জীবনে 'খুঁটি গাড়ার' আগে একটা মজবুত পেশা বেছে নেবার উপজুক্ত করে কেন আমি আমার মেয়েকে গড়ে তুলছি?

lead image

আমাদের মেয়েদের জানা উচিত যে রুজি রোজগার শুধুমাত্র পুরুষের বিশেষাধিকার নয়, মেয়েরাও পরিবারের উপার্জনে অবদানের জন্য সমানভাবে দায়ী।

'পিঙ্ক' সিনেমাটি নারীর অধিকার সম্পর্কিত সব বিষয় নিয়ে সঠিক আলোচনা করছে বলে খবরের শিরোনামে এসেছে। তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কেন মেয়েদের 'না' বলতে শিখতে হবে এবং তাদের নিজস্ব পছন্দগুলির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

প্রতিটি নারীর সুনিশ্চিত ভাবে এরকমই করা উচিত, এক পাঁচ বছর বয়সী কন্যার মা হিসাবে আমার মনে হয় যে শৈশব অবস্থা থেকেই মেয়েদেরকে এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত যাতে তারা জীবনে 'খুঁটি গাড়ার' আগে (বা মেয়ের বিয়ে দেবার - যেমন অনেকে বলে থাকেন) নিজের পছন্দমতো একটা মজবুত পেশা বেছে নেবার সুযোগ পায়।

এইভাবে তারা নিজেরাই যেন বিরাট এই কঠিন পৃথিবীর মুখোমুখি হতে পারে এবং এক আত্মবিশ্বাসী তরুণ মহিলার মতো সিদ্ধান্ত নিতে ও পছন্দ করতে সক্ষম হয়। তাদের জানা উচিত যে ভরণপোষণ এর জন্য অর্থ উপার্জন পুরুষের বিশেষাধিকার নয় - নারীদেরও সমান অধিকার আছে। সে দিন আর নেই যখন নারীদের ভাল গৃহিণী হবার জন্যই প্রশিক্ষিত করা হোতো। আজ নারীদের শেখানো উচিত কিভাবে পুরুষদের তুলনায় তারা ভাল পেশাদার কর্মী হতে পারে। আপনি কি একমত নন?
src=http://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2016/09/Explaining copy 2.jpg জীবনে 'খুঁটি গাড়ার' আগে একটা মজবুত পেশা বেছে নেবার উপজুক্ত করে কেন আমি আমার মেয়েকে গড়ে তুলছি?

ছোট্ট মেয়েটির জানা উচিত যে জীবন সিন্ড্যারেলা এবং তার প্রিন্স চারমিং এর চেয়ে অনেক বড়। প্রিন্স চারমিং সিন্ড্যারেলা কে উদ্ধার করে তার জীবন বাঁচায় এবং একটি বার্তা দেয় যে প্রত্যেক নারীর নিজেকে বাঁচাতে একজন পুরুষ মানুষ দরকার। এই কারণেই আমি এখন থেকে আমার মেয়েকে পাঁচটি প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিচ্ছি:-

১। সে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে

একদিন আমার পাঁচ বছরের মেয়েটি ছুটে আমার কাছে এসে বলল যে সে বড় হয়ে বিয়ে করে থিতু হতে চায়। রূপকথার জগতে বাস করে এমন একটি ছোট্ট মেয়ের কাছ থেকে আর কি আশা করতে পারেন, যে গল্পগুলিতে চরম দুর্দশায় থাকা মেয়েরা, কবে কোন পুরুষ এসে উদ্ধার করবে সেই আশায় বসে থাকে?

আমি যখন তাকে বললাম যে সে যদি চায় তবে পরে বিয়ে করতেই পারে, কিন্তু সে বড় হয়ে কি করতে চায়, সেটাই তার প্রথমে ঠিক করা উচিত। তারপর থেকে আমি প্রায়ই জিজ্ঞাসা করতাম যে সে কি আদৌ ঠিক করল যে বড় হয়ে কি করতে চায়! একদিন সে আমাকে বলল, "মাম্মি, আমি ভাবছি, বড় হয়ে আমি একটা কোম্পানীর মালিক হতে চাই!" আশা করা যাক এটা একদিন সত্যি্ সত্যিই হবে!

২। সে কষ্টার্জিত অর্থের মূল্য বুঝুক

মা হিসাবে আমাদের বাচ্চাকে না বলতে শিখতে হবে, বিশেষ করে যখন তারা একটি খেলনা বা এমন একটি নির্দিষ্ট কিছু কিনে দেবার জন্য ঝোঁক ধরে, যেন সেটি ছাড়া সে বাঁচবে না।

বহুবার আমি আমার মেয়েকে না বলেছি এবং এখন সে জানে যে কোন কোন জিনিষ পাবার জন্য তার সত্যি সত্যি উদ্যমী হওয়া উচিত যেমন, একটা খেলনার চাইতে একটা বই কেনা উচিত কেননা খেলনাটা হয় ভেঙ্গে যায় অথবা দু'দিন পর সে নিজেই এর ওপর উৎসাহ হারায়! অবশ্য কোনো কোনো সময় একটা পুতুল বা গাড়ীর জন্য সে বলতেই পারে কিন্তু অন্য সময় 'না' শোনার জন্য তাকে প্রস্তুত থাকা উচিত।

আমাদের মেয়েদের শেখানো উচিত এমন অন্যান্য বিষয়ে জানার জন্য পরবর্তী পৃষ্ঠায় পড়তে থাকুন!

এবছর তার পঞ্চম জন্মদিনের সময়, আমি তাকে পয়সা জমাবার জন্য একটি পিগি ব্যাংক দিয়েছিলাম এবং তাকে বলেছিলাম যে সে এতে টাকা জমাতে পারবে এবং যখনই সে সত্যিই একটি খেলনা বা কোনো জিনিস কিনতে চাইছে অথচ টাকার জন্য কিনতে পারছে না, তখন সে এই পিগি ব্যাংক থেকে কিছু টাকা নিয়ে কিনতে পারবে। এই কাজে সে সত্যিই এগিয়ে এলো এবং অবশ্যই প্রতি দিন যখন তখন তার মধ্যে একটি করে পয়সা ফেলা শুরু করল। কীভাবে অর্থ সঞ্চয় করা যায় তা শেখার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত উপায়।
src=http://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2016/09/mothers and daughters.jpg জীবনে 'খুঁটি গাড়ার' আগে একটা মজবুত পেশা বেছে নেবার উপজুক্ত করে কেন আমি আমার মেয়েকে গড়ে তুলছি?

3. বিশ্বের মুখোমুখি হবার জন্য ওকে প্রস্তুত থাকতে হবে!

যখন থেকে আমার মেয়ে তার প্রী-স্কুল যাওয়া শুরু করে, তখন থেকেই, আমি তাকে কথা বলতে এবং তার ম্যা'ম কে তার সুবিধে অসুবিধের কথা বলতে উৎসাহিত করেছি, আমি তাকে সতর্ক করে দিয়েছি যে ধীরে ধীরে তাকে নিজের জন্য লড়াই করতে শিখতে হবে আর সবরকম আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে কারন ওখানে 'মাম্মা' থাকবে না।

৪। সে একজন পুরুষের থেকে আলাদা নয়

শেষে, আমি আমার মেয়েকে বোঝাতে চেয়েছি যে সে একজন পুরুষ মানুষ থেকে আলাদা নয় আর তাকে তার মায়ের মতোই পরিবারের জন্য অর্থোপার্জন করতে হবে। আজকের মেয়েদের শেখানো উচিত যে তাদের রান্নাঘর এবং পরিবারের বাইরে একটি জীবন আছে এবং কোথাও লেখা নেই যে তাদের পেছনের সীটেই বসতে হবে, কারণ তারা নারী! আজকের দিনে? এই যুগে? অবশ্যয় নয়!

Source: theindusparent