মহিলার “ডিএনএ উড়ে যায় না” সে যদি তার ধরমের বাইরে বিবাহ করে – সুপ্রিম কোর্ট

“কোনও আইন একথা বলে না যে বিবাহের পর এক মহিলা তার ধার্মিক পরিচয় হারিয়ে ফেলে অন্য ধর্মের পুরুষকে বিয়ে করলে,” জানায় সুপ্রিম কোর্ট।  

বিয়ের পর এক স্ত্রীকে তার স্বামীর ধর্ম অবলম্বন করতে হবে সেরকম কোনও আইন নেই, জানায় সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক বিচারে।

এই রায় নিশ্চয় সেই প্রত্যেক মহিলার মুখে হাসি এনে দেবে যারা তাদের ধর্মের বাইরে বিয়ে করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট হাই কোর্টের সেই বিচারের সাথে একমত নন যা জানায় যে বিবাহের পর স্বামীর ধরমই স্ত্রীর ধর্ম হয়ে ওঠে, এবং স্ত্রী কে সেই মতে চলতে হয়।

মহিলার “ডিএনএ উড়ে যায় না” সে যদি তার ধর্মের বাইরে বিবাহ করে – সুপ্রিম কোর্ট

সুপ্রিম কোর্ট ভালসাদ যোরাস্ত্রিয়ান ট্রাস্ট কে অনুরোধ করে তাদের সেই সিদ্ধান্ত কে পুনরায় বিচার করতে  যা এক পার্সি মহিলাকে তার মাতা-পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় টাওয়ার অফ সাইলেন্স এ প্রবেশ করতে দেয় না যদি সে ধর্মের বাইরে বিবাহ করে।

এক পার্সি মহিলা, গুলরোখ এম গুপ্তা, পার্সি প্রথানুযায়ী এই আইনের প্রতিবাদ করেন কিন্তু গুজরাট হাই কোর্ট তার সমর্থন করে না। তখন তিনি হাই কোর্টের এই রায় কে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেন।

তিনি ১৯৯১ সালে বিবাহ করেন এবং তার স্বামী পার্সি নন। তার মাতা-পিতা যখন মারা যান তখন তাকে শেষ ক্রিয়ার স্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। তার ছোট বোন শিরাজ ও অন্য ধর্মে বিবাহ করেন এবং দুই বোন কেই তাদের মাতা-পিতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বঞ্চিত রাখা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ এর প্রধান ছিলেন জাস্টিস দীপক মিশ্রা, এবং সাথে ছিলেন জাস্টিস এ কে সিকরি, এ এম খান্বিলকর, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং অশোক ভুশন। তারা সবাই বলেন যে এটা অবাক করা ব্যাপার যে এই আইন মানা হয় না যদি এক পার্সি পুরুষ তার ধর্মের বাইরে বিবাহ করে।

এক মহিলা তার পরিচয় হারায় না যদি সে ধর্মের বাইরে বিবাহ করে  

“এরকম কোনও আইন নেই যা বলে যে এক মহিলা তার ধার্মিক পরিচয় হারিয়ে ফেলে যদি সে অন্য ধর্মের পুরুষ কে বিয়ে করে... তাছাড়া স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী দুটি আলাদা ধর্মের মানুষ যদি বিয়ে করে তবে তারা প্রত্যেকে নিজেদের ধর্ম মেনে চলতে পারে,” জানায় এই বেঞ্চ।

কোর্ট এও জানায় যে যদি এরকম রীতি মহিলাদের ক্ষেত্রে মানা হয় তবে যেন তা পুরুষ দের ক্ষেত্রেও মানা হয়।

“এক পুরুষ যদি তার ধর্মের বাইরে বিয়ে করে তাকে তার ধার্মিক পরিচয় রাখতে দেওয়া হয় কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে তা হয় না। এই ধরনের ব্যাবহার সঠিক নয়...,” জাস্টিস জানান।

এই ব্যাপারে আগামি শুনানি ১৪ই ডিসেম্বর।