ওড়িশার ভয়াবহতা : '৩ ইডিয়টের' কায়দায় নার্সেরা প্রসব করাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে হত্যা করে ফেলে

lead image

আপনি কি সুপেরহিট সিনেমা ৩ ইডিয়টস দেখেছেন?

যদি দেখে থাকেন, আপনার হয়তো সেই দৃশ্যটির কথা মনে আছে, যেখানে আমির খান (র‍্যাঞ্চো) একটি পিং-পং টেবিলের উপর ভ্যাকুয়াম ক্লীনার দিয়ে শিশু প্রসবের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তাঁর বন্ধু ডঃ প্রিয়া কে (কারিনা কাপুর খান দ্বারা অভিনীত) ডেকে নেন, যিনি তারপর তাঁকে পদ্ধতিগুলির নির্দেশ দিতে থাকেন।

তা, ঠিক এটাই বাস্তব জীবনে উড়িষ্যায় ঘটেছে।

শুধু, এখানে ব্যাপারটা ওই প্রসূতি মা, নবজাত শিশুটি এবং সেই সঙ্গে যে নার্সেরা প্রসব করাবার চেষ্টা করছিলেন, সবার পক্ষেই এক ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হয়।

delivery

রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রাপাড়ার সাই হাসপাতালের তিন নার্স, হবু মা আরতি সামলের উপর সিসারিয়ান সেকশনের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা সামলের বিশেষজ্ঞ, ডঃ রশ্মিকান্ত পাত্রকে ফোন করে পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে।

দুর্ভাগ্যবশত, এই কর্মের ফলটি হল চরম ভয়াবহ, কারণ শিশুটি মারা গেল এবং সামলের জরায়ু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হল।

অপারেশন থিয়েটারের ভিতরে কি হয়ে গেছে তা জানার পরই আরতি সামলের স্বামী কল্পতরু সামাল তাঁর বাচ্চার মৃতদেহ নিয়ে কেন্দ্রাপাড়া থানায় ছুটে যান এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, "যখন আমরা ডঃ রশ্মিকান্ত পাত্রের সাথে যোগাযোগ করি, তখন তিনি আমাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছিলেন। তিনি আমাদের জানান যে তিনি হাসপাতালে উপস্থিত নেই কিন্তু একবার আমরা হাসপাতালে ভর্তি করে দিলে তিনি নার্সদের সাথে সমন্বয় করে যথাযথ যত্ন নেবার বন্দোবস্ত করে দেবেন। অথচ, যখন আমার স্ত্রীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠল, তখনও তিনি এলেন না।"

"আমরা আমাদের প্রথম সন্তান হারালাম"

সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত সামাল আরও বললেন যে তিনি এটাও জানতেন না রুমের ভেতর কে তাঁর স্ত্রীর অপারেশন করছে।

 

"আমি জানিনা যে কে করেছিল কিন্তু আমার স্ত্রীকে অপারেশন করা হয়েছিল এবং আমরা আমাদের প্রথম সন্তানকে হারালাম। আমার স্ত্রীর জরায়ুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই নার্সেরা জানিয়েছেন যে তাঁরা টেলিফোনে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং তাঁরা তাঁদের ১০০ ভাগ দিয়েছেন। ঘটনাটির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা," সামল জানিয়েছেন।

যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও জবাব দেন নি, ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে যে এটি একটিি তড়িঘড়িতে করা সঙ্কটকালীন সীজারিয়ান অপারেশন ছিল, যা আদর্শ পরিস্থিতিতে চরম সাবধানতা অবলম্বন করে করা হয়। কিন্তু, অনেকেই জানেন না যে কেন জরুরী অবস্থায় সি-সেক করা হয় বা, কেন করা উচিত।

এই ঘটনাটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে কেন এই বিষয়টি আরও ভালভাবে বোঝা দরকার।

কেন জরুরী ভিত্তিতে সীজারিয়ান করার প্রয়োজন হতে পারে, এখানে দেওয়া হল

অনেক সময় আপন সীজারিয়ান সেকশন পছন্দ না করলেও কিছু জটিলতার কারণে আপনাকে এই অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এই জটিলতাগুলি নীচে দেওয়া হল।

  • শিশুটি যথেষ্ট অক্সিজেন পাচ্ছে না
  • শিশু বা শিশুগুলি অস্বাভাবিক অবস্থানে আছে
  • প্রসবের অগ্রগতি হচ্ছে না
  • মায়ের গর্ভে দুটির বেশী শিশু আছে
  • আম্বিলিক্যাল নাড়ী ঘটিত সমস্যা আছে
  • জন্মনালীতে ফিব্রয়েড বাধা আছে
  • মা অপ্রতুল প্ল্যাজেন্টো সংক্রান্ত অসুখে ভুগছে
  • জন্মদ্বার সঙ্কীর্ণ এবং শিশুটি যথেষ্ট বড়
  • মা অথবা শিশু গর্ভাবস্থায় কোনও জটিলতায় আক্রান্ত
  • শিশুটির হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত এবং যোনিপথে জন্মের ঝক্কি সামলাতে অক্ষম

যাই হোক, অন্যান্য অস্ত্রোপচারের মতোই সীজারিয়ান সেকশনেরও নিজস্ব কিছু ঝুঁকি আছে যা আপনার বা আপনার নবজাত শিশুটির উপর প্রভাব ফেলে। এ বিষয়ে আরও জানতে হলে, এখানে পড়ুন।

আরও পড়ুন : সত্যিকারের মিথ্যা : ৩ টি সীজারিয়ান সংক্রান্ত জনশ্রুতির অসারতা