ডিম সম্পর্কে ৫ টি জনশ্রুতি এবং কিভাবে শিশুদের মধ্যে তা প্রবর্তন করা যায়

আসুন, আজকের দিনে ডিমকে ঘিরে কিছু জনপ্রিয় অতিকথার বুদবুদ ফাটিয়ে সেওয়া যাক আর বোঝানো যাক যে কেন আপনার পরিবারের খাদ্য তালিকায় ডিমকে প্রাধান্য দেবেন।

সানডে হো ইয়া মনডে রোজ খাও অন্ডে

আমরা এই স্তোত্রটি ১০০ বার শুনেছি আর যখন আমরা ডিম খাই তখন প্রায়ই ঠাট্টার সুরে এটি গেয়ে উঠি। কিন্তু সত্যিটা হল, যখনই আপনি প্রচণ্ড সময়াভাবে থাকেন, খুবই ক্ষুধার্ত থাকেন বা শুধুই পঞ্চব্যাঞ্জন সহ ভোজন রান্না করতে চান না, তখনই ডিমের প্রয়োজন হয়।

তাছাড়া, এর স্বাস্থ্যসম্মত উপকারিতা কোনও ক্ষতিও করে না।

তবুও অনেকে এখনও নানা যুক্তিহীন জনশ্রুতির জন্য ডিম থেকে দূরে থাকেন। তাই আজ এই বিশ্ব ডিম দিবসে (আই ই সি ভিয়েনা কনফারেন্সে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত) ডিমকে ঘিরে কিছু জনপ্রিয় অতিকথার বুদবুদ ফাটিয়ে সেওয়া যাক আর বোঝানো যাক যে কেন আপনার পরিবারের খাদ্য তালিকায় ডিমকে প্রাধান্য দেবেন।

এটি সন্তানসম্ভবা মায়েদের জন্যও প্রাসঙ্গিক, তাই আরও জানার জন্য পড়ে চলুন।

eggs

ডিম সম্পর্কে ৫ টি জনপ্রিয় পৌরাণিক কাহিনী ধূলিসাৎ!

  • ডিম কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় : ডিমের পুষ্টিগুণ বহুমুখী এবং এতে মাত্র ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে যা অ্যামিনো এসিড দেয় এবং যা আপনার এবং আপনার শিশুর খুবই প্রয়োজন। কিন্তু যদি সামগ্রিক ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের হিসেব না ধরা হয় তাহলে একথা বলা ভুল যে ডিম কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া ডিমে পরিষ্কার বিভাজিত দুটি অংশ আছে, যার মধ্যে যে কোনোটি আপনি খেতে পারেন বা না খেতে পারেন। তাই, আপনি যদি ওজন না বাড়াতে চান তাহলে ডিমের শুধু সাদা অংশটি খেলেই হল।  
  • একাধিক ডিম ওজন বাড়ায় : যদি আপনি প্রতিদিন কুসুম সহ তিনটি ডিম খান, তবে হ্যাঁ, এটি আপনার সামগ্রিক শরীরের ওজন বৃদ্ধি করতে পারে, কিন্তু এটা জরুরী নয় যে তা আপনার স্বাস্থ্য খারাপ করবে। যাইহোক, যদি আপনি মধ্যপন্থা অবলম্বন করে খান, (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দুটি এবং শিশুর জন্য একটি) তাহলে তা শুধুমাত্র আপনার শরীরের উপকারই করবে।
  • সন্তানসম্ভবা মায়েদের ডিম থেকে দূরে থাকা উচিত : একেবারে ভুল। নিউ দিল্লির পিএসআরআই হসপিটালের পরামর্শদাতা ও হেড গাইনিকোলোজাল এন্ডোস্কোপিক সার্জন ডঃ রাহুল মনচন্দা ব্যাখ্যা করেছেন। "ডিমে কোলিন সহ এক ডজনের বেশী ভিটামিন এবং খনিজসম্পদ আছে, যা আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাসের জন্য ভাল। অতএব, সন্তানসম্ভবা মাকে ডিম খেতে হবে। তবে নিশ্চিতভাবে অর্ধসেদ্ধ বা কাঁচা ডিম খাওয়া উচিত নয়," তিনি বলেন।
  • ডিম ধুয়ে নিলে তার পুষ্টির মান কমে যায় : আবার ভুল। অনেকে বিশ্ব্বাস করেন যে ডিমে, যাকে বলে ওইযে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা নাকি ডিম জলের নীচে রাখলেই ধুয়ে যায়। কিন্তু, আসলে এটি ডিমের ভিতরে থাকে, তাই আপনি ধুয়ে নিন বা না নিন, সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া কোথাও যাবে না।

 

eggs

  • বাদামী ডিম সাদা ডিমের মতো ভাল নয় : ডিমের খোলার রঙের সঙ্গে এর পুষ্টিগুণের কোনও সম্পর্কই নেই। আসলে মুরগী যে পিগমেন্ট উৎপাদন করে, তার থেকেই রঙের পিগমেন্ট আসে, আর ডিম এই অনন্য রঙ পায়। দু'রকম ডিমেরই একই পুষ্টিগুণ থাকে।

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যদি আপনি কোনও অল্পবয়সী শিশুর মা-বাবা হন, তবে কিভাবে আপনি আপনার বাচ্চাকে ডিম খেতে দেওয়া শুরু করতে পারেন?

প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন এবং প্রায় ১৪ টি অপরিহার্য ভিটামিন এবং পুষ্টির সাথে, ডিম আপনার শিশুর জন্য একটি পরিপূর্ণ আহার। আর ডঃ মনচন্দা যেমন আগেই বলেছেন, এতে কোলিনও আছে, যা একটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সর্বোত্তম উপাদান।

তাই আপনার বাচ্চার খাবারে ডিম প্রবর্তন করার জন্য কয়েকটি ধাপ এখানে দেওয়া হল।

আপনার বাচ্চার খাবারে ডিম প্রবর্তন করার জন্য ২ টি সহজ পদক্ষেপ

  • একটি ডিম পুরো সেদ্ধ করুন এবং এর সাদা অংশটি চূর্ণ করে নিন। খাদ্য-বাহিত রোগ থেকে বাঁচার জন্য নিশ্চিত হয়ে নেবেন যে ডিমটি সুসিদ্ধ হয়েছে এবং পরিষ্কারভাবে ছাড়ানো হয়েছে।
  • এবার এর সঙ্গে দেড় টেবিল চামচ বুকের দুধ বা প্যাকেজড দুধ বা শুধু জল ভালভাবে মিশিয়ে বাচ্চাকে খেতে দিন।

অবশ্যই এতে কোনোরকম নুন বা চিনি দেবেন না যাতে আপনার শিশুটি ডিমের স্বাভাবিক স্বাদে অভ্যস্ত হয়। এভাবে আপনার বাচ্চা বড় হওয়ার সাথে সাথে আপনি ধীরে ধীরে বুকের দুধ বা প্যাকেজড দুধ থেকে পরিত্রাণ পাবেন।

আশা করি এই তথ্য আপনাকে ডিম আরও ভালভাবে উপভোগ করতে সাহায্য করবে!