চিন্তা গ্রস্ত মহিলাদের প্রতি চেতন ভগতের চিঠি আপনার হৃদয় দ্রবীভূত করবে।

নিলস্নের এক রিপোর্ট যা বলেছে যে ভারতিয় নারি সবচেয়ে চিন্তাগ্রস্ত ও পীড়িত। লেখক চেতন ভগত তাই এই চিঠি লেখেন ভারতিয় মহিলাদের প্রতি

নিলস্নের এক রিপোর্ট যা বলেছে যে ভারতিয় নারি সবচেয়ে চিন্তাগ্রস্ত ও পীড়িত। ৮৭ শতাংশ ভারতিয় মহিলা সবসময় চিন্তাগ্রস্ত থাকেন, এবং ৮২ শতাংশ জানান যে তারা আরাম করার সময় পান না।

এই খবরটি প্রকাশ হবার পর চেতন ভগত একটি চিঠি লেখেন। এটা আপনার নিশ্চয়ই পড়া উচিত যদি আপনি সারাক্ষণ ঘর ও কাজ সামলাতে ব্যাস্ত।

তিনি লেখেনঃ

“এটা বিন্দুমাত্র আনান্দজনক নয়। ৮৭ শতাংশ মহিলা সবসময় চিন্তাগ্রস্ত থাকে এটা শুনেই আমার ভীষণ চিন্তা হচ্ছে। এমনকি আমেরিকার মত কাজ পাগল দেশেও চিন্তাগস্ত মহিলাদের সংখ্যা ৫৩ শতাংশ।

এ আমরা কি করছি আমাদের মহিলাদের সাথে? জানি আমি পক্ষপাতী কিন্তু আমি মনে করি ভারতিয় মহিলারা সবচেয়ে সুন্দর। আমাদের মা, বন, মেয়ে, সহকর্মী, স্ত্রী এবং প্রেমিকা - আমরা এদের ভীষণ ভালবাসি। মহিলাদের ছারা আপ্নারা নিজেদের জীবন কল্পনা করতে পারেন?

এবার আমি মহিলাদের পাঁচটি পরামর্শ দেব তাদের চিন্তা কম করতে।

প্রথম, কক্ষনই ভাববেন না যে আপনি দুর্বল। যদি আপনার শাশুড়ি আপনাকে পছন্দ করেন না, তাঁর মত তাঁর কাছেই থাকতে দিন। আপনি আপনার মত থাকুন, সে রকম হবার চেষ্টা করবেন না যেরকম তিনি চান। তিনি আপনাকে পছন্দ করেন না? এটা তাঁর সমস্যা।

দ্বিতীয়, আপনি অফিসে ভাল কাজ করছেন অথচ আপনার বস আপনার কদর করে না - তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলুন, না হলে চাকরি ছেড়ে দিন। প্রতিভাশালী, কর্মনিষ্ঠ লোকেদের কাজের অভাব হয় না।

তৃতীয়, পড়াশোনা করুন, নতুন জিনিশ শিখুন, নতুন বন্ধুত্ব করুন - অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন হন। যাতে আপনার স্বামী যদি কক্ষনও বলেন যে আপনি ভাল স্ত্রী, মা বা পুত্রবধূ নন তাকে বলবেন একটি বৃদ্ধি নিতে।

চার, কখনই এ ভেবে চিন্তাগ্রস্ত হবেন না যে বাড়ি এবং অফিস দুই জায়গার কাজ কীভাবে সামলাবেন। এটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। সুধু এই ভেবে বসবেন না সবকিছুতেই সেরা হবেন। আপনার জীবন একটা পরীক্ষা নয়, আর সত্যি কথা বলতে কেউই সবসময় একশ তে একশ পায়না। আপনি যদি চার রকম পদ রান্না না করতে পারেন তাতে কিছু ক্ষতি নেই, এক রকম খাবার খেয়েও পেট ভরে। ঠিক তেমনই মধ্যরাত্রি অব্ধি কাজ করে প্রমশান পাওয়াটাই জীবনের লক্ষ নয়।

মৃত্যু শয্যায় কেউই তার চাকরির পদ মনে করে না।

পাঁচ, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আনান্য মহিলাদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামবেন না। কেউ বেশি ভাল স্কুল প্রজেক্ট বানাবেই, আবার কেউ না কেউ আপনার চেয়ে ভাল ডায়েট করে ওজন কমাতে সক্ষম হবে।

আপনার প্রতিবেশি হয়ত নিজের স্বামীকে ছয় রকম তরকারি রান্না করে টিফিন দেবে, আপনি যদি টা নাও দেন, তাতে কিছুই ক্ষতি হবে না।

ভাল কাজ করুন সুধু সবসময় রিপোর্ট কার্ড বানাবেন না। পৃথিবীতে কেউই আদর্শ নয়, আর আপনি যদি টা হতে চান, তবে শুধুমাত্র একটি জিনিশই নিশ্চয় পাবেন - চিন্তা।

তাই বুক ভরে নিঃশ্বাস নিন, আরাম করুন। নিজেকে বলুন যে আপনি সুন্দর, ভাল ভাবে কাজ করুন এবং শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করুন।

এটা যদি পানার থেকে কেউ কেঁড়ে নিতে চাইছে তো সে ভুল করছে, আপনি নন। এই পৃথিবীতে আপনি সকলকে খুশি করতে আসেননি। পরবর্তী বার এই সার্ভে তে আমি ভারতীয় মহিলাদের সবচেয়ে ওপরে দেখতে চাই না। আমি তাদের পৃথিবীর সবচেয়ে খুশি হতে দেখতে চাই।

নারিত্ব কে জাগিয়ে রাখু্রু

এই সার্ভের ভয়ঙ্কর উদ্ঘাটন জানার জন্য দ্বিতিয় পাতা পড়ুন

দি নিলসেন সার্ভে

এই গবেষণা পৃথিবীর ৬৫০০ মহিলাদের সার্ভে ক্রে ২১ টি দেশ জুড়ে। এই রিপোর্ট জানিয়েছে যে মহিলাদের প্রধান চিন্তার কারন বাড়ি ও অফিস দু’দিকের কাজ সামলানো।

২৫ থেকে ৫৫ বছরের মহিলারাই “স্ট্রেস” এর প্রধান শিকার। বেশিরভাগই তাদের প্রিয়জনদের চাহিদা অনুযায়ী আদর্শ কন্যা, আদর্শ স্ত্রী বা আদর্শ পুত্রবধূ হবার চেষ্টায় কাবু।  

তার সাথে অবশ্যই এনারা প্রতেকেই নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের কাজে ব্যাস্ত।

এই গবেষণা এটাও জানতাওজে সারা পৃথিবীতেই সব বয়সী মহিলারা ভবিষ্যৎ চিন্তা করেন বেশি। ৩০ বছর বয়সী মহিলারা সবচেয়ে বেশি চিন্তাগ্রস্ত। কারন তার পরিবার নতুন এবং আয় মাত্রা পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছায়নি, এদের জিবনে সবসময়ই রোজকার চাহিদা পূর্ণ করার এক চাপ থাকে।

ভারতীয় মহিলাদের “স্ট্রেস” এর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মত এই

মহিলারা বিকাশশীল ভারতে অর্থনীতি, ইনফরমেশান টেকনোলজি, ফার্মাসেটিকাল গবেষণা, এবং আনান্য বহু উদ্যোগের সমালোচনামূলক অবদানকারী। তাই এদের সবসময় চাপে রাখা কোম্পানিদের জন্য লাভজনক কারন এতে মহিলারা সহজে চাকরি ছারবেন না বা নিজেদের স্বাধীন কাজ করার ইচ্ছে রাখবে না। মহিলাদের কেরিয়ার ঠিক রাস্তায় ধরে রাখলে অর্থনৈতিক সাফল্য লাভ হলে হতেও পারে।” সিল্ভিয়া অ্যান হেউলেট (সেন্টার অফ লাইফ ওয়ার্ক পলিসির প্রেসিডেন্ট) এবং রিপা রাশিদ (ভাইস প্রেসিডেন্ট) জানান হার্ভার্ড বিসনেস রিভিউ এ।

Source: theindusparent