কাজোল এই কারণে করণ জোহরের সঙ্গে তাঁর ২৫ বছরের বন্ধুত্ব ভেঙ্গে ফেলেন

"পঁচিশ বছর ধরে তাঁর জন্য যে আবেগ আমি অনুভব করতাম তার প্রতিটি টুকরো তিনি বিনষ্ট করেছেন। আমার মনে হয় না যে তিনি আমার যোগ্য ছিলেন।"

বৈবাহিক সম্পর্ক যেভাবে আপনার বন্ধুত্বকে প্রভাবিত করতে পারে তা খুবই বেদন্দায়ক।  কিন্তু কাজোল ও করণ জোহরের মধ্যে কি ঘটেছিল তা জানলে আপনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন!  হ্যাঁ, তাই।

আমরা সবাই জানি যে কাজোল এবং করণ জোহর এই কিছুদিন আগেও অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন, এতটাই যে  কাজোলকে অতিথি শিল্পী না রেখে করণের কোনও সিনেমা মুক্তি পেত না।

মনে রাখবেন, কিভাবে কাজোল কভি অলবিদা না কহনা সিনেমাতে রক অ্যান্ড রোল সোনিয়ে গানের সঙ্গে একটি দু সেকেন্ডের নাচের জন্য ওজন কমিয়েছিলেন এবং স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ারে ডিস্কো গানেও দু সেকেন্ডের জন্য আবির্ভূতা হয়েছিলেন।  করণও সর্বদা স্বীকার করেছেন যে কাজোল তাঁর জন্য এক পয়মন্ত ম্যাসকট এবং তাঁর ও তাঁর সিনেমার জন্য সৌভাগ্য নিয়ে আসেন।

776d1892f60329071c4f9b28cffafb33

কিন্তু কিছু একটা রাতারাতি পরিবর্তিত হয়ে গেল এবং যে বন্ধুত্বকে চিরদিনের বলে মনে হয়েছিল সেটা রুক্ষ পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়ল আর শীঘ্রই দুই বন্ধুকে দূরে সরিয়ে দিল। যখন করণ জোহরের অ্যাই দিল হ্যায় মুশকিল ও অজয় দেবগণের শিবায় একই দিনে মুক্তি পেল তখনই ফাটলের প্রথম লক্ষণগুলি দেখা গিয়েছিল।

প্রকৃতপক্ষে, একটি সিনেমার প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে অজয় দেবগনও এ বিষয়ে কথা বলেছেন।  "আমি তাঁর (করণ) বন্ধু নই। এমনকি কাজোলের সাথেও সমীকরণটি আর ততটা উষ্ণ নয়, যতটা ছিল। এটি একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার ... কোনো পেশাদার কারণে নয়। এটি একটি ব্যক্তিগত বেদনাদায়ক অনুভূতি।  এর মধ্যে বিবাদজনিত কিছুই নেই।  আমি এ সম্পর্কে কথা বলতে চাই না,"  অজয় সেই সময়ে বলেছিলেন।

তবে, কাজোল ও করণ জোহরের অনুরাগীবৃন্দ এখনও আশা রাখেন যে দুজনের মধ্যে আবার কিছু একটা হয়তো কাজ করবে এবং তাঁরা আবার বন্ধু হবেন।  কিন্তু ইদানীং করন জোহর সব আবরণ খুলে দিয়ে  বলে দিয়েছেন যে কাজোলের জন্য তাঁর আর কোনও প্রকার আবেগ নেই। তিনি তাদের বন্ধুত্বের মধ্যে চিড় ধরার কারণও দিয়েছেন, যেগুলি শুনলে সত্যিই আপনার চোখে জল আসবে।  

করণ জোহরের নিজের ভাষায় সেই চিড় ধরার কারণ জানতে পরবর্তী পৃষ্ঠায় পড়া চালিয়ে যান!

করণ জোহরের এখনও প্রকাশিত না হওয়া আত্মজীবনী দ্য আনস্যুটেবল বয় এ করণ বলছেন যে, অজয় দেবগন, তাঁর ও কাজোলের সম্পর্কের মধ্যে একটি ফাটল সৃষ্টি করেছেন এবং তিক্ততা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে কিছুতেই তা আর জোড়া লাগতে পারে না।  

করণের কণ্ঠে তিক্ততা ও রাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, "কাজোলের সাথে আমার আর কোনও সম্পর্ক নেই।  পরিস্থিতি আমাদের মধ্যে গুরুতর প্রতিক্রিয়া ঘটিয়েছে। এমন কিছু ঘটেছে যা আমাকে গভীরভাবে  বিচলিত করেছে।"

করণ আরও বলছেন যে তাঁর ও কাজোলের কখনো কোনও সমস্যা ছিল না। "সমস্যা ছিল তাঁর স্বামী এবং আমার মধ্যে, যে সম্পর্কে কেবল সে জানে, তিনি জানেন এবং আমি জানি। আমি এটাকে তার মধ্যেই রাখতে চাই।  আমার মনে হল, সে যদি ২৫ বছরের বন্ধুত্ব স্বীকার করতে না চায়, যদি সে তার স্বামীকেই সমর্থন করতে চায়, সেটা তাঁরই বিশেষাধিকার। কিছু বাহ্যিক মাপদন্ডে আমি এটা বুঝলাম,"  তিনি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি আরও বলে চলেন যে অ্যাই দিল হ্যায় মুশকিল-শিবায় সংঘর্ষের সময় অজয় দেবগন, করণের ওপর দোষারোপ করেন যে তিনি নাকি এক নগন্য অভিনেতা কামাল আর খান কে টাকা দিয়ে 'শিবায়'র খারাপ সমালোচনা লিখিয়েছেন।  অজয় তাঁর সম্পর্কে কি বলছে না বলছে করণ তার পরোয়া করেন নি, কিন্তু কজোলের এক-শব্দের একটি টুইট সবকিছু নষ্ট করে দেয়।  এটিই সেই টুইট যা কাজোল করেছিলেন।

করণ বলেছেন যে সেই টুইটের আগে পর্যন্ত তাঁর মনে কিছুটা আশা চিল যে আবার হয়তো তাঁদের ভাব হয়ে যাবে, কিন্তু ওই টুইট কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয়।  "যে মানুষটি তাঁকে এত গভীরভাবে ভালবাসত, তার জন্য ওটা খুবই অপমানকর।  এ ব্যবহার আমাকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দেয়।  পঁচিশ বছর ধরে তাঁর জন্য যে আবেগ আমি অনুভব করতাম তার প্রতিটি টুকরো তিনি বিনষ্ট করেছেন।  আমার মনে হয় না যে তিনি আমার যোগ্য ছিলেন"  করণের উক্তি।

বন্ধু এবং পরিবারের মধ্যে সমতা রক্ষা

একজন বিবাহিতা মহিলাকে কিভাবে নিজের প্রাথমিকতাকে পাল্টে ফেলতে হয় এবং কিভাবে নিজের বন্ধু আর পরিবার, বিশেষতঃ স্বামীর মধ্যে একটাকে বেছে নেবার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কাজোল তার নিখুঁত উদাহরণ।  অনেক মহিলাকেই স্বামীর সঙ্গে বিছেদের ভয়ে তাঁদের বন্ধু-বান্ধব ও সামাজিক জীবনকে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে হয়।

অবশ্য কিছুটা সাবধান হয়ে চেষ্টা করলে দুই সম্পর্ককেই অনায়াসে সামলানো যায়।  দুঃখের কথা, কাজোল সে চেষ্টা করেন নি।  আপনার কি মনে হয় যে তিনিও এরকম কিছু করতে পারতেন?  আমাদের জানান।

Source: theindusparent.com