এইভাবে খারাপ ডিভোর্স আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে

lead image

এক খারাপ ডিভোর্স আপানর সন্তানকে নানা ভাবে দুঃখ দিতে পারে, এবং এটা সারাজীবন তাদের ক্ষতি করবে। আরও পড়ুন।

আমরা সবাই জানি যে ডিভোর্স শিশুর শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষত সেই শিশু যদি দুই পক্ষের ঘৃণার মাঝে আটকা পড়ে।

কিন্তু আপনি কি জানেন যে ডিভোর্স শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে।

নতুন গবেষণা এটা নিশ্চিত করেছে, আর এই ধরেনের রোগ ব্যাধি তার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া অবধি সেই শিশু কে আক্রান্ত করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য প্রভাব

এই গবেষণার রেজাল্ট ছাপা হয় “ডি প্রসিদিংস অফ ডি নাশ্যানাল অ্যাকাদেমি অফ সাএন্সেস” এ, এতে আংশ নেন ২০১ স্বাস্থ্যকর প্রাপ্তবয়স্ক।

তারা সঙ্গরোধে সম্মত হন, তারপর তাদের সর্দি-কাশির ভাইরাস এর সাথে রাখা হয়, এবং ৫ দিন তাদের ওপর নজর রাখা হয়।

যাদের মা-বাবার ডিভোর্স হয় তাঁদের শৈশবে তাদের সর্দি-কাশি ধরার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশী (বাকি সব ধরনের প্রাসঙ্গিক অসমকে বিবচনায় নেওয়া হয়)।

যাদের মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয় কিন্তু  তবুও তারা নিজেদের মধ্যে প্রিতিকর সম্পর্ক রাখে, তারা “বেশী ঝুঁকি দর্শায়নি সেই সব ছেলে মেয়েদের তুলনায় যাদের মা-বাবা সাথেই ছিল”।

এই রিপোর্টের মতে, রগের ঝুঁকির বৃদ্ধির কারন ভাইরাল ইনফেকশান থেকে হওয়া বর্ধিত প্রদাহ।

“শৈশবের কষ্টকরণ অভিজ্ঞতা আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্য কে ক্ষতি করে এবং প্রদাহ জনিত রোগকে বৃদ্ধি দেয়,” জানান মাইকেল মারফি, তিনি কারনেজ মেলন বিস্ববিদ্যালয় এ সাইকোলজির পোস্ট ডক্টরেট রিসার্চ এসোসিয়েট।

“এই গবেষণা আমাদের এক পা এগিয়ে দিয়েছে এটা বুঝতে যে পারিবারিক পীড়ন কিবাবে এক শিশুর রোগের সংবেদনশীলতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে ২০-৪০ বছর পরেও,” তিনি আরও বলেন।

শেলদন কোহেন এই গবেষণার আরেক লেখক জানান, “এই রেজাল্ট মানুশের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনা কে লক্ষ করে জানায় যে কীভাবে পারিবারিক দ্বন্দ্ব আমাদের প্রতিরোধ শক্তিকে আঘাত করে। এই গবেষণা এটাও জানায় যে প্রত্যেক ডিভোর্স সমান নয়। ডিভোর্স সত্ত্বেও মা-বাবার মধ্যে যদি যোগাযোগ থাকে তবে টা বাচ্চাদের এভাবে প্রভাবিত করে না”।

এইখানে দেওয়া রইল কিছু উপায় আপনার শিশুকে ডিভোর্সএর সময় সাহায্যের জন্য*

১। কথা বলুন

আপনার শিশু হয়ত কিছু বলবে না ডিভোর্সের ব্যাপারে কিন্তু সে নিশ্চয় দুঃখিত এবং সে আপনাকে কাছে চায়। তার কথা শুনুন এবং তাকে জানান যে আপনি তার মনভাব জানতে ইচ্ছুক।

সে যদি কথা বলতে না চায়, তাকে বলুন তার মনের কথা ছবি একে জানাতে। সোজাসুজি কথা বলে আপনি নিশ্চয় তাকে বঝাতে পারবেন যে কি হচ্ছে, ব্যাপারতা লুকিয়ে রেখে কোনও লাভ হবে না। এই ভাবে আপনার সন্তান তার  অনুভুতি প্রকাশ করবে।

২। আপনার সন্তানের সাথে সময় কাটান

খালি সময়ে তার সাথে খেলুন, তাকে গল্প শোনান। এই সময় আপানর বাচ্চাকে সাথে নিয়ে ঘুমান।

তাকে শান্ত রাখা জরুরি,্রুরি,জন্য একটু লাথি খাওয়া সহ্য করুন। ছুটির দিনে তার সাথে ঘুরতে যান। তার স্কুলের সব রকম ইভেন্টএ যান, তাকে জানান যে আপনি তাকে ভালবাসেন।

৩। এক মজবুত সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন

আপনার সন্তানের চারপাশে এক মজবুত সম্পর্কের ভিত তৈরি করুন। তার বন্ধু, দাদু-দিদা এবং টিচারদের সাথে রাখুন। সম লিঙ্গের রোল মডেল তৈরি করা জরুরি।

ডিভোর্সের পরের এটা এক দরকারি ধাপ কারন আপনার সন্তানের এটা দুঃখের সময়। এরকম হতে পারে যে আপনার সাথে কথা বলতে রাজি নয় কারন সে আপনাকে দায়ি করছে তার মা/বাবা থেকে দূরে নিয়ে আশার জন্য। তাই এটা জরুরি যে তার কাছাকাছি অনান্য প্রিয়জনও থাকুক।

৪। দৃঢ়তা দরকার

ডিভোর্স এর আগেকার শৃঙ্খলা এবং নিয়ম মেনে চলুন। তার দুঃখ দূর ক্রাতে গিয়ে তাকে বেশী আশকারা দেবেন না, তাই আগেকার রুটিন মাফিক চলুন। এটা আপনার সন্তান কে সেখাবে যে আপনি কোট মজবুত এবং দৃঢ় এবং তাকেও আপনার মত হতে প্রেরণা যোগাবে।

এক নির্দিষ্ট সময় স্থির করুন যে সময় আপনি তার সাথে কাতাবেন এবং তার জীবনের ব্যাপারে জানবেন, তার স্কুলে কি হচ্ছে,  কারা তার বন্ধু এই সব। একই ভাবে আপনার কাজের ব্যাপারেও তাকে জানান। তাকে বলুন আপনি ঘরে ফিরে তার সাথে সময় কাটাতে কতটা উৎসুক।

৫। আশ্বস্ত করুন

ডিভোর্সের সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার এই যে এটা আপনার শিশুকে জানায় যে আরর প্রতি ভালবাসা ফুরিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই সে ভয় পায় যে আপনি তাকেও ভালবাসা বন্ধ ক্রেতে পারেন! তাই তাকে আশ্বস্ত করা দরকার যে আপনি তাকে সারাজীবন ভালবাসবেন।

এটাও তাকে জানান দরকার যে তার অন্য প্যারেন্ট ও তাকে ভালবাসে এবং সবসময় ভালবাসবে। তাকে বোঝান যে আপনার স্বামী/ বা স্ত্রী এইজন্য আপনাকে ছেড়ে গেছেন কারন আপনআদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না, এতে তার কোনও দোষ নেই।

বাচ্চাকে এই সব বোঝান দরকার যাতে তার সন্দেহ দূর হয় এবং সে জানে সে তাকে সবাই ভালবাসে। এটা তাকে সাহায্য করবে এক দৃঢ় ব্যাক্তি তৈরি হতে।

৬। অনান্য সিঙ্গেল প্যারেন্ট পরিবারের বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্ব

আপনার বাচ্চার মনে হতে পারে যে সেই একমাত্র যার মা-বাবার ডিভোর্স হয়েছে। সে যাতে নিজেকে একঘরে না মনে করে তাই অনান্য সিঙ্গেল প্যারেন্ট পরিবারের বাচ্চাদের সাথে তার পরিচয় ও বন্ধুত্ব করান।

*এই অধ্যায়টি পুনঃমুদ্রিত করা হয়েছে “সন্তান ও ডিভোর্স -কি ভাবে সহজ করবেন?” এর অনুমতি নিয়ে।

Source: theindusparent