কেন ৭ বছর বয়সী গজল যাদবের বিষয়ে প্রতিটি মা-বাবার অবশ্যই জানা উচিত, যে ক্যারাটে ক্লাসের পর স্কুলেই মারা গিয়েছিল!

lead image

আমার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে আমি পড়ার টেবিলে বসে ছিলাম।  সে তার হোম ওয়ারক শেষ করছিল আর আমি কিছু ব্রেকিং নিউজে চোখ রেখেছিলাম, যা আমরা অবসর সময়ে করে থাকি।

হঠাৎ এই মর্মান্তিক খবরটি পেয়ে আমার দেহ যেন অসাড় হয়ে গেল। যা পড়ছি তা যেন বিশ্বাস করতে পারছিনা - হঠাৎ মেয়েকে বলে উঠলাম, "যখনই তোমার কোথাও আঘাত লাগবে, সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষককে বলবে, বেশী বা কম - আঘাত যেমনই হোক না কেন!"

হ্যাঁ, এই ঘটনা গজল যাদবের সঙ্গে ঘটেছিল, গ্রেটার নয়ডার দিল্লী পাবলিক স্কুলের সাত বছরের ছাত্রী, যে আবার ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নও ছিল।

২ রা ফেব্রুয়ারি স্কুলে ক্যারাটে অভ্যাসের সময় তার মাথায় চোট পেয়ে সে অচৈতন্য হয়ে পড়ে যায়।  খবরে বলল যে অত্যধিক রক্তপাত হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথেই সে মারা যায়।  

মা-বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ করেছেন

মা-বাবার মনে হয়েছে যে, তাঁদের মেয়ে মাথা ব্যাথার কথা বলার পরেও স্কুল কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি এবং এই অবহেলার কারণেই তাঁদের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।  গজলের বাবাকে স্কুল থেকে মেয়েটির মাথা ব্যাথার খবর দিয়ে তাকে বাড়ী নিয়ে যেতে বলা হয়।

কিন্তু, অফিসে থাকার জন্য তিনি সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন নি।  আধ ঘন্টা পরে তিনি আবার একটি কল পেয়েছিলেন।  "আধ ঘন্টা পরে আমি আরেকটি ফোন পেলাম। স্কুল কর্মকর্তারা আমাকে জানালেন যে গজলের নাক থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং তাকে কৈলাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে,"  যাদববাবু বললেন।

যাদব বলছেন যে স্কুলে ক্যারাটে প্রশিক্ষণের সময় গজলের চোট লেগেছিল, কিন্তু এটা আশ্চর্যজনক যে স্কুলে কোন চিকিৎসার নিরাপত্তা বা সুবিধা নেই।

"স্কুল থেকে প্রথমে ছাত্রীটির মা কে ফোন করে, যিনি একজন গৃহবধূ।  প্রথম কলটিতে বলেছিল যে গজলের মাথাব্যাথা করছে (ভুল তথ্য) এবং হয় আপনি তাকে নিয়ে যান নতুবা আমরা তাকে ঘরে পৌঁছে দেব।  ১০ মিনিট পর, তার মা আরেকটি ফোন পেলেন যে সে মাথাব্যথায় ভুগছে এবং আমরা (স্কুল কর্তৃপক্ষ) তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি এবং তার বাবাকে হাসপাতালে আসতে বলেছি। তার বাবা এই খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতাল পৌঁছে ডাক্তারের কাছে  শুনলেন যে তাঁর মেয়ে হাসপাতাল আসার পথেই মারা গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, হাসপাতালে যাওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে তার নাক থেকে রক্ত বেরোতে শুরু করে।"   একটি নেতৃস্থানীয় অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইটকে গজলের কাকা শঙ্কর যাদব বলেছেন।

যেখানে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই কৈলাশ হাসপাতালের এক মুখপাত্র বলেন, "তার মাথায় আঘাত ছিল।  তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাকে বাঁচাবার জন্য  আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।  কিন্তু প্রচুর রক্ত তার শরীর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, আর সেই সঙ্গে আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে।"

সব পিতা-মাতার জন্য শিক্ষা

গজল এর ক্ষেত্রে যা হয়েছে তা আমাদের মতো সব মা-বাবার জন্য স্পষ্টতঃ একটি সতর্কবার্তা যে আমাদের বাচ্চাকে শিখিয়ে দিতে হবে, ছোট-বড়, যে কোনো আগাত পেলে তারা যেন অবিলম্বে সাহায্যের জন্য সচেষ্ট হয়।  এই দুর্ঘটনার পর আমি আমার মেয়েকে নিম্নলিখিত কথাগুলি বলেছি যাতে নিশ্চিতভাবে সে যে কোনও আকস্মিক দুর্ঘটনায় বিপদসংকেত জানায়।  আপনারও উচিত নিজের বাচ্চার সাথে এগুলি আলোচনা করা।

১। যখনই কোনও আঘাত লাগবে, এক ছুটে শিক্ষকের কাছে যাবে এবং কখনওই ভাববে না যে এটা মামুলি চোট।  ছোট চোট থেকেও অনেক বড় সমস্যা হতে পারে।

২। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করার সময় কখনও কাউকে আঘাত করবে না বা মারামারি করবে না।  তোমার বন্ধুদেরও এসব করতে নিষেধ করবে আর কেউ যদি স্কুলে তোমাকে ইচ্ছে করে মারে, শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানাবে।

৩। তোমার বন্ধুদের খেয়াল রাখবে আর যদি তোমার মনে হয় যে কেউ অসুস্থ বা কেউ যদি তার শরীর খারাপের কথা বলে, সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষককে সে কথা জানাবে।

৪। কখন শিক্ষক তোমার কাছে আসবে, তার জন্য অপেক্ষা কোর না।  তাঁর কাছে বা তোমার কাছাকাছি আছেন এমন কোনও স্কুল কর্মচারীর কাছে ছুটে যাবে।

৫। তাঁরা যদি তোমাকে অপেক্ষা করতে বলেন আর তোমার মনে হয় যে তুমি খুবই অসুস্থ, তাঁদের বার বার বলতেই থাকবে।  যতক্ষণ না তাঁরা সাহায্য করছেন, ততক্ষণ চুপ করে থেকো না।

৬। তোমার মা ও বাবার ফোন নম্বর মুখস্থ করে রাখবে আর শিক্ষককে বলবে কোনও একজনকে ফোন করতে।  তাঁকে জানাও যে তুমি মা-বাবার ফোন নম্বর জানো, যাতে তাঁরা স্কুল রেকর্ড থেকে নম্বর খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট না করেন। 

৭। যদি তোমার মামুলি চোট লাগে, বাড়ীতে এসে মা-বাবাকে সেই আঘাতের কথা জানাবে যাতে নিশ্চিতভাবে সেটা তাড়াতাড়ি সেরে যায়।

Source: theindusparent.com