"আমি আট মাস যাবৎ গর্ভধারণ করতে পারি নি এবং তারপর জানতে পারলাম ..."

"তিন মাস ধরে চেষ্টা করার পর, আমার মাসিক ঋতু স্রাব হল না এবং আমি আনন্দে ভাসছিলাম, কিন্তু পর মুহূর্তেই আমার আশা-আকাঙ্খা ধূলিসাৎ হয়ে গেল যখন গর্ভাবস্থা পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল দেখতে পেলাম।"

অন্যান্য চাকুরিরতা মহিলার মতো আমিও ঠিক করেছিলাম যে বিয়ের পর কয়েক বছর অপেক্ষা করে সন্তান নেব।  এখানে বলে রাখি যে ২৪ বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়েছিল আর তখন সবে মাত্র আমার চাকুরিজীবন শুরু হয়েছে এবং সেই সময় কোনোমতেই সন্তান জন্ম দেবার জন্য আমি থামতে চাই নি।

আমি আমার জীবন, চাকরি আর অন্যান্য দায় পালন করে গেলাম।  এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাবার পর অবশেষে ৬ বছর পর যখন ভাবলাম যে এবার সময় এসেছে, তখন বুঝতে পারলাম যে এ পৃথিবীতে  একটি সন্তান পাওয়া অত সহজ নয়।

ইতিমধ্যে আমি ওজনও বাড়িয়ে চলেছি, দেখলাম যে আমার আংটি টাইট হয়্বে গেছে এবং আমার প্রিয় জিনসটি আর পরা যাচ্ছে না!  ভাবলাম যে এটি ব্যায়াম না করার ও ব্যাস্ত জীবনের ফল যা এতদিন ধরে অবজ্ঞা করে এসেছি।  তারপর নানা ভাবে, নানা অবস্থানে, বিশ্ব সংসারের যাবতীয় প্রথায় চেষ্টা করে গেলাম শুধু প্রেগন্যান্সি টেস্টে দুটো পলকা রেখা দেখার জন্য।

কিছুই কাজ করছে বলে মনে হল না

কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না।  আমি আমার মা ও কাকীমাদের জিজ্ঞাসা করলাম, যদি তাঁরা এমন কোনও পয়মন্ত কায়দা জানেন যাতে আমি গর্ভবতী হতে পারি।  "মিলনের সময় পিঠের নীচে একটা বালিস রাখবে।  এটি তাড়াতাড়ি পোয়াতি হতে সাহায্য করবে,"  এক কাকীমা বললেন, "বেশী করে নারকেল খাও।  এতে গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা বাড়ে," আরেক কাকীমার উপদেশ, কিন্তু কিছুতেই চিচিং ফাঁক হল না।

তিন মাস ধরে চেষ্টা করার পর, আমার মাসিক ঋতু স্রাব হল না এবং আমি আনন্দে  ভাসছিলাম, কিন্তু পর মুহূর্তেই আমার আশা-আকাঙ্খা ধূলিসাৎ হয়ে গেল যখন গর্ভাবস্থা পরীক্ষায় নেতিবাচক ফল দেখতে পেলাম।  ১৫ দিন দেরী করে মাসিকও শুরু হয়ে গেল।  ধকলের জন্য এরকম হচ্ছে ভেবে আমি ফের অবজ্ঞা করলাম আর "যথাসময়ে চেষ্টা" করতে করতে জীবনযাপন করতে লাগলাম।

তিন মাস পর আবার মাসিক হল না কিন্তু প্রেগন্যান্সী টেস্ট এবারও নেতিবাচক।  পরের মাসেও মাসিক হল না।  এতে আমি চিন্তায় পড়লাম এবং বাড়ীর পাশে এক গাইনোকলজিস্ট এর কাহে গেলাম, যিনি আমাকে প্রথমেই টি এস এইচ (থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন) এর পরিমাণ নির্ণায়ক পরীক্ষা করাতে বললেন।

থাইরয়েড এর মাত্রা কিভাবে আপনার উর্বরতা কে প্রভাবিত করে, তা জানতে হলে পরের পাতায় পড়া চালিয়ে যান।

গর্ভধারণে বিলম্বের কারণ

হ্যাঁ, আমার অনিয়মিত মাসিক স্রাব ও গর্ভবতী হতে ব্যর্থ হবার কারণ -- আমার হাইপোথাইরইয়েড  যা আমার উর্বরতাকে প্রভাবিত করে গর্ভবতী হবার সম্ভাবনাকে বিলম্বিত করছিল।  অন্যান্য উপসর্গগুলিও ছিল, যেমন অস্থির মেজাজ , তীব্র ক্লান্তি এবং চুল পড়া, কিন্তু এই লক্ষণগুলি আজকের দিনে এতই সাধারণ, যে আমি এ ব্যাপারে মাথা ঘামাই নি।

thyroid 2

যাইহোক, ভাগ্যবলে আমি সঠিক সময়ে একজন ভালো গাইনোকলজিস্ট পেয়েছিলাম এবং থাইরয়েড এর ফলাফল দেখে তিনি আমাকে এক মাসের জন্য ওষুধ দিলেন এবং আপাততঃ কিছুদিন আমার শিশুর মা হবার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে বললেন!

দুই মাস ধরে ওষুধটি খাবার পর তিনি আবার টিএসএইচ পরীক্ষা করাতে বললেন এবং সৌভাগ্যক্রমে এবার তা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই ছিল।  তিনি আমাকে বললেন যে এবার আমি  শিশুর জন্য চেষ্টা শুরু করতে পারি এবং তারপর কি হল জানেন, এক মাসের মধ্যেই আমি পরীক্ষাটি উত্তীর্ণ হলাম।  অবশেষে দুটি সূক্ষ্ম লাল রেখা আবির্ভূত হল এবং এবার কিন্তু সেই পুরোন মিশনারি অবস্থানেই কাজ হল।

রসিকতা থাক, মেয়ো ক্লিনিকের মতে, থাইরয়েড হরমোনের কম মাত্রা বা কম ক্রিয়াশীল থাইরয়েড গ্লান্ড, ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানুর নিঃসরণে (গর্ভাধান) বাধা দেয়, যা নারীদের স্বাভাবিক উর্বরতাকে দুর্বল করে।  তাছাড়া, হাইপোথাইরয়েডের কিছু অন্তর্নিহিত কারণ - যেমন নির্দিষ্ট অটোইমিউন অথবা পিটুইটারি গন্ডগোল - উর্বরতাকে দুর্বল করে।

অতএব, যদি আপনারা আমার মতো সমস্যায় পড়েন তাহলে আমার মতে, এখনই থাইরয়েডের পরীক্ষা করান।  হয়তো এটিই আপনার বন্ধ্যাত্ব, অস্থির মেজাজ এবং অন্যান্য হরমোন ঘটিত রোগের কারণ, যা আপনার শরীর ও মনের শান্তি বিঘ্নিত করছে।

Source: theindusparent