কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে গর্ভাধারণের পর সেলুলাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন

ভারতের জনপ্রিয় আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ এবং পদ্মশ্রী প্রাপক, শাহনাজ হোসেন দ্যইন্ডাসপ্যারেন্ট পাঠকদে্র তাঁর সৌন্দর্য প্রজ্ঞা শেয়ার করছেন।

গর্ভাবস্থা একটি মহিলার জীবনে সবচেয়ে বিস্ময়কর পর্যায়ের অন্যতম।  কিন্তু গর্ভধারণের ফলে একটি মহিলার দেহে কিছু পরিবর্তন দেখা দেয় যা প্রায়ই উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে।

এই সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে, গর্ভ পরবর্তী সেলুলাইট।  যাইহোক, সুখের খবর এটাই যে কিছু গার্হস্থ্য চিকিৎসা দ্বারা এর প্রতিকার করা যায় যা আপনি আপনার শত ব্যস্ততার মাঝেও সহজেই করতে পারেন।

সেলুলাইট কি?

সেলুলাইটের সমস্যা মহিলাদের মধ্যেই বেশী দেখা যায় এবং এটি গর্ভাবস্থায় প্রকোপিত হতে পারে।  চর্বি আর সেলুলাইট এক জিনিষ নয় কিন্তু তৃতীয় ত্রৈমাসিকের সময় সচরাচর যে মেদ বৃদ্ধি হয়, তার কারণে সেলুলাইট হতে পারে।

সেলুলিটি কোনও রোগ বা ব্যাধিও নয়, তবে এটি দৈহিক আকারে পার্থক্য সৃষ্টি করে আর তাই অনেকেরই উদ্বেগ হয়।  সেলুলিটি হল "লাম্প" (ডেলা বাঁধা) এর একটি সাধারণ সমস্যা যা সচরাচর উরু, নিতম্ব, বাহুমূলে এবং পিঠের ওপর দিকে দেখা যায়।

গর্ভাবস্থার সময়, পেটেও সেলুলাইট হতে পারে।  সেলুলাইটের আরেকটি নাম "কমলা শিথিল ত্বক" কারণ এই জায়গাটির ত্বক অনেকটা কমলানেবুর খোসার মতো দেখতে লাগে।

সেলুলাইটের কারণ...

সেলুলিটিটি ত্বকের নিচের সূক্ষ্ম গহ্বরগুলিতে জল, চর্বি এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ জমা হওয়ার ফলে সেলুলাইট হয়।  ভাবা হয় যে শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়ার মন্থর গতি এর জন্য দায়ী।  অন্য কথায়, শরীরের বিষাক্ততা এবং সেলুলাইটের মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে।

অজীর্ণতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, লিভার কার্যকারিতায় ত্রূটি, মন্দ রক্ত সঞ্চালন, মানসিক চাপ, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অনিদ্রা এবং বসে থাকা জীবনশৈলী এর অন্যতম কারণ।

সেলুলাইট থেকে পরিত্রাণের প্রাকৃতিক উপায়

সেলুলাইটকে বাড়িতে সারানো যেতে পারে।  অবশ্য পদ্ধতিটি ত্বরাণ্বিত করার জন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে।  এখানে কিছু উপায় দেওয়া হল, যেগুলির ওপর আপনি বিশ্বাস করতে পারেন।

১। ম্যাসেজ

গর্ভধারণের পর প্রতিটি মহিলার আরামদায়ক মালিশের বিলাসিতা উপভোগ করা উচিৎ।  যদি আপনি দেহে জমা চর্বি দেখতে পান, তাহলে রুটিন ম্যাসেজের মাঝে সে ব্যাপারে কাজ করতে হবে।

বলা হয় যে যখন পেশীগুলি শিথিল থাকে সেসময় সেলুলাইটের জায়গাগুলি ম্যাসেজ করা উচিৎ।  দীর্ঘ চাপযুক্ত মালিশ করতে হবে যাতে রক্ত এবং দেহরসের প্রবাহ উদ্দীপিত হয়।  সেলুলাইট প্রভাবিত স্থানগুলিকে

বার বার মোচড় দিয়ে টিপতে হবে আর পরে পরে চাপযুক্ত মালিশ করতে হবে।

  • সেলুলাইটের চিকিৎসার জন্য নিম, অশ্বগন্ধা আর চন্দন তেলের সমাহার, বাদাম, অলিভ এবং তিল তেলের সংবাহক মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • নিম বর্জ্য বিষাক্ত পদার্থগুলি সরিয়ে দিয়ে ত্বককে শোধন করে আর অশ্বগন্ধা টনিক ও উদ্দীপকের কাজ করে।
  • চন্দন দেহ শিথিল করে এবং ত্বককে রক্ষা করে, কারণ এটি একটি শক্তিশালী আন্টিসেপ্টিক ও জীবানু নাশক। পুরো মিশ্রণটি জমাট ত্বকের নিরাময় করে।
  • সংবাহক তেলগুলি স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরে পেতে সাহায্য করে, ত্বক সুসমঞ্জ করে এবং সম্পূর্ণ পুষ্টি জোগায়।

২। স্কিন ব্রাশিং

ত্বক "ব্রাসিং" বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে। মুখ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ দেহ, একটি রুক্ষ কাপড় দিয়ে বা   একটি প্রাকৃতিক পশুলোমের বুরুশ দিয়ে ব্রাশ করা উচিত। পা থেকে শুরু করে উপরে যেতে হবে।

তারপর হাতের নীচ থেকে উপরের দিকে বাহুমূল পর্যন্ত।  কাঁধে এবং পিঠে যান।  বুকে এবং পেটে আলতো করে ব্রাশ করুন।  আপনার স্নানের আগে আপনি নিজে নিজেও এটি করতে পারেন বা কোনও ম্যাসিউরের সাহায্য নিতে পারেন।

৩। জীবনশৈলী পরিবর্তন

আপনার ডাক্তারের নির্দেশিকা অনুসারে, আপনার খাদ্য এবং জীবনশৈলীতে পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করুন।  পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, বিশ্রাম এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্বারাও আটকা পড়া বর্জ্যগুলি মুক্ত করে দেহ থেকে তাদের নিষ্কাশন করতে পারেন।

(শাহনাজ হোসেন দ্যইন্ডাসপ্যারেন্ট এর লেখক জোফিন মকসুদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন)