একজন মহিলা নিজের ইচ্ছে মত সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র খুলতে পারে এবং এটা কখনই ডিভোর্সের কারন হতে পারে না, জানান বম্বে হাই কোর্ট

lead image

আমার চার বছরের বিবাহে, আমি মঙ্গলসূত্র হাতে গোনা কয়েক দিন মাত্র পড়েছি বোধহয় সুধু শ্বশুরবাড়িতে। আর সিঁদুর, একবারও না, এমনকি পুজো বা বিয়ে বাড়ি গেলেও না, কারন সিঁদুরের কেমিকালে আমার অ্যালার্জি হয়।

আমি এসব পুরন কালের নিয়ম কানুন মেনে চলিনা তার মানে এ নয় যে আমি আমার বিবাহ কে অসম্মান করি বা আমার স্বামী আমাকে ভালবাসে না। আর আমি এটা জানি যে সেই একমাত্র এরকম স্বামী নয়। ভারতে এরকম আনেক পুরুষই আছেন যারা এটা ভাল করে জানেন যে সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র পরা শুধুমাত্র অলংকরনের জন্যই।

কিন্তু এই খবরটা পড়ে, আমি অবাক হলাম!

স্বামী ডিভোর্স চেয়েছেন কারন…

নাগপুরের এক সুশিক্ষিত পুরুষ ডিভোর্স চেয়েছেন কারন তার স্ত্রী সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র পরেন না। তিনি এও বলেন যে তার স্ত্রী মাথায় ঘোমটা দিতেও রাজি নয়।

এই ধরনের পশ্চাদমুখী চিন্তাধারা শুনে বিচারপতিও বিস্মিত হন, এবং তার দাবি কে খারিজ করেন।

ন্যায়াসন জানান যে, “একবিংশ শতকে, পুরুষ একথা বলে ডিভোর্স চাইতে পারেনা যে তার স্ত্রী ঘোমটা দেয় না বা সিঁদুর পরে না। মহিলারা মাথা ঢেকে রাখবে এরকম আশা করা ভুল। সেভাবেই এক মহিলা যদি সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র খুলে রাখতে চায় সে কারনে বিবাহ বিচ্ছিনের দাবি করা ভুল।”

অবাক হবার কিছু নেই, কারন এই স্বামীর সুধু এই একটি মাত্র অভিযোগ ছিল না নিজের স্ত্রীর প্রতি, যাকে তিনি ১৯৯৫ সালে বিয়ে করেন এবং ১৯৯৬ সালে এদের একটি মেয়ে হয়।

তার অবাক করা অভিযোগ

একজন মহিলা নিজের ইচ্ছে মত সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র খুলতে পারে এবং এটা কখনই ডিভোর্সের কারন হতে পারে না, জানান বম্বে হাই কোর্ট

তিনি এও বলেন যে তার স্ত্রীর ভীষণ অহংকার এবং স্ত্রী তাকে মেয়ের সামনে অপমান করে। রোজকার বিভেদে বিরক্ত হয়ে তার স্ত্রী তাকে ২০০ সালে ছেড়ে চলে যায়। তিনি হাই কোর্টএ এও বলেন যে বার বার ফিরে আস্তে বলা সত্বেও তার স্ত্রী ফিরে আসেনি এবং মেয়ে কে নিয়ে চলে যায়।

২০১১ সালে ইনি বিবাহবিছেদ চান। কিন্তু কোর্ট এটা খারিজ করে দেয় কারন তার দাবি যে তার স্ত্রী তাকে একা ফেলে চলে গেছে এটা ভুল, কারন সেই তাকে ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে।

বম্বে হাই কোর্ট এটা লক্ষ করে যে কাগজ পত্রে তার প্রধান আভিযোগ যা তিনি জানিয়েছেন, সেটা এই যে তার স্ত্রী সিঁদুর বা মঙ্গলসূত্র পরে না এবং মাথা ঘোমটা দিয়ে ঢেকে রাখে না। বিচারক অবশ্যই এ ব্যাপারটা সাধারন ভাবে নেন না এবং তাকে উচিত জবাব দেন।

ন্যায়ালয় বলে পিছু হতে

এনার বক্ত্যবে এরকম কোন প্রমান নেই যে তার স্ত্রী তার সাথে সদ্ব্যবহার করেনি। তার পরিবার বা প্রতিবেশিরাও সেরকম কোন সাক্ষী দেয় নি। পারিবারিক ন্যায়ালয় যুক্তিসংগত ভাবে এটা তুলে ধরেছে যে স্ত্রী তাকে ইচ্ছে করে ছেড়েও যায়নি আবার তাকে কোন রকম কষ্টও দেয়নি। সেহেতু, স্বামীর ডিভোর্সের দাবি কোর্ট মেনে নেবে না,” বিছারপতি জাস্টিস বসন্ত নায়েক অ জাস্টিস বিনয় দেশপাণ্ডে জানান।

এই কেস দেশের কিছু পুরুষের পশ্চাদ়্গামী চিন্তাধারার দৃষ্টান্ত দেয়।

এই পুরুষেরা স্ত্রীদের শুধুমাত্র তাদের সম্পত্তি বলে মনে করে। কিন্তু বিবাহের পর বহু মহিলাকেই এই ধরনের ব্যাবহারের সম্মুখীন হতে হয়।

পুত্রবধূদের সব সময়ই শ্বশুর বাড়িতে কষ্ট পেতে হয়, যেমন এই প্রবন্ধে আমরা লিখেছিলাম।

৩ রকম দুরাচার যা পুত্রবধূদের সহ্য করতে হয়

  • সে এক আগন্তুক - বুড় মা বাবাএর সেবা করা পুত্রের কাজই মনে করা হয়, কারন সাধারণত মা-বাবারাও তাই মনে করে। তার মানে পুত্রবধূদের তাদের স্বামী কে অনুসরণ করে চলতে হয় তারা নতুন পরিবারের সাথে মানিয়ে নিক বা না। যদিও এটা সব ঘরে হয়ত হয় না, বহু ঘরে এটাই নিয়ম।
  • বাধ্যতামুলক আলাপ - এক নতুন পরিবারের সাথে মানিয়ে নেওয়া তো আছেই, অনেক সময়ই পুত্রবধূকে তারদের ভাব প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না। এটা সম্ভব নয় যে আপনি আপনার প্রত্যেক নতুন পরিবারের সদস্যের সাথে মানিয়ে নেবেন, কিন্তু স্বামীর মুখ চেয়ে এটা মেনে নিতে হয়। এই নিয়ম টা কিন্তু জামাইদের ক্ষেত্রে লাগু নয়, তারা সহজেই নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে।
  • বাচ্চাদের মধ্যে তুলনা - পুত্রবধূদের আনেক সময় সমালোচনা ও তুলনার বিশয় হয়ে উথতে হয় বিশেষ করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে। মেয়েকে আনেক সময় জামায়ের সাথে সমাদর করা হয় অথচ পুত্রবধূ বঞ্চিত থাকে।

Source: theindusparent

Written by

theIndusparent

app info
get app banner