নতুন মা রাণী মুখার্জী চান মেয়ে আদিরা দুর্গা পূজোর এই রীতি শিখুক

lead image

রানীর সবসময়ি কলার প্রতি ভালবাসা ছিল। ছোটবেলায় তিনি দুর্গা পূজোর অনুষ্ঠানে নাচ করতে ভালোবাসতেন।

ভোগ পরিবেশন করাও ছিল খুব পছন্দের কাজ।

আমার মনে আছে স্টেজ নাচ করা

“আমার মনে পড়ে যখন আমি তিন বছরের, দুর্গা পূজো এক পারিবারিক ব্যাপার ছিল। পরিবারের প্রত্যেক বাচ্চাই ষ্টেজে উঠে কিছু না কিছু করত, কারন বাঙালি রা এমনই করে। আমি ৩ বছরেই প্রথম বার ষ্টেজে নাচ বা অভিনয় করি। একবার আমি প্রজাপতি সেজেছিলাম, আর একবার কৃষ্ণ ঠাকুর। তাছাড়া রবীন্দ্রনৃত্য এবং নাটক তো ছিলই,” রাণী তার ছোটবেলার ব্যপারে জানান এক দৈনন্দিন পত্রিকাতে।

তবে এই সব বন্ধ হয়ে যায় ৯০ এর দশকে যখন তিনি এক তারকা হয়ে ওঠেন।

“এখনও প্রতি বছর আমি একদিন পূজো তে নিশ্চয় যাই এবং চেষ্টা করি পরিবেশন করতে”

“দুর্ভাগ্যবশত এখন আমি যখন আমাদের পারিবারিক দুর্গা পূজোর অনুষ্ঠানে যাই, সেখানে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। সেটাও মায়েরই আশীর্বাদ, তাছাড়া আমি এই সাফল্য এবং ফ্যানদের এই ভালোবাসা পেতাম না। সেতাই একটা বৈপরীত্য, যে মায়ের আশীর্বাদেই আজ আমি দু মিনিটও দুর্গা পূজোর অনুষ্ঠানে কাটাতে পারি না। তবুও আমি একদিন নিশ্চয় যাই এবং ভোগ পরিবেশন করি, কারন সেটা আমার খুব প্রিয়। আমি ছোটবেলার থেকে টা করে আসছি এবং সেটা আমি চালিয়ে যেতে চাই”। বলেন রাণী।

এখন তার মেয়ের জন্মের পর তিনি আবার নতুন আনন্দে দুর্গা পূজোয় যাচ্ছেন, যাতে তিনি তার সন্তানকে এই রীতি শেখাতে পারেন। এবং তাকে দিয়েও একসময় পরিবেশন করানোর ইচ্ছে রাখেন।

“আমি যদি আদিরাকেও তা করাতে পারি আমি খুব খুশী হব”

নতুন মা রাণী বলেন, “নিশ্চয় সময়ের সাথে আদিরাও যদি তাই করে আমি খুবই খুশী হব। আমাদের পুরো পরিবার এই অনুষ্ঠানে এক জায়গায় জড় হয় সেটা একটা বড় ব্যাপার”।

“আমার মনে হয় না আদিরা এরকম আর কিছু অনুভব করবে”

রাণী এখন এক ফিল্মের শুটিং করছেন, তিনি এও জানালেন যে যদিও তিনি চান যে আদিরাও তার ছোটবেলায় সে সব উপলব্ধি করুক যা তিনি নিজে তার ছোটবেলায় করেছেন, তিনি জানেন সেটা সম্ভব নয়।

“আমাদের ছোটবেলায় সব কিছু নির্ভেজাল ছিল। এখন এই ব্যাপারটা যে আমরা দুর্গা পূজো দেখতে গেলাম সেটাও পেপারে ছাপে। আমি যদি পূজো করি ক্যামেরা সর্বক্ষণ আমার পেছনে লেগে থাকে। তাই আদিরা আমার মত ছোটবেলা পাবে না, কারন সে যখন প্যান্ডেলএ যাবে সে অনেক বেশী গুরুত্ব পাবে যা আমরা ছোটবেলায় পেতাম না। আপনি যদি সবার মধ্যে একজন হন আপনার অভিজ্ঞতা আলাদা হবে”, বলেন রাণী যে শুটিংএ তার মেয়েকে সাথে নিয়ে যান।

চাকুরিরতা মা হবার ব্যাপারে রাণী বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত যে আমি একটা ছবি শেষ করলাম আদিরাকে আমার সাথে নিয়ে, এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এই ছবিটা খুবই স্পেশাল শুধু এই জন্যে নয় যে এটা আমার মা হবার পর প্রথম ছবি, কিন্তু এই ছবির বিষয় খুব সংবেদনশীল এবং প্রাসঙ্গিক”।

তিনি এমন এক কাজে আছেন যে তিনি তার সন্তানকে সাথে নিয়ে কাজে যেতে পারেন, কিন্তু আমরা সবাই এটা পারিনা। তাই আপনি যদি এক ছোট বাচ্চার মা তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হল সাহায্য চাওয়া।

৩ টি কারন যাতে ন্যানি বা হেল্প রাখা আপনাকে আরাম দেবে

  • আপনি আরাম করার সময় পাবেন – আমরা অনেকেই ন্যানি রাখি এতে লজ্জিত হবার কিছুই নেই। ভেবে দেখুন আপনি যদি কিছুতা আরামা করার সময় পান এবং অন্য কেউ আপনার বাচ্চার ন্যাপি বদলে দেয় এবং তাকে পরিষ্কার রাখে তবে আপনি বাচ্চাকে বোঝার বেশী সময় পাবেন এবং তার ন্যাপি ধুতে ব্যাস্ত থাকবেন না।
  • নিজেকে অন্য কারুর সাথে তুলনা করবেন না – আপনার শাশুড়ি বা মা বা বন্ধুরা যদি বলে যে তারা সব কিছু নিজেই করেছে, তবে টা শুনে আপনি নিজেকে দোষ মনে করবেন না। এটা তাদের নির্ণয় কিন্তু আপনার নিজের অবস্থা বিচার করার অধিকার শুধু আপনার। মনে রাখবেন একা সবকিছু করার চেষ্টা করে পড়ে কান্নাকাটি করা ভাল বিবেচনা নয়।
  • নিজের সম্পর্ককে গড়ে তুলুন – অনেক নতুন মায়েরাই মনে করে যে এবার আমার সন্তানই সব। আমার বন্ধু, এবং আত্মীয়ের দরকার নেই। কিন্তু এটা একেবারেই ঠিক নয়। আপনার জীবন পুরোপুরি আপনার সন্তানকে সমর্পণ করবেন না। কারন আপনি নিশয় চাইবেন যে আপনার সন্তান হোক স্বাধীন এবং স্বয়ং সম্পূর্ণ নাকি আপনার আঁচল ধরে থাকা।

Written by

theIndusparent

app info
get app banner