ভূপালের এই মহিলা আত্মহত্যা করেছেন এবং সুইদাইড নোটে তাঁর স্বামী ও শ্বাশুড়িকে এই মৃত্যুর জন্য দায়ী করে গেছেন

lead image

সুইসাইড নোটে লেখা রেণুর গল্প আপনার চোখে জল নিয়ে আসবে।

হৃদয়বিদারক একটি খবরে জানা গেছে যে গত সোমবার সন্ধ্যায়, ভূপালে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক মহিলা শহরের বিখ্যাত ডিবি মলের তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মহিলার নাম রেণু মিত্তল বলে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুলিস অধিকারী জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর ছ'বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে ওই মলে গিয়েছিলেন আর চরম পদক্ষেপ করার আগে তাকে বাচ্চাদের খেলার জায়গায় ছেড়ে দিয়েছিলেন।

সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে মেয়েকে খেলার জায়গায় ছেড়ে দেবার পর তিনি কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলতে থাকেন আর তারপর কাঁচের রেলিং এর ওপর উঠে লাফ দেন। ঠিক কি ঘটেছিল, তা নীচের ভিডিওতে দেখুন।

পুলিস অধিকারীরা বলছেন যে আত্মহত্যা করার তিন দিন আগে পুলিসকে পোষ্ট করা একটি সুইসাইড নোটে জানা যাচ্ছে যে এই মহিলা চরম পারিবারিক অশান্তি ভোগ করছিলেন এবং সম্ভবত এটাই তাঁর আত্মহত্যার কারণ।

তাঁর স্বামী, সুনীল মিত্তল ভূপালের একজন কাপড় ব্যবসায়ী এবং ১২ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তাঁর বাবা, প্রহ্লাদ দাস চিরায়ু মেডিক্যাল কলেজের প্রধান চিকিৎসা পদাধিকারী। তাঁর সুইসাইড নোটে যে সব  বেদনাদায়ক বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে, তা আপনার হৃদয়কে নাড়িয়ে দেবে।

মেয়ের স্কুলের খাতার আটটি পাতায় রেণু তাঁর আত্মহত্যার কারণ লিখেছেন এবং পুলিসের মনে হচ্ছে যে তিনি এটি কিছুদিন আগেই লিখেছিলেন, হয়তো সপ্তাহখানেক আগে।

১। দুটি মেয়ের জন্ম দিয়েছিলেন বলে তাঁকে অত্যাচার করা হত

রেনূর প্রথম ও প্রধান অভিযোগ যে পরপর দুটি মেয়ের জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁকে হেনস্থা করা হত। এতটাই যে তাঁর মেয়েদের ডিপিএস স্কুলে ভর্তি করল না, পরিবার থেকে বলা হলে যে তাঁদের অত টাকা নেই অথচ তাঁর দেওরের ছেলেকে ওই স্কুলেই ভর্তি করা হল আর তখন ছেলের ফীস দেবার জন্য তাঁদের টাকার অভাব হলও না।

রেণু আরও লিখেছেন যে তাঁর জায়ের প্রতি সবসময় পক্ষপাতিত্ব করা হত কেননা সে একটি ছেলের জন্ম দিয়েছে।

২। তাঁকে ঘরের চাকরানীতে পরিণত করা হল

দুর্ভাগ্যবশতঃ, আরও অনেক ভারতীয় পুত্রবধূদের মতো রেণুর সঙ্গেও বাড়ির ঝি-চাকরানীর মতো আচরণ করা হত এবং তাঁদের পরিবার একটি কাপড় ব্যবসার মালিক হওয়া সত্বেও বাড়ির যাবতীয় কাজ তাকে করতে বাধ্য করা হত, যেটি খুবই বেদনাদায়ক।

রেণু আরও অভিযোগ করেছেন যে এমনকি শ্বাশুড়ি তাঁকে পায়খানা ও বাথরুম পরিষ্কার করতে বাধ্য করেছেন আর তিনি ভোর ৫ টায় উঠে রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার এবং অন্যান্য কাজ করতেন যখন তাঁর স্বাশুড়ি আর জা ঘুমিয়ে থাকত।

৩। গর্ভাবস্থার সময়ও কেউ তাঁর যত্ন নেয়নি

তাঁর সুইসাইড নোট অনুযায়ী, রেণুর অবস্থা এত শোচনীয় ছিল যে গর্ভাবস্থার সময়ও তাঁকে বিশ্রাম নিতে দেওয়া হত না। রেণু আরও লিখেছেন যে গর্ভকালের শেষ মাসে তাঁকে ফুলে যাওয়া পা নিয়ে কাজ করে যেতে হয়েছে কিন্তু কেউ তাঁর প্রতি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেয় নি।

৪। তাঁর স্বামীও মুখ খোলেন নি

রেণুর সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয় ছিল তাঁর স্বামী, যিনি নিজে তাঁর যত্ন নিতেন কিন্তু বাবা-মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীকে বাঁচাতে কোনোদিন কিছু বলেন নি। এখন তাঁর ভয় এটাই যে তিনি মরে গেলে তাঁর মেয়েদের সঙ্গেও ঠিক সেই ব্যবহার করা হবে যা তাঁর সঙ্গে কজরা হয়েছে।

৫। শ্বাশুড়ির শাস্তি হওয়া উচিত

পরিশেষে, রেণু তাঁর আত্মহত্যার জন্য শ্বাশুড়ির ওপর দোষারোপ করেছেন এবং পুলিসকে অনুরোধ করেছেন যে তাঁর শ্বাশুড়ির যেন কঠোর শাস্তি হয়, যাতে অন্যান্য শ্বাশুড়িদের একটা শিক্ষা হয় এবং আগামী প্রজন্মগুলির জন্য একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

আত্মহত্যাই কি একমাত্র সমাধান ছিল?

রেণুর দুটি কন্যার জন্য দ্যইন্ডাসপ্যারেন্ট সবচেয়ে বেশী দুঃখবোধ করছে এবং সর্বান্তকরণে চাইছে যে অন্তত তাঁর মেয়ে দুটির জন্য চরম পদক্ষেপ করার আগে বোধহয় তিনি আর একবার ভাবলে পারতেন। তিনি তো তাঁর মৃত্যুর পর মেয়ে দুটির কি হবে, সে কথা ভেবে নিজেই আশঙ্কিত ছিলেন। এত যখন ভয় ছিল, কেন তিনি তাদের জন্য থেমে গেলেন না?

আত্মহত্যাই একমাত্র সমাধান ছিল না এবং বোধহয় তাঁর অন্য পথের সন্ধান করা উচিত ছিল, যেমন তাঁর বক্তব্য নিজের মা-বাবাকে বা স্বামীকে জানালে পারতেন কারণ তিনি নিজেই লিখেছেন যে এমনিতে স্বামী তাঁর প্রতি সহানুভূতি সম্পন্ন।

আমরাক শুধু চাইছি যে তিনি আরও খানিকটা কঠিন লড়াই চালিয়ে যেতেন এবং তাঁর মেয়েদের জন্য বেঁচে থাকতেন। আমাদের হৃদয় তাঁর মেয়েদের কাছে ছুটে যাচ্ছে এবং আমরা প্রার্থনা করি, ঈশ্বর যেন তাদের শক্তি দেন যাতে তারা এই বিরাট ক্ষতি উত্তীর্ণ হতে পারে।