আপনার সীজারিয়ান সেলাই এর যত্ন

ব্যক্তিগত কারণেই হোক বা প্রসবকালীন সঙ্কটের ফলেই হোক, যখনই আপনাকে সীজারিয়ান সেকশন বেছে নিতে হয়, সেটা একটা বড় অস্ত্রোপচার রূপেই বিবেচিত হয় কারণ এতে ছুরি দিয়ে আপনার পেট কেটে জরায় থেকে শিশুটিকে বার করা হয়।

তাই, অস্ত্রোপচারের পর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয় যাতে আপনার ক্ষত নিরাময় পদ্ধতি সঠিক পথে এগিয়ে যায় এবং আপনি সি-সেকশন এর ঝক্কি থেকে সম্পূর্ণ সেরে ওঠেন।

আপনার ক্ষতের যত্ন

সম্ভবত নবজাত শিশুটিই এখন আপনার অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বর কিন্তু এখন, য়াপনার নিজের যত্ন নেওয়ার কথাটা মনের রাখাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সীজারিয়ান সেকশনের ক্ষতের সঠিক মনোযোগ সহকারে যত্ন প্রয়োজন যাতে এটি ভালভাবে সেরে ওঠে এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা বা থাকে।

তাহলে আপনার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার পর্যায়ে কি করা উচিত?

জায়গাটি প্রতিদিন পরিষ্কার করুন

যদি আপনার ক্ষতে ব্যান্ডেজ থাকে, আপনাকে প্রতিদিন বা যখনই নোংরা হয়ে যাবে বা ভিজে যাবে,  এটিকে পালটে ফেলতে হবে।

আপনার সি-সেকশনের কাটাটি গরম জল ও হালকা সাবান দিয়ে ধুয়ে সর্বদা পরিষ্কার  রাখা উচিত।

আপনার কাটা জায়গাটি কখনও ঘষবেন না, পরিবর্তে পরিষ্কার কাচা কাপড়ে বা এক টুকরো স্পঞ্জে সাবানের ফেনা নিংড়ে ফেলে গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।


সর্বদা জায়গাটি সম্পূর্ণ শুষ্ক রাখুন

স্নানের পর, কাটা জায়গাটি সবসময় ড্রেসিং এর আগে একটি পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পুরো শুকিয়ে ফেলতে হবে।

সেলাই এবং তার আশেপাশে কোনরকম প্রসাধনী তেল, ক্রীম বা লোশন ব্যবহার করবেন না কারণ এগুলির কোনও উপাদানের জন্য ক্ষতস্থানে জ্বালা হতে পারে -- পরিবর্তে বরং কোনও স্কার জেল লাগালে উপকার পাবেন।

দেশের গরম এবং আদ্র আবহাওয়ার জন্য আপনার ঘাম হতে পারে তাই, কখনও কখনও স্থানটি অনাবৃত রাখা ভাল আর তাছাড়া, ঢিলাঢালা পোশাক পরবেন যাতে ক্ষতস্থানে হাওয়া লাগে।

বিভিন্ন স্তন্য পানের অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা

কোনও কারণ নেই যে আপনি সীজারিয়ানের পর আপনার ছোট্টটিকে বুকের দুধ খাওয়ান শুরু করতে পারেন না, তবে যাতে কোনও ব্যথা বা অস্বস্তি না হয় তার জন্য আপনাকে বিভিন্ন অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা করা উচিত যা আপনার এবং শিশুটির জন্য ভাল কাজ করে, যেমন :

  • ফুটবল / ক্লাচ / রাগবি ধরা
  • পাশফিরে শুয়ে ধরা
  • অস্ট্রেলিয়ান / কোয়ালা ধরা
  • চিত হয়ে শুয়ে ধরা

আপনার বাচ্চাটিকে রাখার আগে আপনি আপনার পেটে একটি ছোট বালিশ রাখুন, যাতে সেটি ওই এলাকার উপর অতিরিক্ত কুশনের কাজ করে।

ক্ষতস্থানটিকে রক্ষা করা

আপনার সীজারিয়ানে ভেতরে ও বাইরে কাটা হয়েছে, নিরাময় কালে যা আপনাকে আঘাতে খুলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে।

হাসি, কাশি, ঝাঁকুনি এবং বিছানা থেকে নামার সময় অথবা বসা অবস্থা থেকে দাঁড়াবার সময় সর্বদা  আপনার কাটা জায়গাটাকে বাঁচিয়ে রাখুন।

আপনি একটি আরামদায়ক পেট বন্ধনী ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার ব্যথা কমানোর জন্য, পেটের টিস্যুগুলিকে সংকুচিত করার জন্য, ফোলা কমাতে এবং এমনকি আপনি আপনার প্রসবের আগের চেহারা  ফিরে পেতে সাহায্য করবে!

শীতল বা উষ্ণ চিকিৎসা করুন

অপারেশনের পর আপনার ফোলা এক বা দুই দিনের মধ্যে চলে যাওয়া উচিত, তবে যদি আপনার সীজারিয়ান সেলাইয়ের ধারে ধারে কিছু ফোলা থাকে তবে আপনি আচ্ছাদিত ক্ষতস্থানের উপরত বরফের ব্যাগ রাখতে পারেন।

আপনার আচ্ছাদিত ক্ষতস্থানে হীটিং প্যাড রাখলে বা গরম সেঁক দিলেও তা রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে, ফলে তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে।

ঢিলাঢালা পোশাক পরুন

ঢিলাঢালা পোশাক বাছুন, যেমন একটি আলগা নাইটি, ঢিলা প্যান্ট বা বড় সাইজের টি-শার্ট, কারণ আঁট পোশাক সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে ঘসা গিয়ে জ্বালা হতে পারে।

একবার আপনার ক্ষত সারতে শুরু করলে, আপনি আবার আপনার নিয়মিত জামাকাপড় পরা শুরু করতে পারেন কিন্তু তবুও পুরোপুরি না সারা পর্যন্ত আপনাকে পেটের সাপোর্ট এবং ক্ষতচিহ্ন প্রতিরোধী জেল ব্যবহার করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংক্রমণের লক্ষণ

প্রথমে আপনার সীজারিয়ান সেকশন ক্ষতস্থান ঈষৎ স্ফীত এবং আপনার ত্বকের বাকি চামড়ার তুলনায় হালকা বা গোলাপী হয়ে উঠবে এবং ব্যথা দুই বা তিন দিনের পরে কমে যাওয়া উচিত, কিন্তু তিন সপ্তাহ বা সম্ভবত তার পরেও কিছুটা ঠুনকো লাগতে পারে।

তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ আছে যা সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে এবং অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে

  • উষ্ণতা, লালচে, ফুলে যাওয়া, অথবা কাটা জায়গা থেকে কোন অস্থিরতা অনুভব করা
  • সবচেয়ে খারাপ হচ্ছে যদি আপনি হঠাৎ ব্যথা অনুভব করেন
  • জ্বর আসা
  • দুর্গন্ধ বা অস্বাভাবিক যোনি স্রাব
  • প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালা অনুভব
  • ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া কিন্তু করতে গেলে না হওয়া
  • ধূসর বা রক্তিম প্রস্রাব
  • আপনার পায়ের একটা জায়গায় ব্যথা, অথবা এক পা অন্যের চেয়ে বেশি ফুলে যাওয়া (যা রক্ত জমার চিহ্ন হতে পারে)

কি এড়ানো উচিত

আপনার নিরাময় পর্বে, নিরাময় প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করার জন্য আপনাকে কয়েকটি কাজ এড়িয়ে চলতে হবে, যেমন :

  • যৌন সংসর্গ
  • তুলোর পট্টি বা যোনি ডুচ ব্যবহার
  • সাঁতার কাটা, গরম টব বা বাথটবে ডোবা (কারণ, আপনার ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে পারে)
  • আপনার শিশুর তুলনায় ভারী যে কিছু বহন করা
  • সিঁড়ি ভাঙা
  • জোরালো ব্যায়াম

সহজ ভাবে নিন

বিভিন্ন নারী বিভিন্ন সময়ে সুস্থ হয় এবং যদিও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সময় এতসব বাধানিষেধ হতাশাজনক বলে মনে হতে পারে, তবুও আপনাকে নিজের যত্ন নেবার কথাও মনে রাখতে হবে।

এই অসুবিধা এবং অস্বস্তি বোধ করা স্বাভাবিক, তাই এটাকে আপনি এটি সহজ মনে গ্রহণ করুন এবং যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিন।

ব্যাথা কমানোর জন্য আপনার ডাক্তারকে কিছু ওষুধের কথা জিজ্ঞাসা করুন যা ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে কিন্তু স্তনের দুধ খাওয়ানোর জন্য নিরাপদ।

আপনার সঙ্গী বা পরিবারের কাছে শিশুর জন্য বা আনুষঙ্গিক কিছুর জন্য সাহায্য নিতে লজ্জা বোধ করবেন না কারণ আপনার অবশ্যই কিছু স্নেহ, ভালবাসা ও যত্ন প্রাপ্য!