একজন মা হিসেবে আমরা ঐশ্বর্য্যকে যথেষ্ট ভাল বলে মনে করি, কিন্তু এটা আমাদের অবাক করে যে ছ'বছর বয়স হতে চলা আরাধ্যা কে কেন তিনি এখনও কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ান!!!

lead image

কোনও পক্ষ নেবার আগে, প্রথম কথাটা প্রথমেই বলে ফেলা যাক, তাই আর একবার আপনাদের জানাচ্ছি যে আমি নিজে একটি ছ'বছর বয়সী মেয়ের মা এবং আমি জানি যে কিভাবে ভারতীয় মায়েরা তাঁদের বাচ্চাদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন এবং কিভাবে তাঁরা বাচ্চাদেরকে কোলে নিয়ে, এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে তাদের বহন করে আদর আর ভালবাসা দেখান।

যাইহোক, সেটা আপনি মাঝেসাঝে একবার করেন, যখন হয়তো বিছানায় আছেন বা কোথাও কৌচে আরাম করে বসে থাকেন, কিন্তু যখন আপনি কোনও মলে সক্রিয় থাকেন বা বেড়াতে যান, তখন কদাপি নয়!

এটা ঠিক যে বিমানবন্দরে বা বাজার করার সময় আমার ছ'বছরের মেয়েকে কোলে করে বয়ে বেড়াবার কথা আমি কল্পনাও করতে পারিনা কারণ একটি ছয় বছরের বাচ্চার গড় ওজন ২০ থেকে ৩০ কেজির মধ্যে হয়, তাই এটা শারীরিক দিক দিয়েও শক্তির অপচয়।

তাই আমি অবাক হই যে দেখতে এত পলকা এবং কৃশকায়া ঐশ্বর্য্য এখনও তাঁর ছ'বছর বয়স হতে চলা মেয়ে আরাধ্যাকে বাইরে বেরোলেই কোলে করে বহন করেন কেন।

সে যখন তিন-চার বছর বয়সের ছিল তখন এটা ঠিক ছিল কেননা সে তখনও সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং ের জন্য তার বিশাল তারকা মা ধন্যবাদের পাত্রী। আর সেকথা ঐশ্বর্য্য একটি সাক্ষাৎকারে বলেওছেন।

ঐশ্বর্য্য এবং তাঁর ছোট্টটি কান থেকে ফিরছিলেন আর আ্যাশকে পুরো পথে আরাধ্যাকে কোলে করে নিয়ে আসতে হয়েছিল কিন্তু এর একটা কারণ ছিল।

"আরাধ্যা এসব (পাদপ্রদীপের আলো) জন্ম থেকে দেখেছে আর আমি ভেবেছিলাম যে সে এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে কিন্তু আরাধ্যা যখন ওদের (ফটোগ্রাফারদের) তার দিকে আসতে দেখল, সে পথের মাঝে দাঁড়িয়ে উবু হয়ে বসে পড়ল। আমি জানতাম যে এবার তাকে কোলে তুলে নিতে হবে। আমি চাই যে সবাই নিরাপদে থাকুক আর আমার বাচ্চাও," তিনি বলেছিলেন।

aaradhya

"একটা সময়ে যখন আমরা হাঁটছিলাম, লোকেরা ছুবি তোলা সত্বেও সে দারুণ মেজাজে ছিল। সে হাসছিল আর নানা মজার কথা বলছিল কিন্তু যখন লোকেরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল, তাকে তুলে নিতে হল সে এইসব সামলানোর পক্ষে খুবই ছোট। আমাকেই ভীড়ের মধ্যে দিয়ে রাস্তা বের করে নিতে হল। রক্ষা করার একটা  সহজাত প্রবৃত্তির বশেই আমি তাকে আমার সঙ্গে সংলগ্ন করে রাখি,"  তিনি আরও বলেছিলেন।

কিন্তু এখন তো আরাধ্যা নিজেই ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে ব্যগ্র বলে মনে হয় এবং যেভাবেই হোক এইসব ব্যাপারে বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

আর অনেক সময় তার বাবা অভিষেক বচ্চনও তো সঙ্গে থাকেন, তাহলে এমন কেন হয় যে সর্বদা ঐশ্বর্য্যই মেয়েকে বইবে, আর অভিষেক একবারও না?

আর তাছাড়া, দু'বছরের বেশী বয়সী বাচ্চাদের বহন করলে আপনার শরীরে, বিশেষ করে পিঠের সবিশেষ ক্ষতি হয়। সঠিক দেহভঙ্গিমায় বাচ্চাকে না তুললে মায়েদের আঘাত লাগার অনেক ঘটনাও ঘটে। এখানে কিছু সাধারণ ভুলের উল্লেখ করা হল।

  • সোজা দাঁড়ানো অবস্থায় শিশুকে তোলা : অনেক মা সোজা দাঁড়িয়ে হাত দুটো সামনে বাড়িয়ে কোমরের বলে বাচ্চাকে তুলে নেন। ডাক্তারেরা বলেন এর ফলে কোমরে অবাঞ্ছিত চাপ পড়ে।
  • বাচ্চাকে কাঁখে রেখে বহন করা : অনেক মা তাঁদের হাঁটতে শিখে যাওয়া বাচ্চাকে কাঁখের ওপর রেখে বহন করেন আর যদিও এটি বেশ আরামদায়ক ব্যাপার বলে মনে হতে পারে কিন্তু এর ফলে শরীরের একপাশে  যথেষ্ট চাপ পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ওই দিকের পেশীতে টান পড়ে।
  • বাচ্চাকে বসা অবস্থায় তোলা : বসে বসে বাচ্চাকে তোলা এবং সামনে ঝুঁকে পিঠ ও হাত দুটি প্রসারিত করা আর একটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ভঙ্গীমা।