ভাই বোনদের মধ্যে বয়সের ব্যাবধান সম্পর্কে সুহানা এবং আব্রাম খানের ছবিটি কি বলছে

lead image

কয়েক দিন আগে আব্রামের জন্মদিন উপলক্ষে শাহরুখের স্ত্রী গৌরী তার দুই সন্তান সুহানা ও আব্রামের একটি ছবি ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন এবং ক্যাপশনে লিখেছেন : মিথুন বর্ণচ্ছটা। এর দ্বারা সম্ভবত, তাঁর ছোট বাচ্চাদুটির একই রাশিচক্রের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

কিন্তু আপনি যদি মন দিয়ে দেখেন, তবে এই সুন্দর ছবিটি কেবল এক আকর্ষণীয় ভাই-বোনের ভঙ্গির চেয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকাশ করে। সুহানা যেভাবে তার ছোট্ট ভাইকে আদর করছে, স্নেহময়, প্রায় মায়ের মত কোলে নিয়ে আছে, তা দেখায় যে কিভাবে বয়সে বেশ বড় একটি বোন আশ্চর্যজনক ভাবে তার ছোট বাচ্চা ভাইবোনকে সযত্নে লালন করতে পারে।

আরও লক্ষ্য করে দেখুন, ছোট্ট আব্রামের এর এক্সপ্রেশন, সে কেমন সুবোধ বালকের মতো তার বড় বোনের কোলের মধ্যে পরম সুখী হয়ে বসে আছে।

যে আবেগ ছবিতে ফুটে উঠেছে তা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কেন ভাইবোনদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান বেশী থাকলে সেটা বাচ্চাদের এবং তাদের বাবা-মা, উভয়ের জন্যই ভাল। ১৭ বছর বয়সী সুহানার সঙ্গে তার ৪ বছরের ছোট ভাই আব্রামের বয়সের ব্যাবধান ১৩ বছরের।

কিন্তু ভাই ও বোন উভয়ই বয়সের ফাঁকটি উপভোগ করছে বলেই মনে হচ্ছে। অন্য সময়েও সুহানা ও বড় ভাই আরিয়ান (১৯) তাদের ভাইকে নিয়ে ছবি তুলেছে এবং তার দায়িত্ব নিয়ে মা গৌরিকে একটা বিরতি দিয়েছে।

ভাইবোনদের মধ্যে বয়সের আদর্শ ব্যাবধান

উপরোক্ত উদাহরণটি কিন্তু, ভারতীয়দের যা সাধারণ ধারণা যে ভাই বোনদের মধ্যে বয়সের ব্যাবধান বেশী হওয়া ভাল নয়, সেটিকে তছনছ করে দেয় এবং আসলে দেখায় যে দুটি ভাইবোনের বয়সের তফাত যদি বেশী হয় আসলে একে অপরের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে।

সুতরাং, যদি আপনার একটি সন্তান বেশ বড় হয়ে গিয়ে থাকে এবং আপনি ভাবছেন যে আপনার পরিবারে আর একটি শিশু আনার জন্য অনেক দেরী হয়ে গেছে, তবে আবার চিন্তা করুন। প্রকৃতপক্ষে, মনোবৈজ্ঞানিকরা প্রমাণ করেছেন যে, বয়সের বড় ব্যাবধান মোটেই খারাপ নয়। এখানে তাদের কিছু বিবরণ দেওয়া হল …

১। পর পর নাকি বিলম্বে বিলম্বে :

বয়সে বড় আত্মীয়দের কাছ থেকে পর পর বাচ্চার সপক্ষে যে যুক্তি আপনি সাধারণতঃ শুনে থাকেন তা হচ্ছে যে বাচ্চারা পরস্পরের সাহচর্য পায় এবং পরে আমাকে সাহায্য করতে পারে! এটা সত্যি যে কম ব্যাবধানের বাচ্চাগুলি একসঙ্গে বড় হয় কিন্তু সাহায্য করার ব্যাপারটা বড়ই কষ্টকল্পিত কেননা, কম ব্যাবধানের পরের বাচ্চাটি শুধু প্রথমটির ছোট হয়ে যাওয়া জামা কাপড়গুলি পরতে পারে!

কিন্তু ডাক্তারের মতে, খুব কম ব্যাবধানে শিশুরা জন্মালে সেটা মা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথম প্রসবের পর পুরোপুরি সবল হতে মহিলাদের শরীরে সময় লাগে। কিছু গবেষকের মতে দু বছরের মধ্যে আবার গর্ভবতী হতে হলে জন্মপূর্ব রক্তাল্পতা হবার সম্ভাবনা থাকে, এছাড়া একটি শিশু যে লাগাতার পরিশ্রম ও নিদ্রাহীণতা নিয়ে আসে সেটা আরও বেড়ে যায় যদি যথেষ্ট বিশ্রামের আগেই আর একটি শিশুকে লালন পালন করতে হয়।

২। একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি:

কিছু গবেষকদের মতে, একবার ডায়াপার, খাওয়ানো, পটি প্রশিক্ষণ, ইত্যাদির স্মৃতি অনেকদিনের পুরনো হওয়ার পরই একজন আবার শিশুপালনের কাজে ভালভাবে আত্মনিয়োগ করতে পারে। তাছাড়া, যদি খুব কম ব্যাবধানে আপনার দুটি বাচ্চা থাকে, তাদের জন্য সময় বার করতে গিয়ে আপনি গলদঘর্ম হয়ে পড়েন কারণ দুটি শিশুরই চাহিদা হবে একই।

একটি অপেক্ষাকৃত বড় ভাই বা বোন থাকলে সে এমন পরিস্থিতিতে একজন উদ্ধারকারী হতে পারে। যে মায়ের সবে হাঁটতে শেখা বাচ্চাকে তার কিশোর বয়সের দাদা বা দিদির সঙ্গে পার্কে পাঠানোর সৌভাগ্য হয়েছে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন যে কতো শান্তিতে তিনি রাতের খাবার রান্না করতে পারেন। এছাড়া, একটি শিশুকে বড় করতে গিয়ে যে যে ভুল আপনি করেন তার থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনি পরবর্তী প্রতিটি বাচ্চার সমস্যার অনেক চটজলদি সমাধান জেনে যান।

৩। ভাইবোনের রেষারেষি পরিণত হয় ভালবাসাবাসিতে:

পিঠোপিঠি ভাইবোনদের মধ্যে প্রায়ই রেষারেষি, ঈর্ষা এবং প্রতিযোগিতার অনুভূতি থেকে থাকে। পরিবর্তে, যদি বাড়ীতে ইতিমধ্যেই বড় হয়ে যাওয়া একটি বাচ্চা থাকে তাহলে সে অনেকটা মায়ের মতোই আবেগ অনুভব করবে যা আপনি নবজাতকের জন্য অনুভব করেন।

বয়স্ক বাচ্চারা আরও বেশি সমঝদার হয় এবং তাদের পরিবারে অন্য শিশুর আগমনে শঙ্কিত হয় না যে এবার যাবতীয় মনোযোগ সে পাবে বরং তারা প্রক্রিয়াটির অংশ হয়ে ওঠে এবং বাবা-মায়ের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে সহায়তা করে।

৪। আরও বেশী কাজের সময়:

বয়সের বিভিন্ন স্তরে দুটি বাচ্চা থাকার অর্থ হচ্ছে আপনি ছোটটিকে আরও বেশী সময় দিতে পারবেন। আপনার ছোট্ট বাচ্চাটির কাছে থাকবার আগে বড়টির খেলার জন্য বা তাকে অন্যমনস্ক রাখার জন্য কোনও ব্যাবস্থা না করতে হলে আপনি প্রচুর সময় পাবেন ছোটটিকে নিয়ে পার্কে বেড়াতে বা গল্প-গান শোনাতে। আর এতে দেখবেন, আপনার বড় বাচ্চাটিও এসে আপনার সঙ্গে যোগ দেবে।

৫। কেরিয়ার অনুযায়ী:

অনেক নারীই প্রথম সন্তান জন্মের পর চাকুরি জীবনে ফিরে গিয়ে কয়েক বছরে কেরিয়ারে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে আবার সন্তান ধারণ করতে বেশী স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করেন। বেশ কয়েক বছর পর চাকুরীজীবনে দ্বিতীয় বিরতি নিলে সিনিয়ার লেভেলে ফিরে আসা অনেক সহজ হয়।

পক্ষান্তরে, চাকুরীজীবনে লম্বা ছেদ নিলে তা কেরিয়ারকে থমকে দেয় এবং একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর ফিরে এসে আবার কাজ শুরু করলে সেটা আর অত তারিফ যোগ্য হয় না। অবশ্য এটা আপনার পেশা এবং প্রথম বিরতি নেবার সময় কোন পদে ছিলেন তার ওপরও নির্ভর করে।

৬। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কতা:

সামাজিক ও পেশাদারী কারণ বাদে ডাক্তারদের মতে আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা বিশ্লেষণ করে তারপর আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে আবার সন্তান ধারণ করার জন্য সত্যিই কতদিন অপেক্ষা আপনি করতে পারেন। বেশী বয়সে গর্ভধারণের ফলে কখনও কখনও নানা জটিলতা দেখা দেয়, তাই যদিও দ্বিতীয় শিশুর জন্মের আগে কয়েক বছর অপেক্ষা করা বাঞ্ছনীয় তবুও সর্বোত্তম কি হবে তা নির্ধারণ করার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

Source: theindusparent