চরম বেদনাদায়ক! রেমন্ডের ডাঃ বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া তাঁর ছেলের জন্য কপর্দকশূন্য হয়ে নিরুপায় ও অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন

lead image

একসময় ডঃ সিঙ্ঘানিয়া ভারতে অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে পরিগণিত হতেন; এবং এখন তিনি বলছেন যে তাঁর ছেলে তার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

আমরা সবাই রেমন্ডের বিখ্যাত বিজ্ঞাপনগুলি দেখতে দেখতে বড় হয়েছি, তাই না? তা যে মানুষটি 'দ্য কমপ্লিট ম্যান' ক্রান্তির সূচনা করেছিলেন তিনি নিজেই এখন একটি অসম্পূর্ণ মানুষে পরিবর্তিত হয়েছেন।

ভারতে অন্যতম ধনীশ্রেষ্ঠ রূপে আবির্ভূত, রেমন্ডের মালিক ডাঃ বিজয়পত সিঙ্ঘানিয়া, যিনি একদা ভারতের বহু বিশিষ্টজনকে পোশাক পরিয়েছেন, তিনিই এখন তাঁর ছেলের জন্য সর্বস্বান্ত হয়ে কোনমতে জীবনধারণ করছেন।

হ্যাঁ, আপনি ঠিকই পড়েছেন।

একাকী ও সর্বস্বান্ত!

যে মানুষটি রেমন্ডকে অভিজাতদের পোশাক কোম্পানি রূপে গড়ে তুলেছিলেন (১৯২৫ সালে মুম্বাইএর ঠানেতে শুরু), তিনি তাঁর ছেলে গৌতমকে সেই কোম্পানির ভারাভার সমর্পণ করে দেন কিন্তু সেই তিনিই আজ একাকী পরিত্যাক্ত অবস্থায় কপর্দকশূন্য হয়ে আছেন।

 

#gautamsinghania #platinumauto #SCC #trike #billionaireclub

A post shared by Sunil Bhatia (@thesupercarsofmumbai) on

ইদানীং ডাঃ সিঙ্ঘানিয়া দক্ষিণ মুম্বাইএর মহার্ঘ গ্র্যান্ড পারাডি সোসাইটির সারিবদ্ধ বাড়িগুলির একটিতে ভাড়াতে থাকেন কিন্তু সম্ভবত এই একটি মাত্র বিলাসিতা করতে তিনি এখন সক্ষম।

একদা সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিটি নিজস্ব ১০০০ কোটি টাকা মূল্যের যাবতীয় শেয়ার তাঁর ছেলে গৌতমকে দিয়ে দিয়েছিলেন। এখন তাঁর আইনজীবী জানাছেন যে ওই ছেলে প্রতিটি পয়সা ডাঃ সিঙ্ঘানিয়ার কাছ থেকে নিংড়ে নিয়ে নিয়েছে, এমনকি তাঁর গাড়ী ও ড্রাইভারকেও কেড়ে নিয়েছে।

"তারা তাকে নিঃশেষ করতে চেষ্টা করছে"

সিনিয়র অ্যাডভোকেট দিনিয়ার মাদন, যিনি ছেলের সঙ্গে মোকদ্দমায় ৭৮ বছর বয়স্ক প্রাক্তন শিল্পপতির প্রতিনিধিত্ব করছেন, তিনি একটি দৈনিককে বলেন, "তারা এখন তাঁকে (ডাঃ সিঙ্ঘানিয়া) নিঃশেষ করার চেষ্টা করছে। তাঁর সমস্ত সুযোগ সুবিধা, যেমন ড্রাইভার সহ গাড়ী - কেড়ে নেওয়া হয়েছে।"

মাদন আরও বলেন যে গৌতম "সবকিছু থেকেই তাঁকে তাড়িয়ে দিতে চাইছে"।

 

A post shared by Shruti S Baug ? (@shrutibaug) on

"এই ধরনের মামলা আদালতে আসাই উচিত ছিল না"

গৌতম তার বাবার কাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া ছাড়াও ডঃ সিংহানিয়া মুম্বাইয়ের এক গগনচুম্বী অট্টালিকায় দুটি তলার জন্য মামলা লড়ছেন। মুম্বাইয়ের মালাবার হিলের জে কে হাউস নামের এই বাড়িতে ডঃ সিঙ্ঘানিয়া এবং তার পরিবার এবং তাঁর পরলোকগত ভাইএর স্ত্রী ও তাদের দুই পুত্রের মধ্যে ভাগ হওয়া উচিত।

কিন্তু ডঃ সিঙ্ঘানিয়ার দাবীর সপক্ষের উকিলেরা দাবি করেছেন যে গৌতম চারটির সবকটি ড্যুপ্লেক্সই দখল করে নিয়েছে (তার পরামর্শদাতারা আদালতের বাইরেও এটির বিরুদ্ধে লড়াই করছে)। আশ্চর্যজনকভাবে, ব্যাপারটি যখন আদালতে বিচারাধীন, বিচারক গিরিশ কুলকার্ণি উভয় পক্ষকেই ধমক দিয়েছেন।

"এই ধরনের মামলা আদালতে আসাই উচিত নয়।  এটির মীমাংসা নিজেরাই করা উচিত ছিল," আদালতের অভিমত।

এই যুদ্ধের ফলাফল দেখা এখনও বাকী, কিন্তু এই বিখ্যাত বাবা-পুত্রের মধ্যে সংঘর্ষ আমাদের সমাজের অবস্থা সম্পর্কে একটি কঠোর ঈঙ্গিত।

ভারতও দ্রুতগতিতে বুড়ো হচ্ছে

সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে আমাদের দেশের ১২১ কোটি জনসংখ্যার ৮.৬ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং সংখ্যাটি আরও বাড়ছে।

প্রকৃতপক্ষে, পরিসংখ্যান মন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৬০-এর বেশী বয়সীদের জনসংখ্যা বেড়ে  ৩৫.৫% হয়েছে - ২০০১ সালে ৭.৬ কোটি থেকে বেড়ে ২০১১ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১০.৩ কোটিতে।

এই সংখ্যাগুলি নিশ্চিতভাবে আমাদের আমাদের তরুণ প্রজন্মকে প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সমালোচনার সম্মুখীন করেছে এবং তাদের এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। আর আমাদের ভোলা উচিৎ নয় যে এনারা তাঁদের নাতিনাতনির চমৎকার বন্ধু হতে পারেন।

৩ টি বিষয় শুধু দাদু-দিদারা শেখাতে পারেন

  • তাঁদের একটি আবেগপূর্ণ সম্পর্ক আছে : যদিও বাবা-মা তাঁদের বাচ্চাদের মানসিক সহায়তা দেন এবং তাঁদের মা-বাবা বাচ্চাদের দেখাশোনা করুক, এটা না চাইতেও পারেন, কিন্তু একথা অনস্বীকার্য যে একটি শিশু যে পরিমাণ স্নেহ এবং নিরাপত্তাবোধ তাদের দাদু-দিদার কাছে পেতে পারে তা কোনও আয়া বা শিক্ষিকার কাছ থেকে পেতে পারে না। মা-বাবাকে অনেক সময়ই কড়া বা নিয়মনিষ্ঠ হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং শিশুরা তাদের সব ভাবনা তাঁদের না জানাতেও পারে কিন্তু দাদু-দিদার কাছে তারা অনেক স্বচ্ছন্দ থাকতে পারে।
  • তারা আরও স্বচ্ছন্দ থাকে : যেহেতু এই পৃথিবীতে তাঁরা অনেককিছু দেখেছেন, সুদীর্ঘ জীবনকালের অভিজ্ঞতায় দাদু-দিদারা অল্পেই কাতর হয়ে পড়েন না বা ঘেমেনেয়ে একসা হয়ে যান না। এই ঠান্ডা মেজাজ একমাত্র দাদু-দিদার কাছ থেকেই শিশুরা পেতে পারে। দাদু-দিদারা তাঁদের নাতিনাতনিকে একটি উদার দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারেন যা শিশুদের তাদের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে।
  • তাঁরা সর্বদা সময় দিতে প্রস্তুত : বাড়িতে দাদু-দিদা থাকার সবচেয়ে বড় লাভ সম্ভবত এটাই যে তাঁরা তাঁদের নাতিনাতনিকে আনন্দের সঙ্গে অপার সঙ্গ দিতে আগ্রহী। যেখানে আজকালকার অধিকাংশ মা-বাবাকেই কর্মক্ষেত্রে প্রাণিপাত পরিশ্রম করতে হয়, শুধুমাত্র তাঁরা চাইলেই তাঁদের বাচ্চাদের অত্যন্ত আদরের সঙ্গে দাদু-দিদারা দেখাশোনা করতে পারেন। আর তাহলে শিশুরা এক আন্তরিক স্নেহ ও ভালোবাসার পরিবেশে বড় হয়ে উঠতে পারবে।