এখানে ডিম্বাশয়ের সিস্ট এর চিকিৎসা করার সবচেয়ে কার্যকর দেশী প্রতিকারগুলি সেওয়া হল!

lead image

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমবর্ধমান সংখ্যক নারীরা তাঁদের জীবনে অন্তত একবার বা দুবার ডিম্বাশয়ের সিস্টে আক্রান্ত হন। এটি বেশিরভাগ প্রাক-রজোবন্ধকালীন মহিলাদের প্রভাবিত করে কিন্তু রজোবন্ধের পরও নারীদের মধ্যে দেখা যায়।

ডিম্বাশয়ে সিস্ট গঠিত হবার প্রধান কারণ হরমোনের ভারসাম্যে গন্ডগোল। গবেষণার ফলে জানা গেছে যে, দেহে এস্ট্রোজেনের আধিক্য ডিম্বাশয়ে সিস্টের কারণ।

যদিও অধিকাংশ সিস্ট ক্ষতিকারক হয় না এবং সামান্য বা একটুও লক্ষণ প্রকাশ করে না, তবুও এগুলি যদি ফেটে যায় তাহলে গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হতে পারে।

একটি অক্ষতিকারক সিস্ট প্রায়ই নিজেই অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ঘটনাচক্রে কোনও পরিক্ষায় ধরা পড়লেই অধিকাংশ মহিলা জানতে পারেন যে তাঁদের সিস্ট হয়েছে।

সিস্টের প্রকার

ক্রিয়ামূলক সিস্ট : প্রাকৃতিকভাবে একজন মহিলার শরীর প্রতি মাসে গুটিকা উৎপাদন করে। এর কাঠামো সিস্টের অনুরূপ এবং এগুলি মাসিক ঋতুচক্রের সময় একটি ডিম্বানু নিঃসৃত করে। কখনও কখনও, নারী দেহে উৎপাদিত এই মাসিক গুটিকার বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে যায়, এইভাবে যে সিস্ট গঠিত হয় তা ক্রিয়ামূলক সিস্ট রূপে পরিচিত। কিন্তু ভালো কথা এটাই যে ক্রিয়ামূলক সিস্ট অক্ষতিকারক এবং সময়মতো নিজেই অদৃশ্য হয়ে যায়।

অন্যান্য সিস্ট : অন্যান্য ধরনের সিস্টও আছে যেমন ডার্মোয়েড, সিস্টাডেনোমাস বা এন্ডোম্যাট্রিয়োমাস, যা শরীরের এন্ডোম্যাটরিয়াল দেওয়ালের বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণে গঠিত হয়। এই ধরনের কিছু সিস্ট খুব বড় হয়ে যেতে পারে এবং জল বা শ্লৈষ্মা দ্বারা পূর্ণ হতে পারে। এগুলি বেদনাদায়ক হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে, এমনকি ফেটে যেতেও হতে পারে।

সিস্ট নিরাময়ে দেশী চিকিৎসা

# ১। ভেষজ চা : ক্যামোমাইলের চা এবং অন্যান্য ভেষজ চা যেমন পুদিনা, ব্ল্যাকবেরি বা রাস্পবেরির সিস্ট জাতীয় রোগে খুব শীতলকারী প্রভাব আছে। ভেষজ চা আপনাকে শান্ত রাখে এবং ব্যথাও কমায়। উষ্ণ চা আপনার মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, এইভাবে আপনার মাসিক প্রবাহ আরও নিয়মিত হয়ে যায়, যার ফলে আপনার সিস্ট সেরে যাবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

# ২। বিট এর রস : বিট এর রসে বিটাসিয়ানিন নামে একটি পদার্থ আছে যা শরীর থেকে টক্সিন পরিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে। আপনি একটি বীটের রস করে অন্যান্য শব্জির সঙ্গে মিশিয়ে আপনার উপসর্গ না কমা পর্যন্ত খেয়ে যেতে পারেন।

# ৩। গরম সেঁক : গরম সেঁক সিস্ট থেকে উদ্ভূত উপসর্গগুলিকে প্রশমিত করতে দারুণ সাহায্য করে। অনেকে বলেন, গরম ক্যাষ্টর তেল দিয়ে এক ফালি কাপড় ভিজিয়ে তা দিয়ে আপনার পেটে চাপ দিতে। মনে রাখবেন যে ত্বকে ক্ষত বা আঘাত থাকলে তেল বা প্রয়োগ করা উচিত নয়। এছাড়াও, আপনি গর্ভবতী থাকলে বা অন্য কোন অসুস্থতা থাকলে এটি এড়িয়ে যাবেন। এটি বা অন্য কোনও দেশজ চিকিৎসা শুরু করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া ভাল।

# ৪। সয়াবিন এড়িয়ে চলুন : প্রক্রিয়াকৃত সয়া উৎপাদনগুলিতে এমন একটি পদার্থ থাকে যা ইস্ট্রোজেনের অনুরূপ হয় এবং সিস্ট গঠিত হতে সহায়তা করে, তাই আপনার খাদ্য থেকে সয়াকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা সবচেয়ে ভাল।