখালে আপনার ডাক্তার এই ব্যাপারে সচেতন হবেন যে আপনার বাঁ আপনার শিশুর ঠিক কি দরকার। কোনও রকম অসুবিধে হলে তাকে জানান”
  • স্বাথ্যকর খাবার খান এবং যতটা দরকার ততটাই ওজন বাড়ান, তার মানে দুজনের জন্য খাবার দরকার পড়ে না।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন, তাতে আপনি সুস্থ্য এবং প্রাণবন্ত থাকবেন।
  • গর্ভাবস্থায় মদ বা সিগারেট খাবেন না।
  • আপনি যদি নিয়মিত কোনও অসুধ বা সাপ্লিমেন্ত খান তার ব্যাপারে আপনার ডাক্তার কে জিজ্ঞাসা করুন।
  • ক্রমোসোমের অস্বাভাবিকতার ব্যপারে টেস্ট করান

Source: theindusparent