কিভাবে মারধর না করে একটি শিশুকে নিয়মানুবর্তী করা যায় - ৫ টি সময় পরীক্ষিত উপায়

lead image

একটি শিশুকে মারধর না করে কিভাবে শৃঙ্খলাপরায়ণ করে গড়ে তোলা যায় তার জন্য অনেক কার্যকর উপায় আছে - এমনকি মাথামোটা শিশুদের জন্যও।

শ্রেষ্ঠ সন্তান পালনের কৌশল এবং পাকা হাতে লালন করা সত্ত্বেও, এমন সময় আসে যখন এমনকি সবচেয়ে সুষম বাবা-মা পর্যন্ত দুরন্ত শিশুদের সামলাতে পারে না।

পাপবোধ, অনুশোচনা, রাগ এবং চাপ - বাচ্চাকে চড় মেরে বা কোনও শারীরিক শাস্তি দিয়ে শাসন, মায়ের হৃদয়কে আবেগের এক সুতীব্র প্রবাহে ভাসিয়ে নিয়ে আসে! প্রকৃতপক্ষে, একটি বাচ্চাকে শাসন করে নিয়মনিষ্ঠ করে গড়ে তোলার পুরো প্রক্রিয়াটাই শিশুটির চেয়ে তার বাবা-মার জন্যই বেশি চাপযুক্ত।

সৌভাগ্যবশত, সন্তানপালনের জন্য বাবা-মা'র অন্যান্য সব বিশিষ্ট সমস্যার মতো, এটিরও একটি সমাধান আছে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিও সঠিক মানসিক গঠন এবং সামান্য দূরদৃষ্টি থাকলে সমাধান করা যেতে পারে। পাঁচটি কালোত্তীর্ণ এবং পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত উপায়ে কিভাবে একটি শিশুকে আঘাত না করে নিয়মানুবর্তিতার বার্তাটি তার মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, এখানে পড়ুন।

না মেরে কিভাবে বাচ্চাকে নিয়মনিষ্ঠ করবেন

১।  শাসনে বিরতি নিন

src=https://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2016/04/o MOTHER HITTING facebook.jpg কিভাবে মারধর না করে একটি শিশুকে নিয়মানুবর্তী করা যায়   ৫ টি সময় পরীক্ষিত উপায়

এমনকি শ্রেষ্ঠ বাবা-মায়েরাও প্রায়ই পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হন। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে সময় নিন। সময় নেওয়া মানে কিছুক্ষণের জন্য আপনার সন্তানের সাথে কথাবার্তা ও যোগাযোগ বন্ধ রাখা। এখানে উদ্দেশ্য হল, বাবা মা এবং সন্তানকে আলাদা করা যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়।

আপনার যখনই মনে হবে যে এবার আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে প্রয়োগ করার জন্য এখানে কিছু কার্যকর কৌশল দেওয়া হল :

  • কয়েক মিনিটের জন্য আপনার সন্তানের থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
  • কিছুক্ষণের জন্য নীরবতা বজায় রাখুন এবং তারপর অন্য কোনও কাজ শুরু করুন।
  • আপনার সন্তানকে পাঁচ মিনিটের জন্য ঘরের কোণায় থাকার জন্য নির্দেশ দিন।
  • আপনার অনুভূতি লিখে ফেলুন।

2. কার্য্যকরী শাস্তি দিন

উদাহরণ স্বরূপ, আপনার সন্তান যদি সাইকেল চালাতে খুব পছন্দ করে, তার দোষের জন্য সঠিক শাস্তি হল তাকে কয়েক দিনের জন্য সাইকেল চালাতে দেবেন না। এটা যে কোনও শারীরিক শাস্তির তুলনায় ভাল কাজ করবে।

3. আপনার শিশুকে লিখতে দিন

কার্যকরী যোগাযোগের আশ্চর্যজনক প্রভাব হতে পারে, এমনকি ছোট শিশুদেরও। বাচ্চাদের খুব অল্পবয়সেই একটা সুশৃঙ্খল যুক্তিবোধ গড়ে ওঠে। একবার কোনও দোষ করার পর আপনার সন্তানকে বসে বসে একটা ক্ষমা প্রার্থনা লিখতে বলুন। লিখতে তার কষ্ট হবে কিন্তু আপনাকে দৃঢ় হতে হবে। যখন সে ক্ষমা চেয়ে কয়েকটি লাইন লিখে নেবে, তখন সে তার কৃতকর্মের ফল আরও ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হবে।

4. একটি সময়সীমা ধার্য্য করুন

ধরুণ, আপনার সন্তান কোনও দোষ করেছে এবং আপনি আপনার মেজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে চলছেন। শাসনে বিরতির সময়টুকু পার হবার পরে, তার সাথে বসে এবং কথা বলুন। নিজেকে শোধরানোর জন্য তাকে একটা স্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিন। সেই দোষ যদি আবার করে, তবে কোন সুসঙ্গত শাস্তি দেওয়া হবে, সেটা জানিয়ে রাখুন। এরপর, আপনার সতর্কবার্তাগুলি কঠোরভাবে মেনে চলুন এবং আবার দোষ করলে কথিত শাশ্তিটি অবশ্যই দিন।

5. কাজের ভার দিন

যখন আপনার সন্তান দোষ করবে, আপনি তার শক্তিকে বিভিন্ন দিকে বিক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। তাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘরের কাজের ভার দিন, এমনকি যদি সে কাজটি পছন্দ না করে, তবুও! কাজটি করার দুঃখই তার জন্য যথেষ্ট শাস্তি হবে।

Source: theindusparent