পত্নী নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থেকে স্বামীর আয়ের উপর পরজীবী হতে পারে না : দিল্লী হাই কোর্ট

lead image

বিগত কয়েক মাস যাবৎ, ভারতীয় আদালতগুলি আমাদের গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ করার মতো কতগুলি বিষয় দিয়েছেন।  পুত্রবধু সংক্রান্ত হোক বা বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটিত মামলা হোক, আদালতের বিভিন্ন আদেশে নানা বিতর্ক হচ্ছে।

কিন্তু সেটা কেবল সূত্রপাত।  মনে হচ্ছে, এই বিতর্কের রেশ চলতেই থাকবে কারণ আজ ন্যায়ালয়ের আর একটি আদেশ সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে।

দিল্লী উচ্চ ন্যায়ালয়ের রায় মোতাবেক একজন শিক্ষিতা মহিলা বাড়ীতে বসে স্বামীর উপার্জনে জীবনধারণ করতে পারে না।  আজ্ঞে হ্যাঁ - আপনি ঠিকই পড়েছেন।

একটি গার্হস্থ্য হিংসার মামলার শুনানি চলার সময় আদালত এই নির্দেশ জারী করেছে।  প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, বাদী পক্ষ (পত্নী) আবেদন করেন যে তাঁর "অন্তর্বর্তী কালীন মাসোহারা", যা ২০০৮ সালে মাসিক ৫০০০ টাকা ছিল এবং ২০১৫ সালে ১০% বৃদ্ধি করা হয়েছে তা আরও বাড়িয়ে ২৫০০০ টাকা করা হোক।

যাইহোক, আদালত এই অনুরোধ অগ্রাহ্য করেছে কিন্তু সেই সঙ্গে আর একটি বিতর্কিত বিনির্দেশ জারী করেছে।

"তিনি নিজে উপার্জন করতে পারেন"

অতিরিক্ত দায়রা বিচারপতি আর কে ত্রিপাঠী তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন এবং উল্লেখ করেন যে, তিনি তাঁর স্বামীর চেয়ে বেশি শিক্ষিতা, অতএব আরও বেশি উপার্জন করতে সক্ষম।

"আপিলকারী নিজে একজন সুশিক্ষিতা মহিলা যাঁর স্নাতাকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে : এমএ, বিএড এবং এলএলবি, এবং বিবাদী পক্ষ (স্বামী) অপেক্ষা অধিক শিক্ষিতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিজে উপার্জন করতে সক্ষম।   তিনি বাড়ীতে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থেকে স্বামীর আয়ের উপর পরজীবী হতে পারেন না" - বিচারপতি মন্তব্য করেন। 

আগের বৃদ্ধি ন্যায়সঙ্গত ছিল, কিন্তু আর নয়

প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০০৮ সাল থেকে কে প্রতি মাসে 5000 টাকা মাসোহারা নির্ধারিত করে এবং ২০১৫ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার বিবেচনা করে 10 শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়।

"মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথভাবে দেখেছেন যে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে ছয় থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার পরিবর্তিত হয়। তাই মাসোহারার ১০ শতাংশ (5000 টাকার) বৃদ্ধি  সম্পূর্ণ সঠিক।"  বিচারপতির রায়।

কিন্তু এবার যখন মহিলাটি আরও বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন, অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আপিলকারী মাসোহারা পরিবর্ধনের ন্যায্যতা প্রতিপাদন করতে পারেন নি।

যদিও এই মামলা শিক্ষিত দম্পতিদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি আকর্ষণীয় কেস স্টাডি হতে পারে, সেই সঙ্গে এটি শিক্ষিত নারীদের যে আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে চেষ্টা করতেই হবে, সেটাও তুলে ধরে।

নারীদের আর্থিকভাবে স্বাধীন হবার সপক্ষে ৫ টি কারণ

ভারতীয় নারীদের একটি বড় সংখ্যা ক্রমবর্ধমানভাবে আরো আর্থিকভাবে স্বাধীন হয়ে উঠছে এবং এর জন্য বাহবা তাঁদের বাবা-মায়ের প্রাপ্য।

  • এটি বিনিয়োগের উপর একটি ফেরত : আপনার মা-বাবা তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় আপনাকে শিক্ষিত করার জন্য বিনিয়োগ করেছেন এবং তাই, আপনার নিজের পায়ে দাঁড়ানো শুধু নিজের জন্য নয়, আপনি কিন্তু তাঁদের কাছেও ঋণী।
  • এটি আপনাকে আরও স্বাধীন করে তোলে : আর্থিকভাবে স্বনির্ভরতা একজন মহিলাকে আরও স্বাধীনতা আর আত্মবিশ্বাস দেয়, যার ফলে সে নিজের জীবনের সিদ্ধান্তগুলি নিজেই নিতে পারে এবং এর জন্য তাকে তার বাবা-মা, বা অভিভাব্‌ক, বা অন্য কারো সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয় না।
  • আপনি আপনার বাচ্চাদের জন্য একটি রোল মডেল হতে পারেন : যখন সন্তানরা তাদের মাকে চাকরি করে  কর্পোরেট সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দেখে, তারাও এই ভাবে অনুপ্রাণিত হয় এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
  • এটি জরুরি অবস্থার সময় সাহায্য করে : অতিরিক্ত অর্থ কখনও কষ্ট দেয় না, বিশেষ করে যখন জরুরি পরিস্থিতি দেখা দেয়।  যদি স্বামী বা স্ত্রী কেউ একজন সঞ্চয় করে, তবে তারা সেই টাকা জরুরী চিকিৎসা, দেশ ভ্রমণ বা তাদের বাচ্চাদের শিক্ষার জন্য কাজে লাগাতে পারে।
  • এটি একটি দম্পতিকে স্বচ্ছলভাবে বাঁচতে সাহায্য করে : আমরা যেন ভুলে না যাই যে পরিবারে দুইজন উপার্জনকারী একজনের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নিয়ে আসে।  এতে শুধুমাত্র আপনাদের জীবনধারণের মানই বাড়ে না, আপনি একটি আরও ভাল জীবনচর্যায় অভ্যস্ত হন এবং আপনি আপনার চারপাশের আরও মানুষকে সাহায্য করতেও সক্ষম হন।

Source: www.theindusparent.com