আমার মেয়ের টিভি দেখার নেশা কাটাতে আমি ৩ টি সহজ কাজ করেছিলাম

lead image

সব কিছুরই বাড়াবাড়ি ভালর চেয়ে ক্ষতি বেশি করে, যদিও এটা ধ্রুব সত্য যে কারো কোনও অভ্যাসই সম্পূর্ণরূপে ছেঁটে ফেলা যায় না।

সত্যি কথা বলতে কি, যদিও আমরা চাই না যে আমাদের বাচ্চারা সারাদিন টেলিভিশন সেটের সঙ্গে সেঁটে থাকুক, তাদের বয়সীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক বেশী সময় ধরে তারা ছোট পর্দায় চোখ রাখে - তা সে আপনি পছন্দ করুন বা না করুন।

সবচেয়ে বড় কথা, চাকরী করা হোক বা ঘরে থাকা - আমরা ব্যস্ত মা, কাজেই সংকট সময়ে যেমন, কোনো মহার্ঘ্য ভোজন রান্না করার সময়, অকস্মাৎ আবির্ভূত অতিথিকে ঘরে রান্না খাবার খাওয়াবার জন্য অথবা কোনো প্রোজেক্টের ডেডলাইনে বিপর্যস্ত অবস্থায়, আমরাই টিভির সুইচটি অন করে দিই কারণ আমরা জানি যে এই সময় ভগবানের মতো, একমাত্র টিভিই পারে আমার সর্ববৃহৎ দায়িত্বটির যথাযথ দেখভাল করতে!
src=https://www.theindusparent.com/wp content/uploads/2016/02/child watching TV.jpg আমার মেয়ের টিভি দেখার নেশা কাটাতে আমি ৩ টি সহজ কাজ করেছিলাম

অন্যান্য ভারতীয় পরিবারের মতো, আমার চার বছর বয়সী মেয়েটিকে নিয়ে সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ঘর থেকে টিভি দূর করে আমরা টিভি-মুক্ত জীবন যাপন করব!   কিন্তু, এটা বলা সহজ, করা কঠিন!

তাছাড়া, আজকের দিনে আমাদের ঘরে অনেক পর্দাওয়ালা যন্ত্র (হ্যাঁ, আমি আইপ্যাড, স্মার্ট ফোন, এসবেরই কথা বলছি) তাই টিভি না থাকলে, তখন আপনার বাচ্চা নিজেকে ব্যাস্ত রাখার জন্য যে যন্ত্র পাবে, খেলনার মতো তাই নিয়ে ব্যস্ত থাকবে।

যাইহোক, তার মানে এই নয় যে আপনি আপনার বাচ্চার সবসময় টিভি দেখা থেকে বন্ধ করার অন্য কোনো উপায় খুঁজে পাবেন না। আমি যা করেছিলাম তার কয়েকটি এখানে দিলাম। আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

১। পুরোপুরি বন্ধ করবেন না

সব কিছুরই বাড়াবাড়ি ভালর চেয়ে ক্ষতি বেশি করে, যদিও এটা ধ্রুব সত্য যে কারো কোনও অভ্যাসই সম্পূর্ণরূপে ছেঁটে ফেলা যায় না। ধীরে ধীরে আপনার সন্তানের টেলিভিশন দেখার সময় কমিয়ে আনুন, যতক্ষণ না আপনি টিভির প্রতি তার আকর্ষণ পুরোপুরি ছাড়াতে পারছেন।

ধরুন, আপনার বাচ্চা কম সে কম লাগাতার ৩ ঘন্টা টিভি দেখায় অভ্যস্ত, এটাকে দুই দফায় এক এক ঘন্টাতে নামিয়ে আনুন।  সপ্তাহ দুয়েক পরে এটা ৪০ মিনিট করুন, পরের সপ্তাহে আধ ঘন্টা।  একবার এটা করে ফেলতে পারলে এরপর আপনার ওপর নির্ভর করবে যে আপনি তার জীবন থেকে টিভি সম্পূর্ণ বাদ দিতে চান কি না কেননা বিশেষজ্ঞরা রোজ আধ ঘন্টা টিভি দেখা অনুমোদন করে।  

২। বিকল্প খুঁজুন

আপনি আপনার সন্তানকে টিভি বন্ধ করার জন্য বলতে পারেন না কারণ আপনার বাচ্চা অন্য কিছু না করে কেবলমাত্র টিভি দেখায় অভ্যস্ত। অতএব বিকল্প সন্ধান করুন যাতে সে নিজকে ব্যাস্ত রাখতে পারে এবং তার মন টিভি পর্দা থেকে বিমুখ হয়।

তাকে তার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন এবং যখন সে টিভির সঙ্গে দূরত্ব আনবার চেষ্টা করছে, তার সাথে বসতেও পারেন। শান্ত হয়ে এবং ধৈর্য নিয়ে এর সপক্ষে একটি যুক্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করুন। তাকে বলুন যে কেন আপনি তাকে টেলিভিশন থেকে মুক্ত করার জন্য এত উঠে পড়ে লেগেছেন। তাকে টিভির খারাপ প্রভাব সম্পর্কে বলুন। তার সঙ্গে বয়স্কদের মত আচরণ করুন এবং তার উদ্বেগগুলিও শুনুন। তার সাথে বসে তাকে উৎসাহিত করার জন্য সে যা করছে আপনিও তাই করুন।

৩। আপনি যা শিক্ষা দিচ্ছেন, নিজেও তাই করুন

আপনি আপনার বাচ্চাকে একটি বই পড়ার জন্য বলে নিজে পাশের কামরায় গিয়ে আপনার প্রিয় সিরিয়ালটি দেখতে পারেন না। এইরকম দৃশ্যে, শিশুটি ভাববে যে তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বা ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন কিছু করার কথা বলা হচ্ছে যা সে চায় না। উপরন্তু, এটি তাকে বিভ্রান্ত করবে এবং সে তার জন্য নির্ধারিত কাজটি সেই সময় আর করতে পারবে না।

সুতরাং, আপনার সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থে, আপনার সন্তান যখন স্কুলে বা বা ঘুমিয়ে আছে শুধুমাত্র সেই সময় আপনি টিভি দেখলে ভাল হয়, যখন আপনার বাচ্চা ধারে কাছে নেই। যখন সে আশেপাশে থাকবে তখন তার সাথে থাকুন এবং টিভি ছাড়া তার জীবনযাপনে তাকে সাহায্য করুন।

আমার মেয়ে যখন পড়ত বা তার খেলনা নিয়ে খেলত সেই ঘণঘোর সময়ে তার পাশে আছি - একথা বোঝাবার জন্য আমি তার পাশে বসে থাকতাম। সত্যিই, যখন আপনার সন্তান একটা অভ্যাস, যাতে সে আজন্ম অভ্যস্থ, তা ছাড়ার চেষ্টা করছে সেটা একটা ঘণঘোর সময়! কল্পনা করুন যদি কেউ আপনাকে আপনার প্রিয় খাবার অথবা সকালে মগ ভরতি চায়ের অভ্যাস ছেড়ে দিতে বলে তখন আপনার কেমন লাগে! আপনার বাচ্চার কষ্টটা অনুভব করুন আর তাকে বলুন যে আপনি তার সঙ্গে আছেন।

Source: theindusparent