কিভাবে আমার ৩ বছরেরটি নিজে থেকে লিখতে শিখে নিল

কিভাবে আমার ৩ বছরেরটি নিজে থেকে লিখতে শিখে নিল

অনেক মা-বাবারা চাপে পড়ে তাঁদের বাচ্চাদের সময়ের আগেই জোর করে পড়তে আর লিখতে শেখাতে যান যদিও তারা তার জন্য তখনও প্রস্তুত নয়।

আগেই আমি জানিয়েছি যে কিভাবে আমার ৩ বছরের মেয়ে বাড়িতেই নিজে থেকে পড়তে শুরু করেছিল।

আরেকটা জিনিষ যা পড়ার সাথে সাথে চলে, তা হচ্ছে লেখা, আর হ্যাঁ, সে এটাও খুব আনন্দের সঙ্গে করে। যেমন আমি আগেই বলেছি, আমি খুবই নিরুদ্বেগ মা এবং কখনওই জোর করিনি বা তাদের পড়তে বসতেও বলিনি অথবা তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে হোমওয়ার্ক পড়া মুখস্থ করাইনি। (আমার বাচ্চাদের বয়স এখন ৪ এবং ১০ বছর)।

যাইহোক, আমি দেখেছি যে তাদেরকে পড়াশোনা করতে বলার পরিবর্তে প্রতিদিন নিয়ম করে যে কয়েকটা কাজ আমি করে যাচ্ছিলাম, তার ফলেই উৎসাহিত হয়ে তারা নিজেরা কম বয়সেই পড়তে ও লিখতে শিখে যাচ্ছিল।

কিভাবে আমার ৩ বছরেরটি নিজে থেকে লিখতে শিখে নিল

১। তাকে কখনোই বসে বসে লিখতে বলি নি

লেখা এবং পড়া দুটোই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাতে একটি শিশুকে আড়াই বছর বয়সে পেন্সিল ধরিয়ে লেখা শুরু করায়। বিদেশে বেশিরভাগ দেশই বাচ্চার বয়স ৬ বছর পূর্ণ হলে পরেই লেখা শেখানো শুরু করে!

অনেক মা-বাবারা চাপে পড়ে তাঁদের বাচ্চাদের সময়ের আগেই জোর করে পড়তে আর লিখতে শেখাতে যান যদিও তারা তার জন্য তখনও প্রস্তুত নয়।। স্কুলে যাই ঘটুক না কেন, আমি আমার বাচ্চাদের কখনোই বসে বসে লিখতে বলি নি। আমি ভেবে দেখেছিলাম, যদি আমি তাদের জোর করি তারা ভাববে যে লেখাপড়া করা 'তাদেরকে করতেই হবে' এমন একটা কাজ, আর তাহলে অবশ্যই তারা একাজ করতে উৎসাহ হারাবে।

কিভাবে আমার ৩ বছরেরটি নিজে থেকে লিখতে শিখে নিল

২। দেওয়ালগুলি নোংরা হোক না

বাড়িতে বাচ্চা থাকলে বাড়িটি আগোছালো অথচ আনন্দদায়ক থাকা উচিত, হাসপাতাল বা হোটেলের মতো জীবানুমুক্ত পরিচ্ছন্ন নয়, তাই না? আমাদের বাড়িতে খুব সুন্দর ওয়ালপেপার ছিল কিন্তু তবুও আমি অনুভব করেছিলাম যে বাচ্চারা এর ওপর যা খুশী করে তাদের সৃজনশীলতা দেখাক না।

আমার বাচ্চা ক্রেয়ন তুলে নিয়ে দেওয়ালে একটা অক্ষর লিখছে দেখে যদি আমি তাকে থামিয়ে দিয়ে তার জন্য কাগজ কলম খুঁজতে যাই তাহলে সেখানেই এর শেষ। তাই সবচেয়ে ভাল হচ্ছে তাদেরকে স্বাভাবিক ভাবে দেওয়াল সাজাতে দেওয়া, আর তারা সেটাই করেছিল।

৩। হোমওয়ার্ক একটা অন্য কাজের মতোই

তাঁদের বাচ্চারা পাছে পিছিয়ে পড়ে এই আশংকায় অনেক মা-বাবা হোমওয়ার্কের গুরুত্বের প্রতি খুব বেশী জোর দেন, আর এইভাবে তাঁরা তাঁদের বাচ্চার মনে একধরণের ভীতির সঞ্চার করেন।

আমি জানি যে সময়ের মধ্যে হোমওয়ার্ক করে ফেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটিকে আর একটি মজার কাজ বলে মনে করলে অসুবিধাটা কোথায়?

যখন আমার মেয়ে বাড়িতে এসে দেখায় যে সে ক্লাসে কি কি করেছে, আমি সর্বদা হাসি মুখে প্রচণ্ড উৎসাহ দেখাই। সে শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে আমাকে শেখাতে শুরু করে। আর সে যখন আমাকে দেখায় যে তাকে কি কি লিখতে হবে, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি যে আমি তাকে সাহায্য করব, না কি সে এখন বড় হয়ে গেছে আর নিজেই করতে চায়।

সে সবসময় নিজেই করতে চায়, আর যদিও সর্বদা তা ঠিকঠাক শুদ্ধ হয় না তবুও তা সেরকমই হওয়া উচিত -- কারণ সেটা সে তার নিজের মতো করে করেছে, আমি নয়।

Any views or opinions expressed in this article are personal and belong solely to the author; and do not represent those of theAsianparent or its clients.

Written by

debolina