একজন মায়ের গল্প শুনুন - কিভাবে অত্যধিক গ্যাজেট ব্যবহারের ফলে তাঁর মেয়ে সীজার ব্যধিতে আক্রান্ত হয়

একজন মায়ের গল্প শুনুন - কিভাবে অত্যধিক গ্যাজেট  ব্যবহারের ফলে তাঁর মেয়ে সীজার ব্যধিতে আক্রান্ত হয়

সাম্প্রতিএকটি ফেসবুক পোষ্টে ফিলিপআইনের এক মা, ম্যারিকন মোলভিজার কোলামার, তাঁর মেয়ে মিকায়লা, সীজারে আক্রান্ত হয়ে কি ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল সেই ঘটনাটি শেয়ার করেছেন এবং ডাক্তারদের মতে এই অস্থায়ী পক্ষাঘাতের সম্ভাব্য কারণ, অত্যধিক গ্যাজেট ব্যবহার।

"মা, আমি আমার বাঁ হাত নাড়াতে পারছি না!"

ম্যারিকনের বিবরণ অনুযায়ী, ২৭শে জুন রাত প্রায় দশটা-সাড়ে এগারোটার সময়, তিনি তাঁর ৬ বছরের মেয়ে মিকায়লার সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন।  প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল যে মেয়ে হয়তো আরশোলা দেখতে পেয়েছে, কিন্তু যখন মেয়েটি সমানে চীৎকার করে তাঁকে ডাকতেই থাকে তখন তিনি কিছু একটা আশঙ্কা করে তার রুমে গিয়ে মিকায়লাকে নগ্ন ও অনড় অবস্থায় দেখতে পান,  (যেহেতু সে তখনই স্নান শেষ করেছিল)।  তিনি ভাবলেন যে মেয়ে হয়তো পডে গিয়েছে আর তাই নড়াচড়া করতে পারছে না।  কিন্তু তার পড়ে যাওয়ার কোনও চিহ্ন খুঁজে পাওয়া গেল না।

তিনি মেয়েকে তুলে বিছানায় বসালেন, এবং কি ঘটেছে জিজ্ঞাসা করলেন।  মেয়ে বলল, "মা, আমি আমার বাঁ হাত নাড়াতে পারছি না !,"  শুনে ম্যারিকন আরও বেশি শঙ্কিত হলেন কারণ, আগে কখনও এরকম ঘটে নি। তিনি তাঁর মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলেন যে সে তার আঙ্গুল নাড়াতে পারছে কিনা, কিন্তু দেখা গেল সে পারছে না।

তাঁর মেয়ে বলল যে এরকম হবার ঠিক আগে সে তার কানের একটা দুল দিয়ে খেলছিল, হঠাৎ মাথা ঝিমঝিম করে উঠল, আর তারপরই নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেল।  

২৮শে জুনের রাত প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি তাকে পরীক্ষা করানোর জন্য এবং কেন এমন হল তা জানার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

এর কারণ হল অত্যধিক গ্যাজেট ব্যবহার

পর পর মেয়েটির অনেকগুলি পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সিটি স্ক্যান, ভেতরে কোনও আঘাত লেগেছে কিনা তা দেখার জন্য এক্সরে।  এছাড়া তার মগজে পরীক্ষা করার জন্য ই ই জি এবং রোগের সম্ভাব্য কারণ জানার জন্য এমআরআই নির্ণয় করা হয়।  

ডাক্তারের মতে, যিনি শিশুদের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ, বা শিশুদের মস্তিষ্কের ব্যাধি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের মতে, মিকায়লা ফোকাল সীজার নামক এক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছে এবং সম্ভবত অত্যধিক গ্যাজেট ব্যবহারের কারণেই এটি হয়েছে।

ম্যারিকন শেয়ার করেছেন যে গরমের ছুটির শুরু থেকে, তাঁর মেয়ে অবিরাম নানা গ্যাজেট ব্যবহার করে গেছে, যেমন আইপ্যাড ব্যবহার করা বা টিভি দেখা।  ম্যারিকন শেয়ার করেছেন যে যেহেতু তিনি একটি ব্যবসার উদ্যোক্তা এবং তাঁর  ওপর খদ্দেরদের অর্ডার সময় মতো শেষ করার চাপ থাকে তাই তিনি মেয়েকে ব্যস্ত রাখার জন্য ইচ্ছে মত গ্যাজেট নিয়ে ভুলে থাকতে দিয়েছিলেন।

ম্যারিকন আরও বলেন যে, তার মেয়ের যা ঘটেছে, তার জন্য তিনি নিজেই আংশিকভাবে দোষী, কারণ তিনি  তাঁর কাজ নিয়েই এত ব্যস্ত ছিলেন যে মেয়েকে সময় কাটাবার করার জন্য ঐ গ্যাজেটগুলি ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।

সৌভাগ্যক্রমে, সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার পর, মিকায়লার আর সীজার হয় নি।  তার ওষুধের ব্যাবস্থা হয়েছিল, এবং তার গ্যাজেট ব্যবহার প্রতি দিন ২ ঘন্টা সীমাবদ্ধ ছিল। মারিকন শেয়ার করেছেন যে তার গ্যাজেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে মিকায়লা গ্যাজেট ব্যবহার না করে সময় কাটাবার অন্য উপায় খুঁজতে হয়েছে।

আশা করি তাদের এই গল্প অন্যান্য মা-বাবার অবশ্য শিক্ষণীয় একটি পাঠ হবে যাতে তাঁরা তাদের বাচ্চাদের অত্যধিক গ্যাজেট ব্যবহার করতে দেবেন না।

Any views or opinions expressed in this article are personal and belong solely to the author; and do not represent those of theAsianparent or its clients.

Written by

theIndusparent