দুধের জোগান কম: কেন আপনি এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এখানে দেওয়া হল

কম দুধ জোগানের অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু কারণটি জানলে এবং অনেক আগে থেকে এর ওপর কাজ করলে আপনার শিশুর সাথে সাথে আপনিও উপকার পাবেন।

দুধের জোগান কম হওয়ার অনেক কারণ আছে। ফর্মুলার বেবিফুড খাওয়ানো, কম পুষ্টি, অপর্যাপ্ত গ্ল্যান্ডুলার টিস্যু এবং আগের কোনও অসুখই হল এর মধ্যে কয়েকটি। কিন্তু এতে চিন্তিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

আশার কথা হল যে সঠিক তথ্য এবং সহায়তা দ্বারা আপনি আপনার স্তনদুগ্ধের জোগান বাড়াতে পারেন। যদিও কিছু ক্ষেত্রে, নতুন মায়ের বুকের দুধের জোগান বাড়াতে ডাক্তারি সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে বা এমনকি রিল্যাক্টেশনও করাতে হতে পারে।

এই প্রবন্ধে আমরা দুধের দুধের জোগান কম হওয়ার কারণগুলি সন্ধান করব, সঠিক কতটা দুধ হওয়া দরকার এবং দুধের জোগান বৃদ্ধির উপায় খুঁজে বের করব।

দুধের কম জোগান: কেন আপনার শিশুকে সঠিকভাবে খাওয়াতে পারেন না!

low milk supply

এমন কয়েকটি কাজ, যা আপনি করছেন তার ফলে আপনার দুধের জোগান কম হয়ে যেতে পারে। আপনি হয়তো সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না অথবা সম্ভবত আপনার শিশুটি সঠিকভাবে স্তনবৃন্ত চুষতে পারছে না। আপনার শিশুকে ফর্মুলা বেবিফুড খাওয়ালে বা মায়ের কোনও চিকিৎসাজনিত সমস্যা থাকলেও দুধের জোগান প্রভাবিত হবে।

এগুলি শুধুমাত্র কয়েকটি কারণ। আসুন, কিছু সাধারণ সমস্যাগুলির দিকে নজর রাখি যার জন্য দুধের জোগান কম হয়ে যেতে পারে।

১। দুধ আসতে দেরী হওয়া

অনেক নতুন মায়েদের স্তনে দুধ আসতে তিন দিনের বেশি সময় লাগতে পারে। তাই দুধ যখন ধীরে ধীরে বা দেরীতে আসে, তখন এটিকে ডাক্তারি পরিভাষায় দুধের বিলম্বিত আগমন বা ডিলেড ল্যাক্টেশন বলা হয়।

কিন্তু শুধু দেরীতে আসা মানে এই নয় যে সর্বদা আপনার দুধের জোগান কমই থাকবে বা একেবারেই থাকবে না। যাইহোক, এটি দুধের জোগান কম হওয়ার প্রাথমিক কারণ।

অধিকাংশ সময় দুধ দেরিতে এলে নতুন মায়েরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। মানসিক এই চাপের ফলেও দুধের প্রবাহ এবং গতি কম হয়ে যেতে পারে এবং এভাবে চক্রটি চলতে থাকে।

একজন ল্যাক্টেশন বিশেষজ্ঞের সাহায্যে এবং আপনার খাদ্যতে স্তনদুগ্ধ বাড়ানোর উপযোগী খাদ্য যোগ করে আপনি স্বাভাবিক দুধের জোগান ফিরে পেতে পারেন।

২। সম্পূরক খাওয়ানো

আপনি যদি সঙ্গে ফর্মুলা বেবিফুড খাওয়াচ্ছেন, তাহলে সম্ভবত আপনি নিজেই আপনার দুধের জোগান কমাচ্ছেন। প্রতিবার যখন আপনি আপনার শিশুকে কোনও সম্পূরক খাওয়াচ্ছেন, ততবার আপনার স্তনদুগ্ধের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

কিছু ক্ষেত্রে আপনার বাচ্চার সম্পূরক প্রয়োজন হতে পারে। যদি শিশুটির জন্ডিস হয় বা প্রসবের পর আপনার দুধ খুব দেরী করে আসে তাহলে এমন হতে পারে। অথবা আপনার দুধের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে এবং আপনার শিশুর ওজন বাড়া বন্ধ হয়েছে।

এইসব ক্ষেত্রে, আপনার দুধের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য হাতে চাও দেওয়া বা পাম্প করে দেখতে পারেন।

৩। শিশু পান করছে না

কখনও কখনও, যদিও আপনার ছোট্টটি আপনার স্তনবৃন্ত ধরে রাখে, তার মানে এই নয় যে সে আসলে দুধ খাচ্ছে। শিশুরা অনেক সময় স্তনবৃন্ত মুখে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

তিনি খাচ্ছে কিনা, তা বোঝার সবচেয়ে ভাল উপায় তার ঢোক গেলার শব্দ খেয়াল করা। সে সক্রিয়ভাবে দুধ খাচ্ছে কিনা বোঝার জন্য তার চোয়াল লক্ষ্য করুন। এছাড়াও তার পটি লক্ষ্য করুন এবং তার ওজন বাড়ছে কিনা সেটা নিরীক্ষণ করতে ভুলবেন না।

বাচ্চার দুধ না খাওয়ার অন্য কারণগুলি তার অসুস্থতা হতে পারে, আপনার বুকের দুধের স্বাদে পরিবর্তন হতে পারে বা তার আবদ্ধ জিভ হতে পারে।

৪। শিশুর বোঁটা ধরা দুর্বল

আপনার শিশুর সঠিকভাবে বোঁটা ধরাতে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন স্তন্যদানের অবস্থান নিয়ে দেখুন।

আমাদের পূর্বের নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, "আপনার বাচ্চাটি কোন অবস্থানে সঠিকভাবে স্তনবৃন্ত ধরতে পারছে, তা জানার জন্য আপনার ল্যাকটেটিং কনসালট্যান্টের সাথে পরামর্শ করুন। নানারকম অবস্থান নিয়ে দেখুন যে ঠিক কোন অবস্থানে সে সঠিকভাবে স্তনবৃন্ত ধরে দুধ টানতে পারছে। এটা কি দোলনার মতো রাখা, না রাগবির মতো রাখা বা ক্রস ক্র্যাডেলে ধরলে সে বেশী আরামে টানতে পারছে।"

আপনি ঘুমন্ত বোঁটা ধরাও চেষ্টা করতে পারেন, যেখানে শিশু ঘুমন্ত অবস্থাতেও বোঁটা মুখে নিয়ে চোষে। এর জন্য, আপনি তাকে আপনার পূর্ণ স্তনের কাছে এনে তাকে স্তন্যপান করতে পারেন। আরও ভাল হয় যদি আপনি শুরুতেই (দুধের) প্রবাহ হাত দিয়ে স্তন মর্দন করে নেন।

ভালভাবে কিভাবে স্তনবৃন্ত ধরাবেন তা বুঝতে নীচের এই ভিডিওটি দেখুন।

 

 

৫। স্তনের অস্বাভাবিক শারীরিক অবস্থান

যেমন আগে উল্লেখ করা হয়েছে, আপনার নিজের দৈহিক গঠনতন্ত্র দুধ কম জোগানের একটি কারণ হতে পারে। আপনার ওলটানো স্তনবৃন্ত, সমতল স্তনবৃন্ত বা খুব লম্বা, বড় এবং আলাদা আকৃতির স্তনবৃন্ত থাকতে পারে। অথবা আপনার ত্বকে আঁচিল বা দু'টি স্তনবৃন্ত থাকতে পারে যা আপনার শিশুর বোঁটা ধরাকে বাধা দেয়।

আপনি স্তনবৃন্ত যদি ফেটে গিয়ে থাকে, তাহলে হয়তো আপনার ক্ষতচিহ্ন হয়ে থাকতে পারে। বা আপনার স্তনবৃন্তের ছিদ্র বন্ধ থাকতে পারে। যে কোন দৈহিক পরিবর্তন যা স্তন ও শিশুর মুখের মধ্যে একটি অসমঞ্জসতা সৃষ্টি করে তা দুধের জোগান কম করতে পারে।

সাধারণত, মা এবং শিশু ক্রমাগত সাহায্য এবং পাম্পিং করে এই সমস্যা দূর করতে পারে।

৬। অপর্যাপ্ত গ্ল্যান্ডুলার টিস্যু

কম দুধ জোগানের অন্য একটি সম্ভাব্য কারণ হল ইনসাফিসিয়েন্ট গ্ল্যান্ডুলার টিস্যু (আইজিটি)। এই সমস্যায় সব রকম দুধ আনার পদ্ধতি প্রয়োগ করার পরও দুধ আসে না।

low milk supply

আইজিটিকে কখনও কখনও প্রাথমিক স্তন্যদান ব্যর্থতা, হাইপোপ্লাস্টিক স্তন বা ফেইলড ল্যাক্টোজেনেসিস বলা হয়। এই সমস্যাটি হতে পারে যদি আপনার স্তন খুব ছোট এবং দূরে দূরে থাকে বা আপনি স্তন ছোট করিয়ে থাকেন।

আপনার স্তন নলাকৃতি হলে, হরমোনজনিত সমস্যার কারণে, অথবা বয়ঃসন্ধিতে কিংবা গর্ভাবস্থার সময় আপনার স্তন বড় না হলেও এরকম হতে পারে।

৭। স্তনে অস্ত্রোপচার

আপনার স্তনে অস্ত্রোপচারের ফলে গ্ল্যান্ডুলার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আপনার দুধের জোগান কম হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্তন বড় বা ছোট করার জন্য, স্তন পুণঃস্থাপনের জন্য, বায়োপসি বা লাম্পেক্টমির (অস্ত্রোপচার করে মাংসপিন্ড বাদ দেওয়া) জন্য অস্ত্রোপচার।

একটি ফোঁড়া বিচ্ছুরিত হবার কারণে, বুকে আঘাত লাগার জন্য, বুকে পুড়ে গেলে বা সংক্রমণ হলেও এমনটা হতে পারে। উপরন্তু, স্তন বড় হবার সময় কোনও সমস্যা হলে বা এমন অস্ত্রোপচার যা পিটুইটারি গ্রন্থি এবং মগজকে প্রভাবিত করে, এইসব ক্ষেত্রেও দুধের জোগান কম হতে পারে।

৮। হরমোনের রোগ

অন্তঃক্ষরণ বা হরমোন ঘটিত রোগগুলি্র জন্যও দুধের জোগান ঙ্কম হতে পারে। এছাড়াও, যদি গর্ভবতী হওয়ার জন্য আপনার ফারটিলিটি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে থাকে বা আপনি হরমোনের সমস্যায় ভোগেন, তাহলেও এটি দুধের জোগানে সমস্যা হতে পারে।

আপনি নিম্নলিখিত হরমোনের ভারসাম্যহীণতা পরীক্ষা করতে চাইতে পারেন:

  • পলিিসস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পি.সি.ও.এস)। এটি একটি বিপাকীয় অবস্থা যাতে নারীদের পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় থাকে, যেখানে ডিম্বাশয়গুলি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী এন্ড্রোজেন (পুরুষ) হরমোন উৎপাদন করে। এই হরমোনগুলির উচ্চ মাত্রা ডিম্বস্ফোটন এবং দুধ উৎপাদনের সময় ডিমের উন্নয়ন ও নিঃসরণ কে প্রভাবিত করে।
  • ল্যুটিয়াল ফেজে ত্রুটি। এই অবস্থায়, মহিলারা ডিম্বস্ফোটন পর্যায়ের পরে অপর্যাপ্ত প্রোজেস্টেরোন উৎপাদন করে। এটি নারীদের আইজিটি'র সঙ্গে সম্পর্কিত।
  • থাইরয়েড ঘটিত সমস্যাগুলি। আরেকটি সাধারণ সমস্যা যা দুগ্ধ সরবরাহ ব্যহত করে তা হল থাইরয়েড (থাইরয়েড গ্রন্থির অকার্যকারিতা)। এটি অক্সিটোসিন এবং প্রল্যাক্টিন (স্তন্যদান সম্পর্কিত হরমোন) উভয়কেই প্রভাবিত করে। আদর্শগতভাবে, গর্ভাবস্থার আগেই আপনার নিজের থাইরয়েড ঘটিত বিষয়গুলির জন্য পরীক্ষা করানো উচিত।
  • গর্ভবস্থার ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিস। যদি একজন মহিলার ডায়াবেটিস থাকে বা শুধু তার গর্ভাবস্থার সময় ডায়াবেটিস দেখা দেয়, তাহলে তার বুকে দুধ আসা প্রভাবিত হতে পারে। গর্ভাবস্থার আগে, চলাকালীন এবং প্রসবোত্তর পর্যায়ে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা এবং নিয়মিত ইনসুলিন পরীক্ষা করা উচিত।
  • মাত্রাতিরিক্ত ওজন। দেহ ভর সূচক ২৬ এর বেশী দেহের ওজন একজন হবু মায়ের পক্ষে বেশ বিপজ্জনক হতে পারে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসবের পর কম দুধ সরবরাহ সহ শরীরে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে।

৯। ঔষধের ওপর থাকা

হরমোনের ওষুধ, ভিটামিন এবং খনিজ ভালর চেয়ে ক্ষতিই বেশী করে। যখন আপনি স্তন্যদান করছেন তখন এটা আরও বেশী করে সত্যি।

উদাহরণস্বরূপ, গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট এবং জরায়ুর ভেতরে স্থাপিত ডিভাইসগুলি দুধের জোগানকে দুর্বল করে দিতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা যায় যে প্রসবোত্তর টিউবাল লিগ্যাশনও (নালীগুলি সংযুক্ত করা) দুধের জোগানহ কম করতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত ভেষজ ঔষধ যেমন, ঋষি পাতা, পুদিনা বা পার্সলে বুকের দুধ সরবরাহ কম করতে পারে।

উপরন্তু, নিম্ন লোহার মাত্রা এবং গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ (যা রক্তচাপ বৃদ্ধি করে) দুধের সরবরাহ কম করতে পারে।

১০। অন্যান্য কারণগুলি

আরও কয়েকটি কারণ আছে যা দুধের জোগান কম করতে পারে। এগুলি হল, মায়ের বয়স (যদি তার বয়স ৩০ এর শেষের দিকে বা ৪০ বছরের ওপরে হয়), অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান, মারিজুয়ানা ব্যবহার এবং প্রসবোত্তর বিষণ্নতা।

এছাড়াও, আপনার পরিবার থেকে সহায়তা -- বিশেষ করে আপনার সঙ্গী -- স্তন্যদানের সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি এইসব না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি অবিরত নিরুৎসাহিত বোধ করতে পারেন।

এই সমস্ত বিষয়গুলি আলাদা আলাদা বা একসঙ্গে সংযুক্ত হলে আপনার স্তনদুগ্ধের.জোগান কম হতে পারে। তাই যা আপনি এড়াতে পারেন তা এড়ানো সুনিশ্চিত করুন এবং আপনার বুকের দুধের জোগান বাড়াতে আপনার মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করুন।

বুকের দুধের জোগান বাড়াতে আমি কি করতে পারি?

low milk supply

মনে রাখবেন দুধের উৎপাদন প্রায়ই চাহিদা এবং সরবরাহ নীতিতে কাজ করে। যখন আপনার শিশুর দুধের চাহিদা হয়, তখন আপনার শরীর তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য দুধ উৎপন্ন করবে।

তবে, আপনার বাচ্চার চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট পরিমাণে দুধ উৎপন্ন করার জন্য আপনার শরীরে একটা অতিরিক্ত ধাক্কা দরকার।

১। দুগ্ধ সহায়ক

যেমন আমাদের পূর্ববর্তী নিবন্ধে জানিয়েছি, আপনি আপনার খাদ্যে গ্যাল্কটাগগ (স্তনদুগ্ধ সহায়ক) ব্যবহার করে প্রাকৃতিকভাবে দুধ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারেন।

এতে নিম্নলিখিত খাদ্য অন্তর্ভুক্ত আছে:

  • মেথি, যা চায়ের মতো খাওয়া যায়, সাধারণত ভারতীয় মায়েরা বুকের দুধ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করেন।
  • হলুদ গুঁড়ো এবং তুরি পাতা (উভয়ই বাজারে কেনা যায়)।
  • চাইনীজ ভেষজ ডাঙ্গ গুই এবং খেজুরও আপনার দুধের সরবরাহও উন্নত করে।
  • ফিলিপিনা মায়েরা মালাংগে ব্যবহার করেন।
  • সবুজ পেঁপে ও মাছের মাথার স্যুপ এবং মাছের তেলের স্যুপ আপনার খাদ্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি শূকর ট্রটার স্যুপও খেতে পারেন।
  • এছাড়াও বাদাম, আখরোট এবং শুকনো ডুমুরের পাশাপাশি দুধ বাড়ানোর কুকি (এই উপাদানগুলির মধ্যে একটি দিয়ে তৈরী: ঘূর্ণিত ওটস, মদের খামির, মেথি) অন্তর্ভুক্ত করুন।
  • সারা দিন প্রচুর জল এবং তরল পান করুন।

এছাড়াও, আপনি হরমোন থেরাপি এবং পাম্পিং চেষ্টা করতে পারেন। এই দু'টিই আপনার ল্যাকটেশন পরামর্শদাতা দ্বারা প্রস্তাবিত হতে পারে।

২। পাম্পিং

আপনাকে একটি বৈদ্যুতিক স্তন পাম্প ব্যবহার করে পাম্পিং শুরু করতে হতে পারে। একটি ম্যানুয়াল স্তন পাম্প কাজের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। মূলত, আপনাকে প্রতি তিন ঘন্টা অন্তঃর এবং এমনকি রাতেও পাম্প করা উচিত।

পাম্প সেটিংসে গিয়ে কম বা মাঝারি বেগে রেখে পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের জন্য পাম্প করুন। তারপর, একবার স্তন ম্যাসেজ করুন। আবার, পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের জন্য পাম্প করুন এই পুরো প্রক্রিয়া হতে ১৫ মিনিট সময় লাগবে।

এই দু'টি পদ্ধতিই বেশ কার্যকর এবং অধিকাংশ মহিলাদের জন্য কাজ করে। যাইহোক, যেন সর্বোত্তম কাজ করে তার জন্য আমরা আপনাকে আপনার ল্যাকটেশন কনসালট্যান্ট এর সঙ্গে পরামর্শ করতে বলব।

শুধু মনে রাখবেন, কম দুধ জোগানের অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু কারণটি জানলে এবং অনেক আগে থেকে এর ওপর কাজ করলে আপনার শিশুর সাথে সাথে আপনিও উপকার পাবেন। এতে আপনি মানসিকভাবেও সাহায্য পাবেন কারণ, অনেক মহিলারা শুধু স্তন্যপান করানোর অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়ে আফসোস করেন।

আমরা আশা করি এই তথ্য আপনাকে সঠিক দিশানির্দেশ করবে এবং আপনাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পথে ফিরে আসতে সহায়তা করবে।

উৎস: kellymom, breastfeeding.support

theAsianParent Singapore এর অনুমতিক্রমে পুনঃপ্রকাশিত