এই চাকুরীরতা মা তাঁর অসুস্থ বাচ্চার কাছে থাকতে চাইলেন এবং তিনি তাই করলেন

এই চাকুরীরতা মা তাঁর অসুস্থ বাচ্চার কাছে থাকতে চাইলেন এবং তিনি তাই করলেন

ফেসবুকের এই পোষ্টটি ভাইরাল হয়ে ২৫০০০ এর বেশী শেয়ার হয়েছে।  পুনে শহরের এক চাকুরীরতা মা আর কোনও উপায় না পেয়ে অসুস্থ ছেলেকে নিয়েই অফিসে গিয়েছেন।

মহিলার নাম, স্বাতী চিতলকার, চাকরি করেন পুনের সিন্ডিকেট ব্যাঙ্কে এবং তিনিই পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।  যাইহোক, এক শুক্রবারে এই মা একটি সমস্যার সম্মুখীন হলেন, যে সমস্যায় এই পৃথিবীর সব চাকুরীরতা মা'কেই আকছার পড়তে হয়।

এ দিনটি স্বাতীর কাজের দিন ছিল, অফিসের জন্য রওনা দেবার সময় তিনি দেখলেন যে ছেলের খুব জ্বর।  যেহেতু তাঁর চাকরিতে বাড়িতে ছেলের কাছে থাকার কোনও উপায় ছিল না, তিনি ঠিক করলেন যে তাকে তাঁর স্বামীর জিম্মায় রেখে আসবেন।  কিন্তু যখন তাঁর ছেলে তিনি ছাড়া আর কারও কাছে থাকতে রাজী হল না, অগত্যা তিনি ছেলেকে নিয়েই অফিস গেলেন।

ছেলে মেঝেতে শুয়ে দুধ খাচ্ছে আর তিনি অফিসের কাজ করছেন, এমন সময় হঠাৎ তাঁর মনে হল এই ছবিটি পোষ্ট করে দেশের নেতাদের একটা শক্ত বার্তা দিতে হবে।

তিনি অবাক হয়ে  দেখলেন যে পোস্টটি প্রত্যেকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং অনতিবিলম্বে ভাইরাল হয়ে গেছে।  এর কারণ, তাঁর বার্তাটিতে ছিল অকাট্য যুক্তি।  দেখুন, তিনি কি লিখেছিলেন :

স্বাতীর ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল : "একটা মেঝের উপর এটি কোন একটা শিশু নয়, মেঝের উপর আমার হৃদয় পড়ে আছে।  প্রচন্ড জ্বর নিয়ে বেচারা আর কারও কাছে থাকতে চাইল না।  এক বেলা অতিক্রান্ত, আমি মাঝখানে ছুটি নিতে পারি না, তাছাড়া একটা জরুরী লোন রিলীজের ব্যাপার ছিল।  কিন্তু আমি মন দিয়ে দুটি কাজই করতে সক্ষম।  আমি শুধুমাত্র মন্ত্রীদের এই বার্তাটি জানাতে চাইছি, যাঁরা বিধানসভায় বসে ঘুমিয়ে পড়েন।"

"আমি কল্পনাও করিনি যে এই পোস্টটি ভাইরাল হবে"

এই পোষ্টটি সংবাদ মাধ্যম সহ সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এবং তিনি অজস্র প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন যে কেন তিনি তাঁর বাচ্চাকে অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে, স্বাতী বলেছেন যে ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করার সময় তাঁকে এজেন্ডা নির্ধারণ করতে হয়েছিল।

"আমার ৩ বছর বয়সী ছেলেটি অসুস্থ ছিল, তার জ্বর এসেছিল।  সকাল থেকে সে তার বাবার সাথে বাড়িতেই ছিল, যিনি ঘরের কাজকর্মও করেন।  বাচ্চাটি তাঁর কথা শুনছিল না, তিনি যখন আমাকে ফোন করে জানালেন, তখন আর কয়েক ঘন্টা পরেই সেদিনের মতো কাজ শেষ হয়ে যাবে, তাই আমি ছেলেকে অফিসে পৌঁছে দেবার জন্য স্বামীকে বলেছিলাম। আমি আমার বাচ্চাকে দুধের বোতল দিয়ে শুইয়ে দিয়েছিলাম এবং যতক্ষণে আমি আমার কাজ শেষ করলাম, সে আমার পিছনে মেঝেতে ঘুমিয়ে পড়েছিল,"  ইন্ডিয়া টুডে'র সঙ্গে কথা বলার সময় স্বাতী বলেছেন।

স্বাতী মনে করেন যে সন্তানকে কাজের জায়গায় নিয়ে যাবার সিদ্ধান্তে তাঁর কোনও ভুল নেই কারণ সারা পৃথিবী জুড়ে এরকম ঘটনা ঘটছে।  তিনি বিদেশের একজন মহিলা মন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশিত একটি ছবির বিষয়ে বললেন যেখানে দেখা যাচ্ছে যে পরিভ্রমণের সময় তিনি সাথে বাচ্চাটিকেও নিয়ে গিয়েছেন।

এই ছবিটি পোস্ট করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে স্বাতী কি বলেছেন তা জানতে হলে পরবর্তী পৃষ্ঠায় পড়া চালিয়ে যান!

"আমি ভাবলাম যে আমিও বাচ্চাকে পাশে নিয়ে কাজ করছি।  সারা পৃথিবীতেই এটা ঘটছে।  তারপরই মাথায় এল যে এই ছবিটি পোস্ট করে দেশ ও রাজনীতিবিদদের বলা যাক যে জনগণ তাঁদের কাছ থেকে কি আশা করে।  এই মন্ত্রীরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন যে আমাদের পিতামাতার মতো তাঁরা আমাদের যত্ন নেবেন, তাই মা-বাবারা যেভাবে তাদের সন্তানদের যত্ন করে, তাঁদেরও সেভাবেই কর্তব্য পালন করা উচিত," তিনি বললেন।

স্বাতী চিতলকারের পোস্টটি আমাদের দেশে কর্মরতা মায়েদের দুর্দশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

"আমার বার্তার লক্ষ্য কেবল বিধানসভায় ঘুমন্ত মন্ত্রীরা নন, বরং সেই সব মন্ত্রীরাও যাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায়  তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন।  দয়া করে আমাদের দেশের জনগণের কথা মনে রেখে প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা করুন," তিনি বলেন।

ভারতে কর্মরতা মায়েদের জীবন সত্যিই বড় কঠিন এবং প্রতিদিন বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।  তবে, ইদানীং পরিস্থিতি অনেক ভাল হচ্ছে যেমন ভারত সরকার মাতৃত্ব সুবিধা সম্বন্ধীয় বিল পাস করেছে।

ভারতবর্ষের মায়েদের প্রত্যাশা পূরণে এই বিলটি থেকে কি কি আশা আছে দেখে নেওয়া যাক :

  • কর্মরতা মহিলারা মাতৃদুগ্ধ পান করাবার জন্য কমপক্ষে ছয় মাসের সবেতন বিশেষ মাতৃত্ব ছুটি পেতে থাকবেন।  
  • সারোগেসীর (অন্যের গর্ভে মাতৃত্ব) ক্ষেত্রেও ১২ সপ্তাহের মাতৃত্ব ছুটি (কমিশনিং মা) নেওয়া যেতে পারে।
  • দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে ১২ সপ্তাহের প্রসূতি ছুটি নেওয়া যেতে পারে।

আমরা শুধু আশা করব যে এই বিসয়গুলি শীঘ্রই কার্যকরী করা হবে, যাতে সারা ভারত জুড়ে কাজ করা মায়েদের সুবিধা হয়।

Any views or opinions expressed in this article are personal and belong solely to the author; and do not represent those of theAsianparent or its clients.

Written by

theIndusparent