আপনার সন্তানের এই ৭ ধরনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না

আপনার সন্তানের এই ৭ ধরনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না

বাবা-মা হিসেবে আমাদের ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধ থাকা উচিত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার ব্যাপারে। এই খানে দেওয়া রইল ৭ ধরনের ছবি যা কখনই পোস্ট করা উচিত নয়।

এই পোস্টটা মনে আছে?

এক টা ছেলে আপনাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়, আপনি তাকে চেনেন না কিন্তু মুখ মিষ্টি দেখে অ্যাড করেন।

আপনার মেয়ের স্কুলের প্রথম দিন! তাকে খুব মিষ্টি দেখাচ্ছে, আপনি তার ছবি তুলে ফেসবুকে দেন। আপনি এতোই আনন্দিত যে তাকে সস্কুলে নামিয়ে, তার স্কুল থেকে “চেক ইন” করেন। আপনি লেখেন “বিশ্বাস হচ্ছে না সে এত বড় হয়ে গেছে – সময় বহিয়া যায় নদির স্রোতের প্রায়”।

সেই ছেলেটি যাকে আপনি অ্যাড করেছিলেন, সে ইতিমধ্যে আপনার মেয়ের ছবি তার ফোনে সেভ করে বহু লোক কে পাঠিয়ে দিয়েছে। “ফর্সা, বয়স ৫, বাদামি চুল, নীল চোখ, ডলার ২৫০০”। আপনি আপনার মেয়ের ছবি দিয়ে দিয়েছেন এক শিশু কারবারির হাথে, এবং সঙ্গে দিয়েছেন তার স্কুলের নাম ও ঠিকানা।

আপনি দুপুর ৩ তেই আপনার মেয়েকে স্কুল থেকে নিতে যান কিন্তু তাকে কথাও দেখা যায় না। আপনি জানেন না যে তাকে এক ৪৩ বছর বয়েসি পিডোফাইল কিনে নিয়েছে এবং সে এখন সাউথ আফ্রিকার রাস্তায়, মাথায় বস্তা বাঁধা এবং সে কাঁদছে কারন সে জানে না যে তার মা বাবা কোথায়।

ফেসবুকে আগুন্তুকদের অ্যাড করবেন না।

সেপ্টেম্বর ২০১৪য় এই পোস্টটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। এই লেখাটি, আরও নানা ফেসবুকের পোস্টের মত আমাদের সতর্ক করে “ইন্টারনেট প্রিদেটার” দের থেকে।

আমরা এমন দুনিয়ায় রয়েছি, যেখানে ছবি তুলে ইন্টারনেটে পোস্ট সবাই করে। আপনার বাচ্চার জন্মদিনের পার্টি বাঁ চিড়িয়াখানায় ঘুরতে যাওয়ার ছবি সবাই কে দেখানর মত, কিন্তু কিছু কিছু ছবি প্রাইভেট থাকা উচিত।

এই ৭ ধরনের ছবি কখনই ইন্টারনেটে পোস্ট করবেন না।

১। চান করার ছবি

আপনার সন্তানের চচানের মুহূর্ত আপনার জন্য সুন্দর এবং একে স্মৃতি বদ্ধ করতে আপনার মন চাইবে, কিন্তু এই ধরনের ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করা ঠিক নয়। পিডোফাইলরা এই সব ছবি শিশু পর্ণোগ্রাফির জন্য ব্যাবহার করে।

২। ব্যক্তিগত ব্যাপার পোস্ট করা

ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি কখনই পোস্ট করবেন না। স্কুলের নাম, বাড়ির ঠিকানা, আপনার বাচ্চার বয়স। এই সব তথ্য আপনার সন্তানকে বিপদে ফেলতে পারে।

৩। পটি ট্রেনিং ছবি

আপনার বাচ্চা কখন এবং কীভাবে বাথ্রুম যাওয়া শিখল সেটা আর কারুর না জানলেও চলবে। আপনি নিশ্চয় চান না আপনার সন্তান টার এই সব ছবি ভব্যিসতে দেখুক। মনে রাখবেন ইন্টারনেটে যাই পোস্ট করা হোক সেটা চির জীবন ওখানেই রয়ে যায়।

৪। লজ্জাকর ছবি পোস্ট করা

অনেক সময় আমরা এব=মন ছবি শেয়ার করে ফেলি যা হয়ত বাচ্চার জন্য লজ্জাকর। এই ধরনের অভ্যাস বাচ্চার জন্য দুঃখজনক। এটা সন্তান এবং মাতা-পিতার বিশ্বাসকে নষ্ট করে।

৫। গ্রুপ ফটো

যদি আপনার শিশু কোনও জন্মদিন বা বন্ধুর বাড়িতে যায় এবং আপনি সেই জমায়েতের ফটো পোস্ট করতে চান, তো অনান্য বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে তা করা উচিত।  

৬। অসুখ বা আঘাতের ছবি

সেই সময় কার ছবি পোস্ট করবেন না যখন সে অসুস্থ। মা-বাবা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আমাদের সন্তানকে সাবধানে রাখা, আপনি নিশ্চয় চাইবেন না কেউ আপনার সাথে সেলফি তুলুক আপনি যখন অসুস্থ। ঠিক তাই আপনার সন্তানকেও এও সময় আরাম করতে দিন।

৭। বিপজ্জনক পরিস্থিতির ছবি

আপনার সন্তানকে বেল্ট ছাড়া গারিতে বসান “মজাদার” হতে পারে, কিন্তু তা বিপজ্জনক। এই ধরনের ছবি পোস্ট করে আপনি বিপজ্জনক অভ্যাসকে তুল দিচ্ছেন। এবং নিশ্চয় আপনার সন্তানকেও বিপদে ফেলছেন। এই ধরনের ছবির জন্য অনান্য মা-বাবাকে আপনার সমালোচনা করার সুযোগ ও করে দিচ্ছেন।

Any views or opinions expressed in this article are personal and belong solely to the author; and do not represent those of theAsianparent or its clients.

Written by

theIndusparent