অসাধারণ! আমার সন্তানেরা আমাকে তরুণী রেখেছে: ভাগ্যশ্রী

"আমার সামনে দুটি পছন্দ ছিল, পরিবার বা কেরিয়ার এবং আমি ভালবাসাকেই

আমাদের সবারই মনে আছে ৯০ এর দশকের সুপারহিট ম্যাইনে প্যার কিয়ার (MPK) সেই লাজুক সুমনকে। কিন্তু খ্যাতির চূড়ায় বসে সেদিন সুমন ওরফে ভাগ্যশ্রী পারিবারিক জীবন এবং মাতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করার জন্য তাঁর উদীয়মান কেরিয়ার ছেড়ে দিয়েছিলেন।

আজ, সেই এমপিকের ২৭ বছর পর ভাগ্যশ্রী দেখতে সেই একই রকম আকর্ষণীয়া আছেন, প্রকৃতপক্ষে, যেন আগের চাইতেও বেশী মানানসই।  চমৎকার দুটি সন্তান,অভিমন্যু (২৭) ও অবন্তিকার (২২) প্রিয় জননী বলেন যে তাঁর সন্তানেরাই নিত্যনতুন প্রযুক্তিতে তাঁর পাশে পাশে থেকে আজও তাঁকে তরুণী থাকতে সাহায্য করেছে।

দ্যইন্ডাসপ্যারেন্ট এই সুন্দরী অভিনেত্রীকে মুখোমুখি পাকড়াও করে :

১।  ম্যাইনে প্যার কিয়ার পর ২৭ বছর কেটে গেছে।  কেমন লাগে?  আপনার কি কোনও অনুশোচনা হয়?

মনে হয় কালকের ঘটনা কারণ যে স্নেহ-ভালবাসা আমি পেয়েছি এবং এখনও পেয়ে চলেছি,তার তুলনা হয় না। মনে হয় যে এখনও মানুষের হৃদয়ে আমার স্থান আছে।

সিনেমাটি ওরকম প্রচন্ড হিট হবার পর নানা প্রস্তাবে যখন আমি প্রায় ধরাশায়ী এবং সবমহলের উত্তেজনা ও আনন্দদায়ক যে প্রতিক্রিয়া আমি পেয়েছি,তা সবার মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। যাইহোক, আমার সামনে দুটি পছন্দ ছিল,পরিবার বা কেরিয়ার এবং আমি ভালবাসাকেই বেছে নিই। আমি চাইনি যে আমার আর স্বামীর মাঝখানে কোনকিছু এসে একটা বিবাদের সৃষ্টি করুক।

আমার কাছে সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল ভালবাসার অঙ্গীকার। আর কোনও একটা সময়ে যদি আমার নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মনে প্রশ্ন জেগেছে,সেটাও আমার ছেলে অভিমন্যুর জন্মের সাথে সাথে মিলিয়ে গেছে, আমার পৃথিবী আমার কোলে এসে ধরা দিয়েছে।

আমার উভয় সন্তানের বড় হয়ে ওঠার সময়টা আমি সবচেয়ে আনন্দে কাটিয়েছি। প্রত্যেকটা মজার মুহূর্ত ভাগ কর নিয়েছি। আমি তাদের সব ক্লাসে গিয়েছি,ক্যারাটে,সাঁতার,নাচ,পিয়ানো্ শিক্ষায়, তাদের স্কুলে টিফিন নিয়ে গিয়েছি,পার্টি-প্ল্যানারদের সাহায্য ছাড়াই তাদের জন্মদিনের সর্বশ্রেষ্ঠ বিরাট পার্টির আয়োজন করেছি,সপ্তাহান্তের বিকেলগুলিতে তাদের সঙ্গে লুডো,দাবা আর চেকার্স খেলেছি,প্রতিটি উৎসব পালন করে আমাদের ঐতিহ্য তাদের শিখিয়েছি।

সব মায়েরা যা যা করে থাকেন,সে সবই আমি করেছি বরং আরও বেশী করে করেছি। তারা আমার সব। আজ যখন আমার সন্তানেরা আমাকে ধরে বলে,"মা,তুমি যা অর্জন করেছ এবং আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য তুমি যা ত্যাগ করেছ,তার জন্য আমরা গর্বিত,"তখন সেটা আমার জন্য সবচেয়ে দামী বলে মনে হয়।

২। আপনার ইনস্টাগ্রাম ছবিগুলিই প্রমাণ যে বয়স আপনার জন্য একটি সংখ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। কিভাবে আপনাকে দেখতে এত কমবয়সী এবং তাজা লাগে?

হ্যাঁ,কিন্তু বিনা পরিশ্রমে কিছুই সম্ভব নয়,বিশেষ করে ৩০ বছরের পর। কম খাওয়া কিন্তু সঠিক খাওয়া আর তার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপূর্ণ ব্যায়াম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বদা আমার সন্তানদের সঙ্গে ভাবে আদানপ্রদান আমাকে মনটাকে বুড়োতে দেয় না কারণ তারা আমাকে বাইরের পৃথিবীর যাবতীয় পরিবর্তন,তা সে প্রযুক্তিগত হোক বা ফ্যাশন সম্বন্ধীয় হোক বা জীবনের বৈচিত্র্য সম্বন্ধে হোক, সর্বদা ওয়াকিবহাল রাখে!!

৩। ইদানীং আপনার তন্বী চেহারা সংবাদে পরিণত হয়েছে। আপনি কি আমাদের মায়েদের জন্য কিছু ফিটনেস টিপস দেবেন?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গতিশীল থাকা,আমি শুধু খাবার সময় আর আমার ব্লগ ( লেখার সময় বসি,বাকী সময় নিরন্তর ঘুরে বেড়াই। আমার ব্লগে ভাল পুষ্টি এবং বাড়িতে করার মতো সাধারণ ব্যায়ামের প্রায় সবই রয়েছে। সবাই যাতে অনুসরণ করতে পারে সেজন্য আমি নিয়মিত ইনস্টা এবং ইউটিউবে ভিডিও পোষ্ট করি। আর যথাযথ পুষ্টির ব্যাপারে জানাতে আমি তাড়াতাড়ি একটি সাহায্য কেন্দ্র শুরু করব।

৪। আপনার ছেলে অভিমন্যু শীঘ্রই বলিউডে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।  অভিনেতা হিসাবে তার জন্য আপনার টিপস কি?

চলচ্চিত্র নির্মাণের সমস্ত দিক শেখার জন্য মনকে উন্মুক্ত রাখতে হবে,আর যত তুমি কারুশিল্প এবং কারিগরদের সম্পর্কে জানবে,এই যাত্রা তোমার জন্য আরো আনন্দদায়ক হবে।

৫। মাতৃত্ব আপনার ব্যক্তিসত্বায় কি পরিবর্তন এনেছে?  সন্তানদের মানুষ করার সময় যা শিখেছেন তার মধ্যে প্রধান তিনটি কি?

মাতৃত্ব আমার চোখে পুরো পৃথিবীটাই বদলে দিয়েছে,আমাকে এক আলাদা যাত্রাপথের পথিক করেছে। মা হয়ে আমি সর্বোচ্চ আনন্দ পেয়েছি। আমরা সন্তানদের কাছে আমাদের জীবনের প্রতিটী পর্যায়ে অনেককিছু শিখি,তারাই আমাদের মাটির কাছাকাছি এনে শেখায় যে জীবন মজা আর হাসিতে ভরা,একে অত গম্ভীরভাবে নেওয়া উচিত নয়। যদি আমরা সদা তরুণ থাকতে চাই তাহলে জীবন মানে বড় হওয়া,শেখা আর পরিবর্তিত হওয়া। সত্যি কথা বলতে কি তারা আমার পৃথিবী।

৬। সন্তান প্রতিপালন করা কঠিন কাজ।  নতুন মা,বিশেষ করে যাঁদের ছেলে হয়েছে,তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

তাদেরকে শেখাতে হবে লিঙ্গ সাম্য মানে নারীবাদী হওয়া নয়,এর মানে একজন ভাল মানুষ হওয়া। জীবনে প্রতিটি নারীকে মুল্য দিতে হবে। কম বয়সেই তাদের মধ্যে এই মূল্যবোধ সঞ্চারিত করা গুরুত্বপূর্ণ যাতে এই পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।