এখানে দেখুন একলা মা সুস্মিতা সেন কিভাবে তাঁর মেয়েকে অঙ্কে প্রতিভাসম্পন্ন করে গড়ে তুলছেন!

আপনার সন্তানকে প্রকৃতই শ্রেষ্ঠ করে তুলতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে কিসে তার আগ্রহ।

বর্ণোজ্জ্বল সুস্মিতা সেনকে একজন মা হিসেবে আমরা সবাই প্রশংসা করি। যেভাবে তিনি তাঁর দুই মেয়েকে মানুষ করছেন আর তাদের সঙ্গে চমৎকার সম্বন্ধ গড়ে তুলেছেন সেটাই প্রমাণ যে আপনিও

একজন বিচক্ষণ মা-বাবার সাথে সাথে আপনার সন্তানদের মহান বন্ধুও হতে পারেন।

//platform.instagram.com/en_US/embeds.js

সুস্মিতা সেন নিজে একজন স্বাধীনচেতা মহিলা রূপে জীবনধারণ করা থেকে শুরু করে বুদ্ধিমান, যত্নশীল এবং আত্মবিশ্বাসী করে মেয়েদের বড় করে তোলা, প্রতিটি ব্যাপারেই জীবনের গুরুতর লক্ষ্য সম্পর্কে চিরদিন আমাদের সচেতন করে এসেছেন - এই একা মা সবকিছু নিখুঁত ভাবে সামলে এসেছেন।  

তাই সম্প্রতি, সেই গর্বিত মায়ের তাঁর ৭ বছর বয়সী কনিষ্ঠা কন্যা আলিশার শেয়ার করা একটি ভিডিও দেখতে অনির্বচনীয় আনন্দ হয়, যেখানে শিশুটিকে তিন তাঁর গণিত শিক্ষক বলে উল্লেখ করেছেন!
sushmita sen

ভিডিওটিতে, ছোট্ট আলিশা প্রমাণ করেছে যে সে প্রকৃতই গণিতের একটি প্রতিভা, কারণ সে মুহূর্তের মধ্যে গণিতের গুণগুলি করে ফেলে।  সুস্মিতা আরও বলছেন যে তিনি প্রতিদিন তাঁর মেয়ের সাথে গণিতের নামতা অভ্যাস করেন যাতে তার স্পীড আরও বাড়ে।

আপনার সন্তানের মধ্যে প্রতিভা খুঁজবার ৪ টি উপায়

বাবা-মা হিসাবে, আমরা সর্বদা আমাদের সন্তানদের সেরাটি খুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করি, স্কুল থেকে শুরু করে নানা শৌখিন কার্যকলাপের ক্লাস, খেলাধুলা এবং সব কিছুই।  যদিও এটি বাবা-মায়েদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার ব্যাপার হয়ে উঠেছে যে তাঁদের বাচ্চারা কতগুলি জিনিস শিখছে, কিন্তু আসলে আপনার সন্তানকে যে কোনও বিষয়ে শ্রেষ্ঠ করে গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই বুঝতে হবে যে কোন বিষয়ে তার আগ্রহ আছে।

sushmita sen

এখানে আপনার ছোট্ট বিস্ময় শিশুটির প্রতিভা খুঁজে বের করার কয়েকটি সত্যিকারের বাস্তবসম্মত উপায় দেওয়া হল।

১। আপনার সন্তানের আগ্রহ কিসে তা বোঝা :

আপনি এবাকুসে আগ্রহী হতে পারেন, কিন্ত আপনার সন্তানের আগ্রহ যদি অন্য কোন বিষয়ে থাকে? আপনার বাচ্চাকে তার প্রতিভা বাড়াতে সাহায্য করার প্রথম ধাপ হল, তারা কিসে আগ্রহী তা বোঝা, কারণ তাহলে কোনও বিষয়ে বিরক্ত হয়ে আগ্রহ হারানোর পরিবর্তে তাদের শেখার আগ্রহ ও উৎসাহ দীর্ঘমেয়াদী হবে।  

২। তাদের ভুল করতে দিন :

আপনার সাহায্যে সে হয়তো অনেককিছু শিখবে কিন্তু তারা যাতে শিখতে পারে সে জন্য সাহায্য করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হল আপনার শিশুকে ভুল করতে দিন আর পরের বার যাতে বিনা সাহায্যে নিজে থেকে সংশোধন করতে পারে তার চেষ্টা করুন।  আপনি যদি সর্বদা চামচে করে খাইয়ে দিতে থাকেন তাহলে তো সে কোনোদিনই ঝুঁকি নিতে শিখবে না আর সমস্যার সম্মুখীন হলে তার সমাধানও করতে পারবে না।

৩। তাদের প্রকাশিত হতে দিন :

আজকের দিনে মা-বাবা এবং শিশুদের সামনে দারুণ সুযোগ আছে বহু বিকল্পের মধ্যে পছন্দ করার।  সুতরাং আপনার বাচ্চাকে একটা নির্দিষ্ট পথে যেতে না বলে, কেন তাকে সব কিছু পরখ করে দেখে তার মধ্য থেকে শেখার সুযোগ দেবেন না?  এরকম করলে আপনি যে শুধু তাদের আগ্রহ জাগিয়ে দেবেন তাই নয়, বরং আপনি নিজেই দেখে অবাক হয়ে যাবেন যে কোন বিষয়ে তারা ভাল, যা হয়তো সে নিজেও আগে বুঝতে পারে নি।

৪। চিন্তাশক্তিকে উৎসাহ দিন :

পরিবারের মধ্যে সর্বদা আপনার বাচ্চাদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করুন।  সত্যি কথা বলতে কি আপনাদেরও সর্বদা ওদের বয়সোপযোগী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে থাকা উচিত, যাতে ওরা নিজেরাই উত্তর খুঁজে বের করতে পারে।  এতে আপনার ছোট্ট শিশুটি নিজে চেষ্টা করে ধাঁধার সমাধান করতে শিখবে, যার ফলে তারা আরও মনোযোগী, ক্ষুরধার এবং অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন হবে।

Source: theindusparent