আমার মেয়েরা ৮ টায় ঘুমায় এবং কীভাবে আমি তাদের এ রুটিনে অভ্যস্ত করেছি, এখানে দিলাম!

lead image

এই একটি বিষয়ে প্রায় সব মায়ের অভিজ্ঞতা একই যে তাঁদের বাচ্চারা কতো দেরীতে ঘুমায় এবং তাঁরা কতো চেষ্টা করেন তাড়াতাড়ি ঘুম পাড়াতে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

"আমার মেয়ে তো রাত একটায় ঘুমায় সেও বহু সাধ্যসাধনায়।''

"আমি জানি না যে আমি আর কি করতে পারি, তারা কিন্তু কিছুতেই সময়ে ঘুমায় না, আমি চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।"

''রাত দুটোর বাজলেও সে খেলা নিয়েই ব্যাস্ত থাকে!"

এই ধরণের একই কথা আমি মা হবার পর থেকে কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি।  সত্যি কথা বলতে কি, যতদূর আমার মনে পড়ে, আমি গর্ভবতী হবার পর পরই নোতুন মাদের কাছে শুনতাম, "যত ঘুমাবার আছে ঘুমিয়ে নাও, বাচ্চা জন্মাবার পর আর রাতে ঘুমাতে পাবে না"

আমার মেয়ের জন্মের পর প্রথম বছরটা খুবই কঠিন ছিল ....

অবশ্য আমি ভয়ে অসাড় ছিলাম, এবং আর সব নতুন মায়ের মত, আমার প্রথমবার মেয়ে জন্মানোর পর প্রথম বছরটা ভয়ঙ্কর এবং প্রচন্ড ক্লান্তিকর ছিল। আমি বুঝতেই পারিনি কখন দিন হত আর কখন রাত।  ছোট্ট বাচ্চাটি মাঝরাতে জেগে যেত, কখনও বা সে দিনে খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে নিত আর সবচেয়ে পরিতাপের বিষয়, ওকে যতক্ষণ ধরে ঘুম পাড়ানো হতো তার থেকে অনেক কম সময় ঘুমাত।

যদি ওকে ঘুম পাড়াতে ঘন্টাখানেক সময় লাগত, ও ঠিক আধঘন্টা ঘুমাত আর উঠে পড়ত!  পালা করে এটাই চলত।  প্রথম বছরে সে দিনে কয়েক দফায় ঘুমিয়ে নিত কিন্তু সন্ধ্যে হলেই বেশি কাজের হয়ে উঠত এবং রাতে পূর্ণ জাগ্রত।

ততক্ষণে আমি প্রায় মরে গেছি আর জ্ঞান হারাতে চলেছি, তার কিন্তু একটু শুয়ে থাকারও সদিচ্ছা নেই।  অতএব সে রাত একটা দুটো পর্যন্ত জেগে থাকত, আবার ছটা বাজতে না বাজতে উঠে পড়ত।
আমার মেয়েরা ৮ টায় ঘুমায় এবং কীভাবে আমি তাদের এ রুটিনে অভ্যস্ত করেছি, এখানে দিলাম!

তাই যখন আমি দ্বিতীয় বার অন্তঃসত্ত্বা হলাম, প্রথমেই ঠিক করলাম যে ঘুমের সমস্যাগুলি এবার আর নয়।  আমি শিশুপালন সম্বন্ধীয় বই দেখা বন্ধ করলাম আর সত্যি কথা বলতে কি এটাও ভাবা বন্ধ করলাম যে বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকা শিশুদের পক্ষে স্বাভাবিক। আমি ঠিক করলাম যে আমি আমার মতো করে চেষ্টা করে দেখি যে কি ঘটেছে।

দ্বিতীয় শিশুকে নিয়ে আমার পরিকল্পনা

আমি ঠিক করেছিলাম যে প্রথম চার মাস ব্যাপারটা সহজভাবে নেব।  যে কোনো কারণেই হোক আমার ছোটোটির কলিকের ব্যাথা  ছিল এবং যখন আমি তার ব্যাথা, কষ্ট আর কান্নাতে খুবই বিচলিত ছিলাম তখনও আমার মনের শেষ  কথা ছিল যে তাকে ঘুমাতেই হবে।  যখন বাচ্চাটি ৫ মাসের হল, তার ব্যাথা কমতে শুরু করল এবং আমি বুঝতে পারলাম যে তার ঘুমের রুটিন শুরু করার এটিই হচ্ছে উপযুক্ত সময়।

আমি কি করেছিলাম ....

ছোটটি যখন জন্মায় তখন আমার বড়টির বয়স ছিল ছ বছর এবং সে তখন স্কুল যাচ্ছে, কাজেই আমি যখন শিশুর সাথে ঘুমাতাম সে তখন তার বাবার সাথে ঘুমাত। আমি প্রথমেই সময় দিয়ে  আমার বড়টিকে একটি রুটিনে অভ্যস্ত করি।  তাই, সে যদি দিনের বেলায় ঘুমাত, তা যেন এক ঘন্টার বেশি না হয় সেটা আমি দেখতাম।  এটাও দেখতাম যে খেলার জন্য তার যেন অনেকটা সময় থাকে, যাতে সে যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

সাড়ে ছটার মধ্যে রাতের রান্না শেষ করে সাতটার মধ্যে খাইয়ে দিতাম।  সোয়া সাতটার সময় তাকে এক গ্লাস দুধ দিতাম এবং তারপর সে এসে আমার ও শিশুর সঙ্গে একটু বসতো আর আমার সাথে দুয়েকটি গল্প পড়ত। এর পর সাড়ে সাতটার মধ্যে  সমস্ত আলো বন্ধ করে সে তার বাবার পাশে শুয়ে পড়ত।  সে হয়ত নটা-সাড়ে নটা পর্যন্ত জেগে থাকত কিন্তু বিছানাতেই থাকতো।
আমার মেয়েরা ৮ টায় ঘুমায় এবং কীভাবে আমি তাদের এ রুটিনে অভ্যস্ত করেছি, এখানে দিলাম!

সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করত যে সে একবার উঠতে পারে কি না কিন্তু তার বাবা বলত যে ওটা ঘুমের সময় এবং আমরা সবাই বিশ্রাম করছি।   শুধুমাত্র উঠে না পড়ার জন্য আমার স্বামীকেও যথেষ্ট চেষ্টা করতে হয়েছে এবং সে যাতে উঠে না পড়ে তার জন্যও।  (তিনি নিশ্চয়ই চুপচাপ শুয়ে থাকতে খুবই বিরক্ত বোধ করতেন)।

এদিকে আমি ছোটটিকে ছটার সময় স্নান করিয়ে তার সাথে আস্তে আস্তে কথা বলে, তাকে ম্যাসেজ করে তার মাথায় এবং পিঠে চাপড়াতাম।  যেই আমার বড় মেয়ে  ঘুমাতে যেত, আমি ছোটটিকে খাওয়াতাম আর তারপর বিছানায় শুইয়ে তার পাশে শুয়ে পড়তাম।

শিশুটি যদি স্তন্যপান করতে চাইত, আমি শুয়ে শুয়েই করাতাম। আমার স্বামী এবং আমি, দুজনেই ফোনগুলি অন্য কামরায় রাখতাম, যাতে বাচ্চাদের ব্যাঘাত না হয়। প্রথমদিকে অনেকক্ষণ পর্যন্ত  শিশুটি ঘুমাতো না, এমনকি ঘুমালেও, সে অনেকবার জেগে উঠত। কিন্তু ধীরে ধীরে, তার বয়স আট মাসে পৌঁছানোর সাথে সাথে সে আরো বেশীক্ষণের জন্য ঘুম দেওয়া শুরু করল এবং খুব কমই জেগে উঠতো।

আজ, আমার মেয়েদের বয়স চার এবং দশ বছর।  বড়টি সাতটার মধ্যে খেয়ে বিছানায় যায় এবং  আটটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে। আমরা বাড়িতে না থাকলে, তার পক্ষে জেগে থাকা মুশকিল হয়।  সে বিকেলে ঘুমান একদম বন্ধ করে দিয়েছে।

ছোটটিও বিকেলে ঘুমায় না আর ছটার মধ্যে খেয়ে নেয়।  বেশিরভাগ দিন, সে সাড়ে ছটা থেকে সাতটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে।   কেউই আর তাদের ঘুমের মধ্যে জেগে ওঠে না এবং সকাল সাড়ে ছটায় ঘুম থেকে জেগে ওঠে।

Source: theindusparent

Written by

debolina

app info
get app banner