পরিশেষে রাণী মুখার্জী তার মেয়ে আদিরার ছবি শেয়ার করেছেন এই সুন্দর চিঠির সাথে

lead image

“এটা রাতারাতি হয়ে গেল... হঠাৎ আমি দেখলাম আমি ব্দলে গেছি...”, লিখেছেন নতুন মা রানী মুখার্জী চোপড়া।

রাণী মুখার্জী ও আদিত্য চোপড়া তাঁদের মেয়ে কে নিয়ে ভীষণ সংরক্ষণশীল।তাঁরা তাঁদের মেয়েকে পাপারাৎজির ক্যামেরা থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

আদিরা কে এতটাই গোপনে রাখা ছিল যে তার পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু বান্ধব ছাড়া কেউ তাকে দেখেনি।

কিন্তু সে এখন বিগত ব্যাপার, তার জন্য আবেগময় মা রানী মুখার্জীকে ধন্যবাদ।

এই  অনুরত নতুন মা পাবলিক প্ল্যাটফর্ম বেঁছে নেন তাঁর মেয়েকে তাঁর প্রথম জন্মদিনে অভিনন্দন জানাতে। তিনি তাঁর মেয়ের ছবি শেয়ার করেন (সে অনেকটাই তাঁর সুন্দর মায়ের মতন দেখতে), শুধু তাই না, তিনি তাঁর মেয়েকে এক চিঠিও লেখেন, যা সব মায়েরই মনের কথা!

রানীর পক্ষ থেকে, তাঁর স্বামীর কোম্পানি যশ রাজ ফিল্মস এই  চিঠি এবং মা-মেয়ের ছবি তাঁদের টুইটার অ্যাকাউন্ট এ শেয়ার করে।

রাণীর আবেগপূর্ণ চিঠি

রাণীর এই হৃদয়গ্রাহী চিঠিতে রয়েছে ভালবাসা, উদ্বেগ এবং আশা, রানী তাঁর মাতৃত্বের যাত্রার কথা লিখেছেন।

“আমি আমার মেয়ে আদিরা কে ভীষণ ভালবাসি আমি তাকে ছাড়া নিঃশ্বাস নিতে পারি না আমার জীবন বদলে গেছে।। কিন্তু ভালর জন্য। বাচ্চা হওয়া এক ভীতিকর ব্যাপার কারন আপনি হঠাৎ নিজের জন্য বাঁচা ছেড়ে দেন, আপনি নিজের শিশুর জন্য বাঁচেন, যেন সেই আপনার জন্ম দিল এক মাকে জন্ম দিল। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনা... দিনেও ঘুম হয়না। আমি সেই সব হাজার মায়েদের কথা ভাবি যারা জন্ম দিয়েছে...,” লিখেছেন রাণী।

এক উদ্বেগপূর্ণ নতুন মা হিসেবে, রাণীরও এই নতুন পথ বুঝতে সময় লেগেছে। তাঁর চিঠিতে তিনি এই প্রশ্ন করেছেন যে প্রত্যেক মা কেই কি এই দুর্গম পথ অতিক্রম করতে হয়!

“সবাই কি এই দুশ্চিন্তা ভোগ করে, নাকি শুধু আমি? আমি সব মায়েদের শ্রদ্ধা জানাই! আমি ভগবানের কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি  আদিরা রূপে আমাকে এই আশীর্বাদ দিয়েছেন”। তিনি লেখেন।

রাণী কি চান আদিরা বড় হয়ে কি রকম হবে, জানতে আরও পড়ুন।

মাতৃত্ব রাণীকে বদলে দিয়েছে

তাঁর চিঠিতে, রাণী লিখেছেন মাতৃত্ব কীভাবে তাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। যদিও তিনি আশঙ্কিত যে কেউ তাকে বুঝবে কিনা, তিনি জানেন যে তাঁর জীবন আর এক নেই।

“আমি জানিনা আমাকে আমার জীবনের এই পর্যায়ে কেউ বোঝে কিনা... কিন্তু আমি শুধু ধারার সাথে বয়ে চলেছি... যার যা ইচ্ছা আমায় বলে, আমি সবসময় সাড়া দিই না... আবার অনেক সময় দি। আমি অনেক শান্ত হয়ে গেছি, অনেক ক্ষমাশীল আমি বুঝলাম আমি বদলে গেছি”।

তিনি জানেন এই পরিবর্তন ভালর জন্য।

“ভালর জন্যই এই পরিবর্তন হয়ত। আমি আশা করি আমি আদিরাকে ভাল মানুষ করে তুলতে পারি সে যেন কিছুতে ভয় না পায় যেন হয় সাহসী, বুদ্ধিমতি, শৃঙ্খলাশীল। আমি চাই সবাই যেন গর্বিত হয় তাকে নিয়ে। সে যেন তাঁর মনের ইচ্ছা মত চলতে পারে, যেন কোনও চাপে না বড় হয় সবসময় যেন হাঁসে, প্রানখুলে বাঁচে” বলেন আদিরার মা।

প্রথম বার রাণী বলেন আদিরার কথা

এই চিঠিতে রাণী দ্বিতীয়বার তার মেয়ের ব্যাপারে বলেন। প্রথম ছিল যখন তিনি মা হন।

সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও ফ্যান দের ধন্যবাদ জানাই। আজ জীবন আমাদের সবচেয়ে দামী উপহার দিয়েছে, আদিরা। আমী সকলকে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাদের পাশে আছেন। খুশীর সাথে আমরা আমাদের জীবনের এই নতুন অধ্যায় শুরু করব”।

আপনি যে কেউ হন না কেন, নিজের শিশুর ব্যাপারে আপনার আনন্দ কেউ আটকাতে পারে না।

রাণী ঠিক সেরকমই। যদিও তিনি প্রায় এক বছর কাওকে তার শিশুর ছবি তুলতে দেন নি। তিনি খুবই দ্রকারি এক নিয়ম মেনেছেন যেটা প্রত্যেক নতুন মা-বাবাকে জানা উচিত।

নতুন মাতা-পিতা এবং সোশাল মিডিয়া

নতুন মা-বাবা হিসেবে আপনি চান সবাই কে চিৎকার করে নিজের সন্তানের ব্যাপারে জানাতে। আপনি চান আপনার পরিবার ও বন্ধুরে দেখুক আপনার সন্তান কত সুন্দর, এবং প্রায়ই সোশাল মিদিয়ায় বাচ্চার ছবি শেয়ার করেন।

কিন্তু এটা করা সবসময় উচিত নয়। নিম্নলিখিত ধরনের ছবি কক্ষনও পোস্ট করবেন না। যেমন রাণী করেননি এবং করেননি গীতা বাসরাও।

  • চানের সময়কার ছবি পোস্ট করবেন না। নগ্ন বাচ্চার ছবি পিডোফাইল দের টার্গেট হতে পারে, তাছাড়া আপনার সন্তান যখন বড় হবে তখন তাঁদের জন্য এটা লজ্জার ব্যাপার হতে পারে।
  • পটি ট্রেনিং এর ছবি দেবেন না। এটা জীবনের এক অন্তরঙ্গ ব্যাপার, বাচ্চার জন্য এবং আপনার জন্যও। এই ধরনের ছবি সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করবেন না।
  • আপনার শিশুর ক্লোস আপ। আপনি নিশ্চই আপনার শিশুর চেহারা সবাই কে দেখাতে চান। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় আছেন বহু সমালোচক যারা নিজেদের কীবোর্ডএর পেছনে বসে লোকের ব্যাপারে রায় দিতে ভালবাসে। অনেক সময় মা হিসেবে, “মোটা” বা “কালো” এই ধরনের কথা আমাদের মন খারাপ করে দেয়।

Source: www.theindusparent.com