এই সহজ ধাপগুলি আমার বাচ্চাকে সুস্থসবল খাদুল শিশুতে পরিণত করতে সহায়তা করেছিল

lead image

শুরু থেকে আমি মনস্থির করে আমার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতাম এবং আমি একটি চামচ দিয়ে একটু চিপে নিতাম, পিষতাম না

মা'রা তাদের বাচ্চাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে খাবারের পাত্রের প্রতিটা কণা খাওয়ানোর যে চেষ্টা করেন, এটা বেশ মজার, কিন্তু এটি এমন একটি প্রবণতা যা বেশ উদ্বেগজনক কারণ এটি কেবল বাচ্চাদের খাদ্যের প্রতি বিরূপ করে তোলে না, এটি এমন একটি কাজ হয়ে দাঁড়ায় যা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা খুব কঠিন।

সম্প্রতি, আমি এক বন্ধুকে দেখলাম, যার ১১ মাসের মেয়েটি সারাদিন শুধুমাত্র দুধ খেয়ে থাকে। কৌতুহল বশে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি যে তাকে টেবিলে আমাদের সাথে নিয়মিত খাবার কেন দিচ্ছে না। শুনে তিনি জবাব দিলেন, "ও তো এখনও শক্ত খাবার শুরুই করেনি আর আমরা তাকে দিনে একবার এক বা দু চামচ ভাত বা পরিজ দিয়ে দিই।"

আমি যে সময় কোন মন্তব্য করলাম না, তবে, আ্মার মনে হয়, ওই মা'টির বাচ্চাকে খাওয়াতে বেশ বেগ পেতে হবে কারণ তিনি এখনও সঠিক খাবার চালুই করেন নি।

অনেক মাকে দেখি দু বছরের বাচ্চাকে দুপুরে ডাল-ভাত পিষে খাওয়াতে। কেউ কেউ আবার মিক্সারে পিষে নেয়, যাতে শিশুটির গলায় না লাগে!

কিন্তু এমন করা উচিত নয়। আপনি তাদের যা খাওয়াবেন আপনার শিশু সে ভাবেই মানিয়ে নেবে আর যদি আপনি তাদের মন্ড বা শিশু খাদ্য খাওয়ান, তারা সত্যিই দীর্ঘ সময়ের জন্য সেটাই খাবে। অন্তত আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতায় এটা বলতে পারি। এখানে এমন কিছু জিনিস লিখছি যা আমি অনুসরণ করায় আমার শিশুটিকে সুস্থ ও খাদুল হতে সাহায্য করেছিল।

৬ মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে

eating

শুরু থেকে আমি মনস্থির করে আমার মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের খাবার দিতাম এবং আমি একটি চামচ দিয়ে একটু চিপে নিতাম মিক্সি তে পিষতাম না। সচেতন ভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কারণ একটি শিশুকে যত বেশী সংবেদনশীল করে তুলব পরে নতুন খাবারে মানিয়ে নিতে তার ততই অসুবিধে হবে।

  • তাই, যখন সে ৬ মাসের, স্তন্যদুগ্ধের সাথে তাকে একটু ডালের জল ভাতের মাখিয়ে খাওয়ানো শুরু করলাম।
  • নয় মাসের মাথায় সে সুজির ক্ষীর, প্রচুর শব্জি সহ ডালিয়ার খিচুড়ি আর লাউএর স্যুপ খেতে লাগল। অবশ্য, সেদ্ধ শব্জি হাল্কা করে পিশে দিতাম কিন্তু ছাঁকতাম না যাতে শিশুর খাদ্যনালি এবং পাকস্থলি সব রকম সবজি ফাইবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
  • আমি তার খাদ্য তালিকায় ফল হিসাবে আপেল আর কলা যোগ করলাম। আমি সাধারণত আপেল ভাপিয়ে একটি বাটিতে দিতাম। দেওয়ার আগে কলা ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিতাম। এগুলো কখনই পিষে দিতাম না।
  • পনীর এর সাথে ডিমের সাদা অংশও তার খাদ্যে যোগ হল। বাড়িতে বানানো তাজা পনীর দিতাম।
  • সত্যিই আমি কোনোদিন আমার শিশুকে সেরেলেক বা বাজারের অন্যান্য শিশুখাদ্য দিইনি কারণ এগুলো চিনিতে ভর্তি ও প্রিসারভেটিভ যোগ করা থাকে। পরিবর্তে আমি সন্ধ্যায় দুধে মারি বিস্কুট আর দুধভাত দিতে থাকি। আমার বিশ্বাস, এটি আপনার বাচ্চাকে প্যাকেজড খাবার দেবার চেয়ে ভালো।
  • সন্ধ্যার সময় আমি তাকে শব্জির স্যুপ দিতাম, যাতে সাধারণত সবরকম শব্জি কুচি কুচি করে কেটে (পালং শাক সহ) এক চামচ তেলে ভেজে তারপর এক মিনিট প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে নিতাম। একটি চামচ দিয়ে থেঁতলে নেড়ে এটা খাওয়াতাম।

আমার কন্যা যখন এক বছরের হল, তাকে যা দিয়েছিলাম তা জানার জন্য পড়া চালিয়ে যান!

যখন সে এক বছরের হল

বাচ্চার বয়স এক বছর হয়ে গেলে, তার হজমশক্তি একটি নবজাত শিশুর তুলনায় অনেক বেশি পরিপক্ক হয় এবং ছোলে এবং রাজমার মতো ভারী খাবারকেও হজম করতে পারে।

  • যখন আমার মেয়ের এক বছরের হল, তখন আমি তাকে হাল্কা তেলে ভেজে শাক-শব্জি, যেমন ব্রকলি (সবুজ ফুলকপি), এমনকি বীণ দেওয়া শুরু করলাম।
  • পাশাপাশি আমি তাকে কাঁচা গাজর ছোট ছোট করে কেটে খাওয়ার মাঝে স্ন্যাক্স এর মতো দিতাম।
  • রাজমা এবং ছোলা সেদ্ধ ছিল আরেকটি স্ন্যাক্স যা সে সারাদিন খেতে ভালবাসত এবং আমরা যখন ঘুরতে জেতাম তখন সে এক বছর বয়সে ওগুলো পেট পুরে খেত।
  • সে অন্যান্য ফল, যেমন তরমুজ, খরমুজ, আম, আঙ্গুর, কমলানেবু আর আনারস খেত। একদিন অন্তর একটা গোটা ডিমও দেওয়া হচ্ছিল।
  • ভাত ডাল তো মধ্যাহ্ন ভোজনের নিয়মিত মেনু হয়ে গেছল সঙ্গে বাড়িতে বানানো দই আর শশা কুচি।
  • ডাল বানাবার সময়, প্রেশার কুকারে দেবার আগেই আমি তাতে ঢ্যাঁড়স লাউ এবং ঋতু অনুযায়ী অন্যান্য শব্জি দিয়ে দিতাম।
  • নৈশভোজের স্যুপের মধ্যে একটি ছোট্ট রুটি ভিজিয়ে দিতাম যাতে শিশুর জন্য এটি সত্যিই নরম হয়ে যায়। আমি আমার হাত দিয়েই বাচ্চাকে খাওয়াতাম, চামচ দিয়ে না। সব ভারতীয় মায়েরা কি এটাই পছন্দ করে না?

১৮ মাস পর

আঠার মাস বয়সে আমার মেয়ে আমাদের দৈনন্দিন খাবারে বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেল এবং আমাদের সাথে বসে  নিজেই খেতে শুরু করল। যদিও সে খাবার টেবিলে অর্ধেক খাবার ফেলে ফেলত, আমি তাকে কিছু বলতাম না কারণ আমি পরিবারের সাথে খাবার খাওয়া থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দিতে সত্যিই চাইনি।

সে সত্যিই এ ব্যাপারটা ভালভাবে নিয়েছিল আর উত্তেজিত ভাবে তার "বাবা এবং মাকে" শশার টুকরো আর রুটি পরিবেশন করত। আমাকে বিশ্বাস করুন, যদি আপনি প্রথম থেকে শুরু করেন তবে আপনার বাচ্চাকে খাওয়ানো কঠিন নয়। আপনি যত বেশী অপেক্ষা করবেন, বাচ্চাকে ভারী, বড়দের খাবার খাওয়ানো এবং হজম করানো তত বেশী কঠিন হবে।

এখন আমার মেয়ের বয়স চার বছর এবং সে সব সবজি খায়, এমনকি বীট, ঢ্যাঁড়শ ও লাউ পর্যন্ত! আপনার সন্তানরাও খাবে। শুধু একটু ধৈর্য্য ধরুন এবং আপনার মন যা বলে তাকে অনুসরণ করুন, আপনার মস্তিস্ককে নয়!

Source: theindusparent