আপনার সন্তানের কি নাক ডাকে? এটা কিন্তু এই জীবন-সংশয় অবস্থার কারণে হতে পারে!

lead image

সম্প্রতি যখন আমাদের দেখা হয়েছিল, তখন আমার এক বন্ধুকে খুব বিচলিত মনে হয়েছিল। যখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার, সে আমাকে জানালো যে তার ছেলে ভাল নেই, এবং তিনি ও তার স্বামী উভয়েই লক্ষণগুলো দেখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

যখন আমি তাকে বিস্তারিতভাবে সব জানাতে বললাম, সে আমাকে বলল যে তাঁদের ছেলের সামান্য নাক ডাকা থেকে এর সূত্রপাত, যা তাঁদের বাচ্চার একটি সুন্দর বৈশিষ্ট বলে তাঁরা মনে করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে, তাঁরা ভেবেছিলেন যে শিশুটি এটা তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, এবং তাঁরা প্রায়ই এটি নিয়ে মজা করতেন। তবে, যখন এটি চলতেই থাকল, তখন তারা মনে করলেন যে নন্ধ নাকের জন্যই এমন হচ্ছে, এবং তাকে ওষুধের দোকান থেকে কিনে কিছু ওষুধ দিলেন।

কিন্তু শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়নি।

খুব শীঘ্রই, সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুটি ঘুম পাচ্ছে বলে জানাতে শুরু করে, এবং প্রায়ই স্কুল বাস মিস করতে থাকে। আমার বন্ধু তখন সত্যিই রেগে যেতেন এবং প্রতিদিন তাকে বকাঝকা করতেন। কিন্তু যদিও সে সময় মতো ঘুমাতে যেত, সে ঠিকমত ঘুমাতে পারতো না, এবং শেষে স্কুল যেতে পারতো না।

কয়েক সপ্তাহ পরে, স্কুল থেকে তাঁদের ফোন করা হল, সেখানে শিক্ষকরা জানালেন যে তাঁদের ছেলে ক্রমে ক্লাসে আরও বেশি বিভ্রান্ত হয়ে উঠছে এবং কোনোকিছুতেই মন দিতে পারছে না। এছাড়াও, সে পড়ায় মনোনিবেশ করতে সক্ষম নয় এবং প্রায়ই ক্লাসে তাকে খুব ক্লান্ত মনে হয়।

তখনই তাঁরা ঠিক করলেন যে সঠিক চিকিৎসার জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন এবং ডাক্তার যে রোগটি নির্ণয় করলেন, তাঁরা সে সম্বন্ধে একবারের জন্য অনুমান পর্যন্ত করেন নি।

এই ছোট্ট ছেলেটির ঘুম অ্যাপনীয়া হয়েছে।

ঘুম অ্যাপনীয়া কি?

এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা যেখানে শ্বাসযন্ত্রের ওপরের দিকে বাতাসের প্রবাহ কোনও কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া কঠিন করে তোলে। গুরুতর ক্ষেত্রে, শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে, এটি অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা ডেকে আনতে পারে, আর সেইসঙ্গে জীবনসংশয়ের কারণও হয়ে উঠতে পারে।

আপনার সন্তানের মধ্যে রাতের বেলায় যে লক্ষণগুলি দেখলে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত

  • সপ্তাহে তিন বা ততোধিক রাতে নাক ডাকা।
  • মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়াতে বাধা, নাক ডাকা, এমনকি কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে যাওয়া।
  • ঘুমন্ত অবস্থায় ঘামা।
  • ঘুমন্ত অবস্থায় অস্থির ভাব, খুব বেশী হাত-পা ছোঁড়া, অস্বাভাবিক অবস্থানে ঘুমানো, অস্বাভাবিক কোনে মাথা রাখা বা অনেকটা পেছনে হেলিয়ে রাখা।
  • অপেক্ষাকৃত বয়স্ক হওয়া সত্বেও মাঝে মাঝে বিছানা ভেজানো, অথবা সম্পূর্ণরূপে টয়লেট প্রশিক্ষিত হওয়া সত্বেও এবং ইদানীং না করলেও হঠাৎ আবার ঘন ঘন বিছানায় করে ফেলা শুরু করা।

আপনার সন্তানের মধ্যে দিনের বেলায় যে লক্ষণগুলি দেখলে আপনার সতর্ক হওয়া উচিত

  • খুব ঘুম ঘুম ভাব এবং ক্লান্ত থাকা।
  • সকালে জেগে উঠতে সক্ষম না হওয়া।
  • দিবাস্বপ্ন দেখা বা অনেকটা মনোযোগ হ্রাস পাওয়া,
  • সামাজিক আচরণ এবং লেখাপড়া সম্পর্কিত বিষয়ে সমস্যা হওয়া,
  • মেজাজ প্রচণ্ড বিক্ষিপ্ত হওয়া, খিটখিটে ভাব, চট করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া, মারমুখো হয়ে থাকা, অবাধ্য হওয়া (যে আচরণগুলি আগে ছিল না)।   
  • নাকি সুরে কথা বলা।

কি করবেন

প্রথম ধাপটি হচ্ছে আপনার সন্তানকে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং এটিকে একটুও হালকাভাবে না নেওয়া। অনেক বড় হাসপাতাল শিশু ঘুমের অ্যাপনীয়া সহ উপযুক্ত ঘুমের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করে। ডাক্তাররা পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন এবং আপনাকে তদনুযায়ী নির্দেশ দেবেন।