"তেরী চাড্ডি নাহি উতারি তো মেরা নাম আদিত্য নারায়ণ নাহি"

lead image

যারা, জব কিসিসে প্যার হোতা হ্যায় সিনেমার গোলগাল সুন্দর ছোট্ট ছেলে রূপে আদিত্য নারায়ণকে মনে রেখেছেন, তাদের পক্ষে বিশ্বাস করা শক্ত হবে সে এরকম আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করতে পারে, চীৎকার করে কর্মচারীদের হুমকি দিতে পারে, যাঁরা শুধুমাত্র তাঁদের কর্তব্য পালন করছিলেন।

 

কিন্তু গতকাল রাইপুর বিমানবন্দরে ঠিক এটাই ঘটেছে যেখানে, এই অভিনেতা, আমন্ত্রণকর্তা এবং গায়ক মুম্বাইএর উড়ান ধরার জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন।

 

রিপোর্ট অনুযায়ী, দশেরা উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান করার পর যখন আদিত্য তার এক বন্ধুর সঙ্গে ফিরছিলেন তখন ইন্ডিগো বিমান সংস্থার এক কর্মচারী তাকে বাড়তি মালপত্রের জন্য ভাড়া দিতে বলেন।

 

কিন্তু বিমান সংস্থার নিয়ম মেনে চলার পরিবর্তে আদিত্য তার সামাজিক অবস্থানকে বিশেষাধিকার মনে করে কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার পথ বেছে নেয়। গায়ক বিমান কর্তৃপক্ষের এক অফিসারের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করার সময় শিষ্টাচার বহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করছে বলে ক্যামেরাতে ধরা পড়েছে।

 

বিমান সংস্থার মতে, ঘটনাটি ঘটেছিল যখন আদিত্যকে অতিরিক্ত মালপত্রের জন্য বিমান বিধি অনুযায়ী ১৩০০০ টাকা দিতে বলা হয়েছিল। আদিত্য ১০০০০ এর থেকে বেশি টাকা দিতে রাজি হয়নি। বাদানুবাদ চরমে পৌঁছায় যখন আদিত্য অফিসারকে বলে বসে যে, একবার মুম্বাইয়ে পৌঁছানোর পর অফিসারকে সে দেখে নেবে। এয়ারলাইন্সের রিপোর্টে আরও বলা হয় যে আদিত্য অন্য একজন মহিলা কর্মীর সাথেও অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করে।

 

ভিডিওটি যেহেতু ভাইর‍্যাল হয়ে গেছে, শোনা যাচ্ছে যে আদিত্য ওই অফিসারকে বলছে, "তেরী চাড্ডি নাহি উতারি না ম্যায়নে তো মেরা নাম আদিত্য নারায়ণ নাহি"।

 

এয়ারলাইন অবশ্য তাদের নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করে এবং এই গায়ককে ক্ষমা চাওয়ার পরই বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এই টিভি ব্যক্তিত্বকে প্রায় পুরোে টাকাটাই দিতে হয়েছিল। তিনি ১৩ হাজারের পরিবর্তে ১২ হাজার ৯০০ টাকা পেমেন্ট করেন।

 

যাইহোক, অনেক সময় সেলিব্রিটিদের সন্তানেেরা কিরকম আত্মপরিচয়ের অবাঞ্ছিত উপযোগ করে বসে এবং নিজেদের বিরাট বলে মনে করে, এই ঘটনাটি তার ওপর আলোকপাত করেছে।

 

শিশু মনোবৈজ্ঞানিকদের মতে, যদিও এটি স্পষ্টভাবে সেলিব্রিটি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু অন্যান্য মা-বাবাদের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ যাতে তাঁরা দেখেন যে তাঁদের বাচ্চারা নম্রতাপূর্ণ আচরণ করছে।

 

আপনার বাচ্চারা যে বড় হয়ে অহংকারী এবং উদ্ধত হবে না তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু পরামর্শ

 

যদিও সন্তান পালন একটি কঠোর পরিশ্রমের কাজ এবং আপনার সন্তানেরা যে বড় হয়ে আপনার মনের মধ্যেকার আদর্শ ইচ্ছাগুলির হুবহু প্রতিরূপ হয়ে উঠবে তা নিশ্চিত করার কোনও আগ-মার্ক উপায় নেই, তবুও, সর্বোৎকৃষ্ট মূল্যবোধগুলি আমাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত্ করা, বাবা-মা হিসাবে আমাদের কর্তব্য।

 

বাচ্চাদের উদ্ধত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু উপায় এখানে দেওয়া হল।

 

১। উদাহরণস্বরূপ দৃষ্টান্ত রাখুন : অল্প বয়স থেকে বাচ্চারা বাড়িতে যে আচরণ দেখে, অবচেতম মনে তাই গ্রহণ করে। বাবা-মা হিসাবে, আপনারা যদি বাচ্চাদের সামনে নম্রতা দেখান, আপনারা যখন ভুল করেন আর সেটা মেনে নেন এবং কে ঠিক সেটা প্রমাণ করার জন্য পরস্পরের সঙ্গে তর্কবিতর্ক করেন না, তখনই আপনারা বাচ্চাদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই মূল্যবোধ সঞ্চারিত করছেন যে ভুল করা বা দুঃখপ্রকাশ করা মানে ছোট হয়ে যাওয়া নয়।

 

২। তাদের বিশেষাধিকার উপভোগ করতে দেবেন না : যদিও আমরা আমাদের বাচ্চাদের সারা বিশ্বের নিরাপত্তা দিতে চাই, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে শিশুদের যত্ন নেওয়া আর তাদেরকে অযথা বিশেষাধিকার প্রদান করার মধ্যে পার্থক্য আছে।

 

কিছু পাঠ কঠিনতার সঙ্গেই ভাল শেখা যায় তাই আপনাদের বাচ্চারা বড় হয়ে একআধটা চাকরীর ইন্টারভিউএ প্রত্যাখ্যাত হোক বা তাদের একআধটা প্রতিযোগিতায় হারতে দিন। ব্যর্থতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শেখায় এবং বলে যে তুমি সবার ওপরে নও।

 

৩। আপনার প্রতিপত্তি জাহির করবেন না : আপনি যদি জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হন তাহলে কিছু সামাজিক প্রতিপত্তি আপনি অর্জন করে থাকতে পারেন। কিন্তু কত কষ্ট করে আপনি এই প্রতিপত্তি অর্জন করেছেন তা না বলে আপনি যদি সন্তানদের শুধু আপনার প্রতিপত্তি দেখান, তাহলে সেটা হবে অর্ধ সত্য।

 

কখনো তাদের বিশ্বাস করতে দেবেন না যে, তাদের মা-বাবা কোনও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জানেন বলে তাদের কাজগুলি সহজেই হয়ে যাবে। কঠোর পরিশ্রম করে এই সূর্যালোকে তাদের নিজের অবস্থান অর্জন করতে দিন তাহলেই আপনি তাদের যাত্রাপথে গর্বিত হবেন।

Written by

theIndusparent