এই সাতটি কারণে নিজের অজান্তে আপনি আপনার শ্বশুরবাড়ীর বিরাগভাজন হতে পারেন

lead image

শ্বশুরবাড়িতে চাপা উত্তেজনার নিকৃষ্টতম ফলাফল এটাই যে এটি গোটা পরিবারের পক্ষে ক্ষতিকারক। সম্পর্ক উন্নত করার কিছু উপায় এখানে দেওয়া হল।.

ওঃ, শ্বশুরবাড়ি কি ভীতিজনক!  আপনার কপাল যদি ভাল হয়, আপনি ওদের সঙ্গে ভাল থাকবেন এবং বাড়ীর নিজের সন্তানে পরিণত হবেন।  দুর্ভাগ্যবশতঃ, আমাদের অনেকেরই শ্বশুরবাড়ি বহুলাংশে কষ্টদায়ক হয় (যদিও তেনারা বলেন যে আপনিই সংকটের কারণ)

আপনি ওদের বিষয়ে ব্যক্তিগত ভাবে যাই ভাবুন না কেন, আপনি তবু চিন্তা করেন যে কিভাবে ওদের সঙ্গে ভালভাবে থাকা যায়। হাজার হোক তাঁরা আপনার স্বামীর মা-বাবা এবং আপনার সন্তানের দাদু-দিদা - কাজেই, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মনোমালিন্য পুরো পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে

আপনি নিজের অজান্তে কিভাবে শ্বশুরবাড়ির বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন তার কিছু বিবরণ এখানে দেওয়া হল।

)  স্বামীকে পক্ষ বেছে নিতে বলা

আপনার স্বামীর মনোযোগ পাবার জন্য আপনি কি অজান্তে শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে খোঁচা দিয়ে থাকেন?   ব্যাপারটা একই বাড়ীতে থাকলে আরও বেশী হয়

নিরপেক্ষ বিচারে হয়তো আপনি শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কোনো ব্যবহারের প্রত্যুত্তর দিচ্ছেন। এতে কিন্তু একদা যারা আপনার স্বামীর জীবনে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন তাঁরা হয়তো ভেবে বসতে পারেন যে আপনার জন্য তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন

যদিও আপনাদের চারজনের সমঝোতা ছাড়া সমস্যার কোনো অবশ্যম্ভাবী সমাধান নেই, তবুও আপনি শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী মিলে সব কাজ না করে পুরো পরিবারের সঙ্গে আপোষ করে দেখতে পারেন।  সকলকে সঙ্গে নেওয়া খুব দুঃসাধ্য হবে না যখন আপনি ভেবে দেখবেন যে উভয় পক্ষের কোন জায়গাটাতে মিল - আপনার স্বামীকে ওনারাও ভালবাসেন!

) সন্তানদের পক্ষ বেছে নিতে বলা

সব স্নেহান্ধ দাদু-দিদার মতো আপনার শ্বশুর-শ্বাশুড়িও ভাল ভেবেই আপনার সন্তানদের খেলনা আর খাবার দিয়ে আপনার ধারণা অনুযায়ী বরবাদ করেন।  স্বভাবতই আপনার এটাকে মা-বাবার শাসনে হস্তক্ষেপ বলে মনে হয়।   ফলে কি হয়?  বাড়ীতে ছোটখাট ক্ষমতার দ্বন্দ, আর সেই গোলাগুলি বিনিময়ের মাঝে পড়ে আপনার বাচ্চারা

পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, আপনি বাচ্চাদের কথাও বলতে চান না যে "তোমার দাদু-দিদার কথা শুনবে না"  তার চেয়ে, আপনার সন্তানদের অনুপস্থিতিতে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সঙ্গে একটা মতৈক্যে আসুন।  কারণ, মা-বাবার সাথে সাথে তাদের দাদু-দিদার ভালবাসা পাবারও অধিকার আপনার বাচ্চাদের আছে।  

) তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়া

আপনার বাচ্চাদের জীবনে তাঁদের গুরুত্ব আপনি অস্বীকার করতে পারেন, কিন্তু আপনার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি এমন এক সময়ের মানুষ যেখানে একাধিক প্রজন্ম এক ছাদের নীচে বসবাস করতো।  ন্যায্য হোক বা অন্যায্য, আপনারা আধুনিক মা-বাবা হিসেবে বাচ্চাকে যা দিতে চান, তাঁরা হয়তো তার চেয়ে আর একটু বেশী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আপনার কাছ থেকে আশা করেন।

তাঁদেরকে বাচ্চা দেখাশোনার কাজে লাগিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ - বিশেষতঃ যখন এতে মা-বাবা হিসেবে আপনাদের ওপর ভার কম হয়।  কথায় বলে, বাচ্চা মানুষ করা বহু লোকের কাজ

) তাঁদেরকে অন্ধকারে রাখা

আমরা সবাই এই গল্পটি জানি যেখানে এক দম্পতি নোতুন ফ্ল্যাটে উঠে যাবার কথা অন্তিম মুহূর্তের আগে শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে জানায় নি (যদি আদৌ জানায়)  ভাগ্যিস আমাদের অধিকাংশ শ্বশুর-শ্বাশুড়ির পরিস্থিতি এত চরম নয়!  তবু এটা ঠিক যে শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে লাগাতার পাত্তা না দেওয়ার জন্য আমাদের মনে তেমন কোনো অপরাধ বোধ জাগে না যেমন তাঁরা যখন বাচ্চাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তখন অনায়াসে আমরা একটা অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে দিই

কিছু ব্যাপার আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গোপন রাখার সম্পূর্ণ অধিকার আপনাদের আছে।  শুধু মনে রাখবেন যে আপনার সব ব্যাপারে নাক-গলানো শ্বশুর-শ্বাশুড়ি আপনাদের জন্য চিন্তা করেন বলেই এত প্রশ্ন করেন এবং তাঁদের অন্ধকারে রাখলে তাঁরা আঘাত পান

) তাঁদেরকে শত্রু হিসেবে দেখা

সম্ভবত আপনাকে দোষ দেওয়া যায় না।  আপনি যদি বিয়ে মানেই নরকতুল্য শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে যুদ্ধ করার কথা ভেবে থাকেন তার জন্য দায়ী জনশ্রুতি আর বছরের পর বছর ধরে দেখে আসা অতি নিকৃষ্ট নাটকীয় টিভি সিরিয়ালগুলি

দুর্ভাগ্যবশতঃ, পূর্বাগ্রহ সম্পন্ন চেতনা কপট হয়। যদি আগে থেকে ভেবে থাকেন যে শ্বশুর-শ্বাশুড়ি আপনার বিরুদ্ধে হবে তাহলে আপনার তাই মনে হবে।  তাঁদের ভাল ব্যবহারও মেকি বলে মনে হবে আর পরিবারের মধ্যে ঠাট্টা-তামাসা গুলোও কটাক্ষপূর্ণ তিরস্কার বলে মনে হবে

অবধারিত ভাবে আপনার ভেতরের বিতৃষ্ণা কথায় ব্যবহারে ফুটে উঠবে।  তাঁরা যদিও আপনাকে প্রথমে ঘৃণা করতেন না, এবার অবশ্যই করবেন!

)  তাঁদেরকে শ্রদ্ধা না দেখান

প্রথমেই বলে নিই - এর মানে এই নয় যে আপনার সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে দিয়ে দিতে হবে।  শ্রদ্ধা জানানো মানে এই নয় যে তাঁদেরকে সেই প্রাচীন যুগের পরিবারের লৌহকঠিন গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর মতো মান্য করতে হবে।  বরং এর মানে এটা জানা যে তাঁদের ধারণা মতো শ্রদ্ধা (বা অশ্রদ্ধা) ঠিক কি রকম

যেমন মনে করুন, আপনার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি আশা করেন যে আপনি সম্বোধন করার সাবেক প্রথা সর্বদা মেনে চলবেন।  এতেই হয়তো ওনারা আপনাকে খুব পছন্দ করে ফেলবেন আর আপনি ওনাদের সাথে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ হয়ে যাবেন কিন্তু প্রিয়জনের মতো "এই" বলে বা তাঁদের নাম ধরে ডাকলে সেটা হয়তো তাঁদেরকে অশ্রদ্ধা করা হয়ে যাবে

) তাঁদের খাবার (বেশী করে) না খাওয়া

হাজার হোক খাওয়া-দাওয়া এদেশে এক গুরুতর বিষয়!  যে কারণে আমাদের মা-বাবারা দাদু-দিদারা "হাই-হ্যালো" বলে সম্ভাষণ করেন না বরং বলেন "হ্যাঁরে, খেয়েছিস?"

দেখা করতে গিয়ে যদি আপনি তাঁদের রান্না করা খাবার সর্বদাই না খান (অথবা সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হয় যদি আপনি মুখ ভর্তি খাবার কোনোমতে গিলে নিয়ে বমি ভাব গোপন করার চেষ্টা করেন), সেটা আপনার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ভালভাবে নেন না।  খাবার যত বিস্বাদই হোক না কেন, আপনি সমাদর করে প্রশংসা করুন!

Source: www.theindusparent.com