ভারতীয় পুরুষেরা কেন কন্ডোম ব্যবহার করতে চান না জানলে আপনি হতবাক হয়ে যাবেন!

ভারতীয় নারীদের 'প্রজনন সংক্রান্ত স্বশাসন' নেই কারণ সন্তান চাই নাকি চাইনা সে সিদ্ধান্ত সাধারণত নিয়ে থাকেন তাঁর স্বামী অথবা শ্বাশুড়ি!

আমাদের পুরুষ শাসিত ভারতীয় সমাজে সংসারের বড় কোনও সিদ্ধান্তে নারীরা কদাচিৎ কিছু বলার সুযোগ পান। একটি গাড়ি কেনা থেকে বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করার মতো সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই পরিবারের পুরুষেরা নিয়ে থাকেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিচলিত করার মতো একটি রিপোর্টে জানা যাচ্ছে যে মহিলাদের এমনকি 'প্রজনন সংক্রান্ত স্বশাসন' পর্যন্ত নেই। সন্তান চাই নাকি চাইনা সে সিদ্ধান্ত সাধারণত নিয়ে থাকেন তাঁর স্বামী অথবা শ্বাশুড়ি!

এই রিপোর্টে কি জানা যাচ্ছে

এই রিপোর্টটি জার্নাল অফ কমিউনিটি মেডিসিনের সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে যাতে ৫০০ জন নারী অংশগ্রহণকারীর তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং এতেই কিছু চাঞ্চল্যকর বিবরণ জানা গেছে।

  • শতকরা ৪৬ জন জানিয়েছেন যে স্বামীদের সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরা কন্ডোম ব্যবহার করাতে পারেন না।
  • শতকরা ৩৯ জন জানিয়েছেন যে তাঁরা স্বামীদের হাতে বলপূর্বক যৌন মিলন এবং যৌন হিংসার সম্মুখীন হয়েছেন।
  • এই নারীদের মধ্যে শতকরা ২৩ জন শারীরিক নিগ্রহের সম্মুখীন হয়েছেন।
  • এই নারীদের মধ্যে শতকরা ৩৩ জন মৌখিক নিগ্রহের সম্মুখীন হয়েছেন।

কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এটাই যে মাত্র শতকরা ১২ জন প্রতিবাদ করেছেন আর শতকরা ৮৮ জন এ অত্যাচার নীরবে সহ্য করেছেন।

ডঃ নীলাঞ্চলি সিং, যিনি এই গবেষণাটি লিখেছেন, জানিয়েছেন যে এইসব সমস্যার প্রাথমিক কারণ হচ্ছে যে নারীদের কোনও 'প্রজনন সংক্রান্ত স্বশাসন' নেই।

কেন কোন প্রজনন সংক্রান্ত স্বশাসন নেই?

"পুরুষের দ্বারা এই প্রজনন নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন আকারে বিদ্যমান - অর্থনৈতিক বা আর্থিক নিয়ন্ত্রণ (টাকা না দিয়ে নারীদে্র গর্ভনিরোধক কেনা থেকে বঞ্চিত করে), মানসিক (তাকে বিশ্বাস করছে না বলে দোষারোপ করে বা  কাজের চাপে গর্ভনিরোধক কিনতে ভুলে গেছে বলে) এবং শারীরিক (নারীটি গর্ভনিরোধক কিনতে বলাতে রেগে হ্রিংস্র হয়ে গিয়ে)। অনেক সময় তারা নারীদের গর্ভনিরোধকের অনুরোধকে স্রেফ অবজ্ঞা করে। এই সব কারণে অনেক সময়ই নারীদের পৌনঃপুনিক গর্ভধারণ বা গর্ভপাতের ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়,"  তিনি ডেলী মেল কে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, যে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে গার্হস্থ হিংসার এরকম সম্পর্ক থাকে সেখানে নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দেয়।

  • আঘাত
  • পৌনঃপুনিক ব্যথা
  • অবসাদ
  • আত্মহত্যা্র প্রচেষ্টা
  • নেশার শিকার
  • যৌন সংক্রমণ
  • কম গর্ভনিরোধক ব্যবহার

যদিও এই গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে যে সমীক্ষিত মহিলাদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই অশিক্ষিতা ছিলেন, কিন্তু সেই সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এদের মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ নারী শিক্ষিতা হলেও তাঁরা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

"অবমাননাকর সম্পর্কের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, সেই সব মহিলাদের গর্ভনিরোধক ব্যবহার বা পরিবার পরিকল্পনা করার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। সন্তানধারণের ব্যাপারে নারীদের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকার ফলে নিগৃহীতা মহিলাদের মধ্যে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের ঝুঁকি উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে," তিন আরও বলেন।

এই গবেষণাটি দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অফ মেডিক্যাল সায়েন্স দ্বারা করা হয়েছিল।