এষা অবশেষে তাঁর সম্ভাব্য তারিখটি এবং কিভাবে গর্ভাবস্থায় তাঁকে দেখতেও মানানসই লাগছে, সেই গোপন কথা প্রকাশ করে দিলেন

lead image

উজ্জ্বল হবু মা এষা দেওল গত কয়েকমাস ধারে নানা কাজে ব্যস্ত আছেন।  পারিবারিক শিশুচন্দ্রিমা থেকে শুরু করে গর্ভকালীন ফটোশুট, আবার তাঁর শিশুসন্তানের জন্য ঘরের নক্সা তৈরী করা থেকে শুরু করে শ্বাশুড়ির কাছ থেকে নোতুন নোতুন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে শেখা।

এষা ছিলেন একজন সক্রিয় হবু মা।

কিন্তু এইসব ক্রিয়াকলাপ প্রকাশিত হলেও, তিনি তাঁর গর্ভধারণ সংক্রান্ত বহু খুঁটিনাটি, এমনকি নির্ধারিত তারিখটিও ফাঁস করেন নি।  অবশ্য শেষ পর্যন্ত শ্রীমতী দেওল সবকিছুই জানাতে প্রস্তুত হয়েছেন এবং জানিয়েছেন।

 

A post shared by Esha Deol (@imeshadeol) on

অবশেষে এশা তাঁর নির্ধারিত তারিখটি প্রকাশ করলেন

একটি বিনোদন দৈনিকের সঙ্গে কথা বলার সময় শ্রীমতী দেওল জানালেন যে তিনি তাঁর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে এসে পৌঁছেছেন এবং নির্ধারিত তারিখের কাছাকাছি চলে আসছেন, যা "অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের প্রথম দিকে"।..

দীপ্তিময়ী প্রত্যাশিতা মা আরও জানালেন যে শিশুর জন্ম তিনি ভারতেই দিতে চান এবং তাঁর ছোট্টটিকে এখনই দেশের বাইরে নিয়ে যাবার কোনও ইচ্ছে নেই।

"অবশ্যই আমি আমার সন্তানের জন্য আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট চাই না, আমি ভারতীয়তেই খুশি,"  তিনি বললেন।  যাইহোক, এখনও পর্যন্ত প্রস্তুতি হিসেবে তিনি যে শিশু প্রসব করার জন্য শুধু একটি জায়গা পছন্দ করেছেন, এমন নয়।  তিনি শিশুর জন্য পোশাক কেনার কথাও বললেন (কিনুন বা না কিনুন) আর সেই নার্সারি, যা নিয়ে তিনি কাজ করছেন, তার কথাও উল্লেখ করলেন।

"শিশু জন্মগ্রহণ না করা পর্যন্ত আমরা তার জন্য কাপড় কিনি না কিন্ত শিশুগৃহটির সাজসজ্জার জন্য অল্প একটু  কেনাকাটা করেছি,"  তিনি বললেন।

 

A post shared by Esha Deol (@imeshadeol) on

আনুষ্ঠানিকভাবে গর্ভধারণ সম্পর্কে কেউ জানত না

মজার ব্যাপার হলো, এখন শ্বশুরবাড়ির সবাই এবং মা হেমা মালিনী তাঁর গর্ভধারণে যথেষ্ট পুলকিত কিন্তু তাঁদের কেউই বহুদিন পর্যন্ত এ খবর জানতেন না, উপযুক্ত কারণ ছিল বলে এই দম্পতি ব্যাপারটা একদম গোপন রেখেছিলেন।

"আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ জানত না।  একমাত্র তুমিই তিন মাস পরে বলেছিলে, তাই না?  আমার মা-বাবাকেও আমি বলিনি।  কিন্ত কোনোভাবে তাঁরা অনুমান করেছিলেন যে গর্ভবতী হয়েছি,"  তিনি বলেন এবং আরও জানান যে খবরটি বেরিয়ে যাবার পরে, তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অমূল্য।

"প্রচন্ড আহ্লাদিত হন, এবং তারপর তাঁরা প্রচুর শুভেচ্ছা এবং আশীর্বাদ জানান।  আমার অনেক সুন্দর সুন্দর শুভার্থী আছেন বলে আমি খুবই আনন্দিত এবং ঈশ্বরের এর করুণায়, আমি খুব ভাল আছি,"  তিনি বলেন। গর্ভাবস্থায়, এমনকি তার পরেও, মায়ের সঙ্গে থাকার সব গুজব সম্পর্কে এষা বলেন, "না, কিন্তু আমি মায়ের সঙ্গে প্রায়ই দেখা করি।  নোতুন করে সংস্কার করার পর মায়ের বাড়িতে আমাদের আমাদের জন্য পুরো একটি তলা আছে।"

শিশুটির জন্য সম্ভাবিত কোনও অনন্য নাম?

এখন তৃতীয় ত্রৈমাসিকের পথে মসৃণভাবে এগিয়ে যাবার সময় দম্পতি শিশুর জন্য একটি নাম নিয়ে চিন্তা করছেন কিন্তু তারা এখনো কিছু চূড়ান্ত করেননি।  কারণ, শ্রীমতী দেওল এ্রর কাছে উপযুক্ত কারণ আছে।

 

A post shared by Esha Deol (@imeshadeol) on

"না, এখন অনেক দেরী আছে। আমি স্বতঃস্ফূর্ত এবং আবেগপ্রবণ, তাই বাচ্চাটি জন্মগ্রহণ করলে বা সম্ভবত নির্ধারিত তারিখের কাছাকাছি, আমরা নাম চূড়ান্ত করব।,"  আকর্ষণীয়া হবু মা ব্যক্ত করলেন, গর্ভবতী অবস্থায় কিভাবে মানানসই এবং সুগঠিতা থাকা যায় সে সম্বন্ধে আবার তাঁর আস্তিনের তলায় একটি গোপন উপায় আছে।

গর্ভাবস্থায় কিভাবে চমৎকার এবং সুগঠিতা দেখাবে সে সম্বন্ধে এষার গোপন কথা

"আমি কিছু প্রসব-পূর্ব যোগাসন করছি, এগুলি খুবই আরামদায়ক। বাকী তো (বিশ্রাম), আমি শুধু অক্টোবর-নভেম্বরের জন্য অপেক্ষা করছি"  ৩৫ বছর বয়সী উজ্জ্বল হবু মা বললেন, যিনি দেখিয়েছেন যে এই বয়সেও  সফল গর্ভবতী হওয়া যায়।  আপনার প্রয়োজন শুধু কিছু সতর্কতা এবং অবশ্যই, কিছু রুটিন পরীক্ষানিরীক্ষা।  

আপনি যদি শিশু প্রত্যাশিতা হন এবং ৩৫ বছরের কাছাকাছি বা তার বেশি বয়সের হন, এখানে কয়েকটি পরীক্ষানিরীক্ষা দেওয়া হল যা অবশ্যই করাতে হবে অথবা আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

৩৫ এর পর গর্ভাবস্থায় ৫ টি রুটিন পরীক্ষা

যদিও গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার; তবুও যদি একজন মহিলা স্বাস্থ্যকর খাবার খায়, নিয়মিত ব্যায়াম করে এবং একটি সুস্থ জীবনশৈলী বজায় রাখে, তাহলে ৩৫ বছর বয়সের পরও গর্ভ ধারণ সফল এবং উপভোগ্য অভিজ্ঞতা হতে পারে।

কিন্তু এটাও ঠিক যে ৩৫ বছর বা তার বেশী বয়সী হবু মায়েদের তাদের অনাগত শিশুর নিরাপত্তার জন্য নিম্নোক্ত পরীক্ষাগুলি অবশ্যই করানো উচিত।

  • অ্যামিনোসেন্টেসিস: এই প্রসব-পূর্ব পরীক্ষা দ্বারা ডাউন সিন্ড্রোম, সিকল সেল রোগ, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, মাস্কুলার ডিস্ট্রফি, টে-স্যাক্স, এবং অনুরূপ রোগের ঝুঁকি সনাক্ত করা যায়।
  • নিউক্যাল ট্রান্সলেসেন্সি স্ক্রীনিং: এই নন-ইনভেসিভ পরীক্ষাটি এন টি বা নিউক্যাল ফোল্ড স্ক্যান নামেও পরিচিত।
  • মেটার্নিটি-21 প্লাস টেস্ট: এই নতুন রক্ত পরীক্ষাটি গর্ভধারণের ১০ সপ্তাহে করা হয় (অ্যামিনোসেন্টেসিসের মতো আরো ইনভেসিভ পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগে) এবং ডাউন সিন্ড্রোম ও  ট্রাইসোমি 18, 13 সহ অন্যান্য যৌন ক্রোমোজম অস্বাভাবিকতা সনাক্ত করতে পারে।
  • কোরিয়োনিক ভিল্লি স্যামপ্লিং (CVS): গর্ভাবস্থায় জন্মগত ত্রুটি, জেনেটিক রোগ এবং অন্যান্য সমস্যা সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
  • আল্ট্রাসাউন্ড: এটি প্রত্যেক ত্রৈমাসিকে অথবা গর্ভাবস্থার অগ্রগতি এবং শিশুটির বৃদ্ধি পরীক্ষা করার জন্য যখন যখন ডাক্তার প্রয়োজন বোধ করবেন, করাতে হবে।