ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এই ভাবে নিজের মেয়েকে সলিড খাদ্য দিতে শুরু করলেন

lead image

“আমি নানা রকম খাবার দেখছিলাম, ধীরে এবং ক্রমশ আমি ওকে খাদ্যের স্বাদের সাথে পরিচয় করালাম,” বললেন অনুরত মা ঐশ্বর্য।

পাঁচ বছর পূর্বে যখন শ্বশুর অমিতাভ বচ্চন ঘোষনা করলেন যে তার পুত্রবধূ ঐশ্বর্য মা হতে চলেছেন, সবাই বিশেষত তার ফ্যান এবং মিডিয়া উচ্ছ্বাস এবং উদ্বেগ এ লাফিয়ে ওঠে।

সবাই জানতে চায় যে তিনি কি গর্ভাবস্থায় কোনরকম অসুবিধা ভোগ করেছেন, তিনি তা কীভাবে মোকাবিলা করেন এবং কীভাবে তিনি বাচ্চা মানুষ করতে চাইছেন।

কিন্তু প্রায় চার বছর পর, আমরা আনায়াসে বলতে পারি যে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ঠিক সেরকম মা হয়ে উঠেছেন যেরকম তিনি হতে চেয়েছিলেন, এবং আনেক মহিলাই তাকে দেখে আনুপ্রানিত হয়েছে।

ঐশ্বর্য যখন মা

তিনি আপনার ও আমার মতই এক স্বাধীন এবং সাধারন “ওয়ার্কিং মাদার”, তফাৎ সুধু এই যে তার কাজ আমাদের থেকে বেশি গ্লামারাস। তবুও তিনি তার মেয়েকে এক “সাধারন” বাচ্চার মতই মানুষ করছেন।

সংবাদপত্র ডি এন এ এর এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “আমি মনে করিনা যে এ ব্যাপারে গর্ব বা তুলনা করা উচিত (ওয়ার্কিং মাদার হওয়ার ব্যাপার)। আমি সেরকমই এক মা যেরকম আমি হতে চেয়েছি এবং আমি আগেও বলেছি - ওয়ার্কিং মাদার হওয়া সহজ নয়, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তাদের কথা ভাবুন যারা কাজের জন্য সকালে বেরিয়া যায় এবং সারাদিন তারা বাচ্চাদের দেখতে পায়না। এটা সহজ নয়।”

তিনি এও বলেন যে কোন মাই তার বাচ্চাকে ছেরে কাজে যেতে চায় না, এটা তার সৌভাগ্য যে তিনি আরাধ্যা কে সাথে কাজে নিয়ে যেতে পারেন এবং তাকে এটা বোঝাতে পারেন যে সত্যিই  তার শৈশব সাধারন।

এই সাধারন শৈশব শুরু হয় অনেক আগেই। ৪২ বছরের এই মা চাইতেন তার মেয়ে সবকিছু খুব সাধারন ভাবে অনুভব করুক এবং তিনি চাইতেন না যে তার মেয়ের আহারের নির্দেশ ডাক্তারে দিক।

তাই, ঐশ্বর্য নিজেই তার মেয়েকে সলিড খাবার খাওয়ানো শুরু করেন, এক সাধারন মায়ের মত।

আরাধ্যার সলিড আহারের সাথে পরিচয়

যে মাকে আমরা সদ্য দেখেছি ছায়াছবি সারাবজিত এ, তিনি বললেন যখন তিনি বচ্চন পরিবারে বউ হয়ে গেলেন, সবাই জানতে চায় যে তিনি কতখানি সময় রান্নাঘরে কাটান, কিন্তু তিনি বললেন যে তিনি রান্নাঘরে যাওয়া শুরু করেন মেয়ে আরাধ্যার জন্মের পর।

“বিয়ের পর, আমার মনে আছে সবাই জানতে চাইছিল আমি কতক্ষন সময় রান্নাঘরে কাটাই। আমার মনে আছে বউ ভাতের দিন আমি সুজির হালুয়া বানিয়েছিলাম। এক আধবার, আমি ঢেরশের তরকারি আর পরটা বানিয়েছি তার পরে। কিন্তু সত্যি বলতে আমাদের বাড়িতে আমরা সারাক্ষণ রান্নাঘরে রান্না করি সেরকম নয়।” তিনি জানান।

কিন্তু তার মেয়ের জন্মের পর, তিনি রান্নাঘরের ভার নেন জাতে তার মেয়ে পুষ্টিকর খাবার সঠিক মত পায়।

“এখন, সে সবকিছুই খায় যা আমরা খাই, সুধু ঝাল কম”

“আরাধ্যার জন্মের পর এখন আমি রান্নাঘরে অনেক সময় কাটাই, যখন সে সলিড খেতে শুরু করে, আমি নানা রকম খাবার দেখছিলাম, ধীরে এবং ক্রমশ আমি ওকে খাদ্যের স্বাদের সাথে পরিচয় করালাম। আমি পুষ্টির ব্যাপারে পড়াশোনা করলাম, কিরকম কমবিনেশান এর আহার দেওয়া উচিত, তাতে সঠিক মাপে কার্বোহাইদ্রেত, প্রোটিন এবং সবজি পাতি দিয়ে নিজের রেসিপি তৈরি করলাম। এখন, সে সবকিছুই খায় যা আমরা খাই, সুধু ঝাল কম। সৌভাগ্য বসত সে খাবারের ব্যাপারে খুব একটা ঝামেলা করেনি। আমি এটা কড়াকড়ি ভাবে দেখি যাতে সব রকম পুষ্টিকর খাবার সে খায়,” ঐশ্বর্য জানালেন।

যেরকম ঐশ্বর্য বললেন যে তার মেয়ে খাবারের ব্যাপারে খুব একতা ঝামেলা করেনি, বেশীরভাগ বাচ্চাই ছ’মাসের পর সহজেই সলিড খেয়ে নেয়। কিন্তু অনেকেই আবার স্তন্যপান করতে জিদ করে। তো আপনি কীভাবে সলিড দেওয়া শুরু করবেন?

কীভাবে বাচ্চা কে সলিড দেওয়া শুরু করবেন

সলিড দেবার আগে, আপনার বাচ্চার মধ্যে দেখুন স্তন্যদুগ্ধ ছাড়া সে আরও কিছু খেতে চাইছে কিনা। যদি এই নিম্নলিখিত লক্ষণ গুলি তার মধ্যে দেখেন, তবে সে নিশ্চয় তৈরি

  • যদি সে তার কাঁধ এবং মাথা কে ঠিকমত নিয়ন্ত্রন করতে পারে
  • যদি আপনার খাদ্যের প্রতি সে আকর্ষিত হয়
  • যদি আপনার থালার প্রতি সে এগিয়ে আশে
  • যদি তার মুখের সামনে চামচ নিয়ে গেলে সে হাঁ করে

যদি এই প্রতিটি লক্ষণই আপনি দেখেন, তবে সে নিশ্চয় সলিড খাদ্যের প্রতি তৈরি। এবার প্রশ্ন যে কীভাবে সলিড খাওয়াবেন?

  • প্রথমে সবজি এবং ফল পিউরি করে খাওয়ান নুন বা চিনি না মিশিয়ে, দিনে একবার। যদি আপনার বাচ্চা তা পছন্দ করে, তবে ধীরে ধীরে স্তন্যপান কম করান।
  • এইসময় আপনি তাকে পায়েশ এবং খিছুরিও খাওয়াতে পারেন
  • তাছাড়া আপনার এলাকার যা খাবার সেটাও একটু আধটু খাওয়ান

যদিও এগুল খুবই সাধারন পরামর্শ, আমরা আরেকটা গভির কিন্তু সহজ প্রবন্ধ লিখেছি “স্তন্যপান কখন বন্ধ করা উচিত”। এটা পড়ুন এই ব্যাপারে আরও জানার জন্যে।

Source: theindusparent